ঢাকা, শুক্রবার 6 October 2017, ২১ আশ্বিন ১৪২8, ১৫ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘বিশ্ব ব্যাংকের  চেয়ে  ভারতের  দেওয়া ঋণ  শর্ত অনেক কঠিন’

 

সংগ্রাম  ডেস্ক : ভারত  যে শর্ত বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে, তাতে অনেক কঠিন শর্ত রয়েছে। শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত প্রকল্পের জন্য ভারত থেকে মালপত্র আনতে হবে। ঠিকাদারির কাজ তাদেরকে দিতে হবে। অর্থাৎ আগামীতে এসব প্রকল্পে চীন বা অন্যকোন দেশকে কাজ দেয়া যাবে না। বিশ্ব ব্যাংকের নিয়মে ভারত থেকে ঋণ পাওয়া গেলে আমাদের জন্য ভালো হতো। আর তাছাড়া ভারতের এই ঋণ আমরা ব্যবহার করতে বাধ্য নই। এর চেয়ে ভালো চুক্তিতে ঋণ পাই তবে আমরা বিশ্ব ব্যাংক থেকে নিবো। ভারত থেকে নিবো না। টিভিএনএ’কে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন, অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালিদ। আমাদের সময়.কম

তিনি বলেন, তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আরও সাড়ে চারশ কোটি ডলার (প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা) ঋণ নিতে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এ অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ, রেলপথ, সড়ক, জাহাজ চলাচল, বন্দরসহ অবকাঠামো খাতে ১৭ অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এর আগেও দুইটি চুক্তি হয়েছিলো সেগুলো ছিলো কম টাকার। সেটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার হয়নি। তারা দেয়নি বা আমরা নিতে পারিনি। যদিও এ ঋণটি বড় সেই ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহার করতে পারবো কিনা এখন তা বলা যাবে না। তবে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আমাদের রয়েছে। যখন একই দেশ থেকে আমদানি করতে হয় তখন আমদানিতে প্রতিযোগিতা হয় না। যার কারণে এর মান, দাম নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

এসব কারণেই বাংলাদেশ সাফলাই ঋণগুলোর মধ্যে যায় না। আমরা বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ বাদ দিচ্ছি না। শুধু ভারত নয় যে দেশের সাথেই আমরা ঋণ চুক্তি করি না কেন। তারা তাদের শর্ত আমাদের উপর চাপিয়ে দিবেই। সেই জন্য ভারত আমাদের উপর শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে এমন ভাবা ভুল হবে। আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি করব। ভারতের চেয়ে যদি আমারা সহজ শর্তে অন্য কোথাও থেকে ঋণ পাই, তাহলে আমাদের সেখান থেকে ঋণ উচিত।

চুক্তি অনুযায়ী, নতুন এলওসির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যত ধরনের পণ্য, সেবা, যন্ত্রপাতি কিংবা উপকরণের প্রয়োজন হয়, তার মোট মূল্যের ৭৫ শতাংশই ভারত থেকে সংগ্রহ করতে হবে। বাকি ২৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা বাংলাদেশ থেকে নেওয়া যাবে। এ ছাড়া ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে সব সংবিধিবদ্ধ বা বিধির অনুমোদন নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ