ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী ও রংপুরে ১৩ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুত বিল ১৫.৩০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার: নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৫.৩০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। যা ইউনিট প্রতি দাঁড়ায় ১ টাকা ৩ পয়সা। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ইউনিট প্রতি ৮৯ পয়সা হারে দাম বাড়ানোর পক্ষে মত নিয়েছেন।
সূত্র জানায়, নেসকোর গ্রাহক ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৩ জন। এসব গ্রাহকের মধ্যে ৮০ শতাংশ গ্রাহক কৃষিজীবী, সে কারণে পল্লী বিদ্যুতের মতো পাইকারি দামের কাঠামো হওয়া উচিত।
বর্তমান বিদ্যুতের পাইকারি দরের ভিত্তিতে এই প্রস্তাব করেছে নেসকো। নতুন করে পাইকারি দাম বৃদ্ধি হলে তার সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানোর আবেদন করেছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শহরাঞ্চলে বিদ্যুতের  বিতরণের দায়িত্বে থাকা এই কোম্পানিটি। গতকাল  বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) গণশুনানিতে এ প্রস্তাব  তুলে ধরেন নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম। গণশুনানি গ্রহণ করছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য মিজানুর রহমান, রহমান মুরশেদ, আবদুল আজিজ খান ও মাহমুদউল হক ভুইয়া। গণশুনানিতে ক্যাব, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
নেসকোর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পিডিবি ইতোমধ্যে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানিতে বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। পাইকারি দাম বাড়লে সমন্বয় করে দাম বাড়ানোর আবেদন করছি।
জাকিউল ইসলাম বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিতরণ এলাকার পৌরসভাগুলো ঠিকমতো বিল পরিশোধ করছেনা। অনেক পৌরসভার কাছে ৯ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়ে রয়েছে। এতে ২২১ কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে নেসকো।
এদিকে শেষ হলো বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আবেদনের উপর গণশুনানি। শুনানি শেষে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম।
এবারের প্রস্তাবে সবক’টি বিতরণ কোম্পানি বিদ্যুতের দামের সঙ্গে ডিমান্ড ও সার্ভিস চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এতে লাইফ লাইন গ্রাহকের(কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকের) বিদ্যুতের বিলের বাইরেও বাড়তি আরো চল্লিশ  টাকা পর্যন্ত গুণতে হতে পারে।
বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের একক এখতিয়ার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বিইআরসির। নিয়ম হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা কোম্পানি তাদের প্রস্তাব জমা দেবে এবং কমিশনে তাদের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবে। কমিশন আয়-ব্যয় যাচাই করে কমিশনের বৈঠকে তা তুলবে। কমিশন অনুমোদন দিলে গণশুনানিতে এ বিষয়ে সকল পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনা হবে। এরপর ‘নো প্রফিট, নো লস’ পদ্ধতিতে দর নির্ধারণ কো হবে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উপর গণশুনানি। প্রথম দিনে বিদ্যুৎ  উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর শুনানি করা হয়। পিডিবি পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৮৭ পয়সা (ইউনিট) হারে বাড়াতে চায়। অন্যদিকে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ইউনিট প্রতি ৫৭ পয়সা হারে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
পিডিবি হচ্ছে বিদ্যুতের একক বিক্রেতা। উৎপাদন যারাই করুক তারা তা পিডিবির কাছে বিক্রি করে থাকে। আর পিডিবি তা বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন-ব্যয় ইউনিট প্রতি ৫ দশমিক ৭২ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বর্তমানে ইউনিট প্রতি ৪ দশমিক ৮৭ টাকা হারে বিক্রি করা হচ্ছে।  প্রতি ইউনিটে লোকসান হচ্ছে ৮৭ পয়সা। এ কারণেই পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ