ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বকেয়া পাওনার দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল খালিশপুর শিল্পাঞ্চল

খুলনা অফিস : সরকারি দু’টি পাটকলের শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চল। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বিকেলে খালিশপুুরে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার থেকে আবারো কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানিয়েছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এদিকে প্লাটিনাম ও ক্রিসেন্ট জুট মিল দু’টির প্রায় ১০ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক মজুরি না পেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে সাত সপ্তাহের বকেয়া মজুরির দাবিতে বুধবার থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে প্লাটিনাম জুটমিলের শ্রমিকরা।

আর বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিন গত পরশু বৃহস্পতিবার এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছে ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। এই আন্দোলনের কারণে মিল দু’টির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ায় মিল এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মিল এলাকায় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে প্রথম দিন মিলের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ সীমাবদ্ধ থাকলেও দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা রাজপথে অবস্থান নেয়। সকাল থেকে দফায় দফায় মিছিল করে তারা। একই সঙ্গে মিলের সামনে বিআইডিসি সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্লাটিনাম এবং ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা একত্রে মিলিত হয়ে প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

মিছিলটি প্লাটিনাম মিলের সামনে থেকে শুরু হয়ে খালিশপুর ফায়ার সার্ভিস, মানসি বিল্ডিং মোড়, পিপলস্ গোলচত্বর হয়ে ফের মিলের সামনে এসে শেষ হয়।

শ্রমিকরা জানায়, তাদের সাত সপ্তাহের মজুির বকেয়া পড়েছে। নিয়মিত মজুরি না পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার থেকে প্লাটিনাম ও বৃহস্পতিবার ক্রিসেন্ট মিলে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। তারা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বকেয়া মজুরির কারণে তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সে কারণে এই বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। তবে অজ্ঞাত কারণে এই আন্দোলনে দেখা মিলছে না শ্রমিক নেতাদের। অর্থকষ্টে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শ্রমিকরা।

শ্রমিক আব্দুর রহমান, মিজানুর রহমান, আবুল কালাম ও হানিফ বলেন, একে একে সাত সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে। অথচ বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন মজুরি পরিশোধের কোন আলামত দেখা যায়নি। হাতে টাকা নেই, ঘরে বাজার নেই। ছেলে-মেয়েরা মুখের দিকে চেয়ে আছে। আর সপ্তাহের শেষ দিনেও যদি খালি হাতে ফিরতে হয় তাহলে তাদের কি জবাব দিব। ফলে বাধ্য হয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা বলেন, শ্রমিকরা ক্ষুধার্ত। তারা দায়-দেনায় জর্জরিত। এখন আর কেউ তাদের বাকীতে বাজার সদাই দিতে চায় না। ফলে বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নেমেছে। আর তাদের এই আন্দোলন শ্রমিক নেতারা শতভাগ সমর্থন করে। তবে শ্রমিক নেতারা একটু কিছু করলেই তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন জানান, ‘শ্রমিকদের অবস্থা ভাল নয়, সাত সপ্তাহের মজুরি না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মজুরি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা। তাই তারা বাধ্য হয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে যোগদান করবে না।

প্লাটিনাম জুট মিলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফ্ফার জানান, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে গত বুধবার সিবিএ নেতাদের সাথে মিল কর্তৃপক্ষ ও বিজেএমসি জোনাল কর্মকর্তার দু’দফা বৈঠক হয়েছে। তবে কোন সমাধান হয়নি।

বৈঠকে মিল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারের পূর্বে মজুরি প্রদান করা এখন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন। অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে সেটি প্রদান করা হবে। বৈঠক শেষে সিদ্ধান্তের বিষয়টি রাতেই সমাবেশের মাধ্যমে শ্রমিকদের জানানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে শ্রমিকরা আরো বেশি ক্ষিপ্ত। এ জন্য বৃহস্পতিবার রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছে। মিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে যোগদান করবে না বলে জানিয়েছে।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের উপ-মহাব্যবস্থাপক আহমেদ হোসেন জানান, মিলে মজুদ পণ্য বিক্রি না হওয়া ও ছুটির ফাঁদে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-মজুরি বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের ৬ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে।

প্রতি সপ্তাহে শ্রমিকদের মজুরি দেড় কোটি টাকা ও দুই মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় এক কোটি টাকা। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে। প্লাটিনাম জুট মিলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শাহজামাল জানান, আর্থিক সংকটের কারনে পাওনা পরিশোধে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ