ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রধান বিচারপতিকে বেহাল অবস্থা করে সরকার বিচার বিভাগের ভাবমর্যাদা নস্যাৎ করে দিয়েছে

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট আয়োজিত চলমান সঙ্কটের সমাধান কোন পথে শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে থাকা প্র্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বেহাল অবস্থা করে দিয়ে সরকার বিচার বিভাগের ভাবমর্যাদা নস্যাৎ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের সাথে আজকে বর্তমান সরকারের একটি পরীক্ষা চলছে। আশা করেছিলাম ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক সহযোগিতা করবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হলো না। এত বন্ধুত্ব এবং এত বিনিয়োগ, কিন্তু এবিষয়ে বাংলাদেশের পাশে ভারত নেই।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট আয়োজিত 'চলমান সঙ্কটের সমাধান কোন পথে' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ন্যায় বিচারের প্রতীক, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির যে বেহাল অবস্থা বর্তমান সরকার করেছে, তার ফলে সর্বোচ্চ আদালতের তথা বিচার বিভাগের সম্মান-মর্যাদা নস্যাৎ হয়েছে। 

তিনি বলেন, আজকে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নালিশের অন্যতম কারণ হচ্ছে, তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একজনের জন্য হয় নাই, সকলের জন্য হয়েছে। এটা কী তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন? এই কথাটা বলাতেই সরকারের এতো বিদ্বেষ ও ক্ষোভ তার বিরুদ্ধে।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সরকারের ক্ষোভের প্রসঙ্গে টেনে মওদুদ আরও বলেন, গুটি কয়েক মানুষ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সবাই ত্যাগ স্বীকার করেছেন; দেশের সকল শ্রেণির মানুষ- এই শ্রমিক বলেন, কৃষক বলেন, ছাত্র বলেন- সবাই ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ জন্যই এত বিদ্বেষ, এত ক্ষোভ। আজকে এই যে সংকট, গণতন্ত্র দেশে নেই, এর পরিবর্তে যদি দেখতাম রাজনীতি আছে, গণতন্ত্র আছে। কেন আমরা এই ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধ করলাম, কেন করেছি? একটা বিরাট আশা নিয়ে করেছিলাম যে দেশ প্রাণচাঞ্চল্য থাকবে, মৌলিক অধিকার থাকবে, কার্যকর একটা সংসদ থাকবে।

বিবৃতি ও বক্তব্যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে এমনটা দাবি করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন,আসলে গণতন্ত্র নেই। সরকারের এই দুর্বলতার কারণেই আজও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ চলছে। কারণ সরকার কূটনৈতিকভাবে চরম ব্যর্থতা পরিচয় দিয়েছে।

ভারতের সাথে আজকে বর্তমান সরকারের একটি পরীক্ষা চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আশা করেছিলাম ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক সহযোগিতা করবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হলো না। এতো বন্ধুত্ব এবং এতো বিনিয়োগ, কিন্তু এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে ভারত নেই।

 রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, রোহিঙ্গারা স্থায়ী হলে আমাদের অর্থনীতির ওপর চাপ পড়বে, সামাজিকভাবে নানান নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আমাদের মনের মধ্যে রয়ে যাবে। এছাড়া উগ্রবাদীরা এই সুযোগ নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজেদের কাজে লাগানোর ষড়যন্ত্র করবে। আর এটা করা স্বাভাবিক এবং তারা করবেই। আর তখন এটার বহু ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশে হবে।

 রোহিঙ্গা ইস্যু জাতীয় সঙ্কট মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা কোনো দলীয় সঙ্কট নয়। এটাকে সহজভাবে নেওয়াটা ঠিক হবে না। আজকে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, এই সংখ্যা আরো বাড়তে থাকবে। সুতরাং তাদের দেখাশোনা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে। এর সাথে সাথে তাদের আসা এবং অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

যারা এসেছে, তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি করে কোনো লাভ হবে না মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, জাতিসংঘকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে তাদের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।

এবিষয়ে দেশের সুশীল সমাজ, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান তিনি। 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাত উল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, নিপুন রায় চৌধুরী, মিরপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দুলু প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ