ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেল আইক্যান

 

বিবিসি : শান্তিতে এ বছরের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধে কাজ করছে এমন একটি সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপন্স বা আইক্যান-এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

নরওয়েতে নোবেল কমিটি বলছে, পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং এই অস্ত্রকে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টার জন্যে এই সংস্থাটিকে এবার শান্তি পুরস্কার দেওয়া হলো।

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয় হিসেবে আইক্যানের নাম এমন এক সময়ে ঘোষণা করা হলো যখন পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তরফে পরস্পরকে আক্রমণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নোবেল কমিটি থেকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি বর্তমানে গত বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বেরিট রেইট এন্ডার্সন এসময় উত্তর কোরিয়ার কথাও প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে চুক্তির ব্যাপারে সংস্থাটি বড়ো রকমের অগ্রগতি সাধন করেছে।

পরমাণু অস্ত্রকে পর্যায়ক্রমে নির্মূল করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করার জন্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিও তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

এবছরেরই জুলাই মাসে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘে ১২২টি দেশ এক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

কিন্তু পরমাণু শক্তিধর ৯টি দেশ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ, এই প্রস্তাবে সই করেনি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু এবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপন্স নিজেদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বেসরকারি সংস্থার একটি জোট বলে বর্ণনা করে।

দশ বছরেরও বেশি পুরনো জেনেভা ভিত্তিক এই সংস্থাটি বলছে, একশটিরও বেশি দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এই জোটের সদস্য।

পুরস্কার হিসেবে আইক্যান পাবে ১১ লাখ ডলার ও একটি নোবেল পদক। আগামী ডিসেম্বর মাসে এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

এর আগেও পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে আরো একটি গ্রুপ।

পাগওয়াশ গ্রুপ নামের একটি সংগঠনটিকে ১৯৯৫ সালে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

নোবেল বিজয়ীর পদকে কতো ক্যারেটের স্বর্ণ ?

জীবদ্দশায় ৩৫৫টি উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়েছিলেন আলফ্রেড নোবেল। সুইডিশ এ বিজ্ঞানীর বড় ভাই লুডভিগ ১৮৮৮ সালে ফ্রান্সে বেড়াতে গিয়ে মারা যান। কিন্তু ফরাসি এক দৈনিক ভুল করে আলফ্রেড নোবেল মারা গেছেন ভেবে নিয়ে শিরোনাম করে, ‘মৃত্যুর সওদাগর মারা গেছেন’। যেহেতু নোবেলের অধিকাংশ আবিষ্কারই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র, তাই এমন শিরোনাম। নোবেল তখনই বুঝতে পেরেছিলেন, মৃত্যুর পর ইতিহাস তাঁকে কীভাবে মনে রাখবে। আমাদের সময়.কম

আর তাই জীবদ্দশায় করে যাওয়া অনেকগুলো উইলের মধ্যে শেষ উইলে নোবেল উল্লেখ করেন যে তাঁর সব সম্পদ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে, যাঁরা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে মানবতার স্বার্থে কাজ করবেন। এ জন্য নোবেল তাঁর মোট সম্পদের ৯৪ শতাংশ উইল করে যান, যা এখন নোবেল পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত। ১৯০১ সালে পুরস্কারটি চালু হওয়ার পর থেকে গত বছর পর্যন্ত ২৩টি প্রতিষ্ঠান ও ৮৮১ জন্য ব্যক্তি জিতেছেন ভীষণ সম্মানজনক এ পুরস্কার।

 নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের বলা হয় ‘ নোবেল লরিয়েট’। ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত নোবেল বিজয়ীরা যে পদক পেতেন, সেটা ছিল ২৩ ক্যারেট স্বর্ণের।

এরপর থেকে ১৮ ক্যারেট ‘সবুজ স্বর্ণে’র ধাতবের ওপর ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া পদক দেওয়া হচ্ছে নোবেল বিজয়ীদের। এ ছাড়া একটি সনদ এবং মোটা অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয় সভ্যতার অগ্রযাত্রায় নানাভাবে অবদান রাখা মহানায়কদের। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, নোবেলজয়ীরা ঠিক কত টাকা পুরস্কার পান?

গত বছর নোবেল বিজয়ীদের নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা প্রায় আট কোটি টাকা। নোবেল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বছর নগদ অর্থের পরিমাণ হবে ১১ লাখ ডলার, মানে ৯ কোটি টাকার কিছু বেশি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সুইডেনের স্টকহোমে নগদ অর্থপুরস্কার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় নোবেল ফাউন্ডেশন।

টাকার চেয়ে সম্মান অবশ্যই বড়। কিন্তু নোবেল এমনই এক পুরস্কার, যেখানে টাকার অঙ্কটাও হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। যদিও অনেক নোবেল বিজয়ী তাঁদের পুরস্কার জয়ের টাকা দাতব্যকাজে দান করে দেন। সূত্র: সিএনএন ও প্রথম আলো থেকে নেয়া

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ