ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাসীদের হামলায় সুদীপ্ত নিহত

চট্টগ্রাম অফিস- চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে দুর্বৃত্তরা গতকাল শুক্রবার সকালে পিটিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস সদরঘাট থানার ৭১৫/দক্ষিণ নালাপাড়ার বাবুল বিশ্বাসের পুত্র। সে সরকারি সিটি কলেজ থেকে সদ্য মাস্টার্স পাস করে বের হয়েছিল। সে মহানগর ছাত্রলীগের পাশাপাশি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলো ।

সুদীপ্ত বিশ্বাসের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সুদীপ্তকে কয়েকজন যুবক বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 হাসপাতালে সুদীপ্তের মা বলেন, সকালে সে ঘুমাচ্ছিল। সাড়ে ৭টার দিকে বেশ কয়েকজন যুবক সুদীপ্তকে ডেকে দিতে পাশের বাসার এক নারীকে বলে। পরে তাকে ঘরের বাইরে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। গুরুতর আহতাবস্থায় সুদীপ্তকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। 

 কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ আফতাব উদ্দিন বলেন, সকাল ১০টার দিকে তাকে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত দেখেছি। পায়ের দিকেও ছোট কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

স্কুল শিক্ষক সুদীপ্তের বাবা বাবুল বিশ্বাস বলেন, তাকে রাজনীতি না করার জন্য অনেকবার বলেছি। সে কারও কথা শোনেনি। রাজনীতিই তার ছেলের জন্য কাল হল বলে মনে করেন তিনি। 

সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আকতার সাংবাদিকদের জানান, সকাল সোয়া ৭টার দিকে দুটি ছেলে এসে সুদীপ্তকে বাসা থেকে ডেকে বের করে নিয়ে যায়। একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি গ্রুপিং রাজনীতির কোন্দলের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি আমরা খতিয়ে দেখছি কারা জড়িত ছিল। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সুদীপ্তর ফেসবুক পোস্টে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে বিভেদের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে সিটি কলেজ ছাত্রসংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সুদীপ্ত ছিলেন সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য। নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক নেতাদের প্রতি কটাক্ষ করছিলেন তিনি। এর জেরে এই হত্যাকান্ড কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ছাত্রলীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের সময় সুদীপ্ত বিশ্বাস যারা পদ পায়নি তাদের গ্রুপে অর্থাৎ বিদ্রোহী গ্রুপে ছিলেন। তারা নতুন কমিটির বিরোধিতা করেছিলেন। পরে সুদীপ্তকে কমিটিতে সহ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমুর অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করে আসছিলেন। ইমু চট্টগ্রামের রাজনীতিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিকালে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ করে এবং যানবাহন ভাংগচুর সহ অগ্নিসংযোগ করে।পরে পুলিশ এসে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়নত্রন করে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়,ছ্ত্রালীগ নেতা সুদীপ্ত হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বিকালে ছ্ত্রালীগের শখানেক নেতাকর্মী নিউমার্কেট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।এ সময় ছাএলীগ কর্মীরা এলোপাথারী যানবাহন ভাংগচুর শুরু করে। এ সময় আধঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতংক দেখা দেয় নিউমার্কেট এলাকায়।এসময় তারা দুটি বাস ও কয়েকটি অটোরিকশা সহ বেশ কিছু যানবাহন ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে তারা সিটি সাভির্সের দুটি বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়।পুলিশ খবর পেয়ে তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করলে তারা পুলিশের সাথে খারাপ আচরন করে এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়নএনে আনে। তারা সিটি কলেজের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে।ফায়ার সাভির্স কর্মীরা এসে বাস গুলোর আগুন নেভায়।বিপুল সংখ্যক পুলিশ বর্তমানে সেখানে মোতায়েন আছে।এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। 

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কোতয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নগরীর নালাপাড়া এলাকার এক ছাত্রলীগ নেতা মারা গেছে। ওই ঘটনায় সিটি কলেজের বিক্ষুব্ধ এক দল ছাত্র যানবাহন ভাংচুর ও আগুন দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ