ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৬০ কোটি টাকায় খুলনায় দেশের প্রথম মাল্টিমিডিয়া স্কুল প্রতিষ্ঠা!

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ডিজিটাল সুবিধা সম্বলিত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় মহানগরীতে তিনটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাছ চলছে। প্রতিটি স্কুল পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মাণ করতে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে স্কুলগুলো নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উন্নত পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম মহানগরে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ডিজিটাল সুবিধা সম্বলিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যা দেশের অন্য কোথাও শুরু করা হয়নি। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এই স্কুলগুলো। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন করে স্কুলের জন্য মহানগরীতে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়। প্রতিটি স্কুলের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে দেড় একর। জমি অধিগ্রহণ করতে দেরি হওয়ায় প্রকল্প অর্থবছরের থেকে কার্যক্রম দুই বছর বিলম্ব হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনটি স্কুলেরই নির্মাণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রী একই সাথে অধ্যয়ন করতে পারবে। স্কুল তিনটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে মহানগরীর কেডিএ শিরোমণি, লবণচরা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিমুখে বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষ্ণনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্কুলগুলোর জন্য নির্মিত ভবনে থাকবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা। যেখানে তারা অধ্যয়ন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। স্কুলগুলো চালু হলে প্রতিটি স্কুলে ৩ হাজার শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণের সুযোগ পাবে। প্রতিটি স্কুলের জন্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। যা পর্যায়ক্রমে স্কুল ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে। স্কুলগুলোর শ্রেণিকক্ষ থাকবে মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের যাবতীয় পাঠ শিখতে পারবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বটিয়াঘাটা উপজেলায় কৃষ্ণনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, ঢাকার ঢালী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নতুন স্কুলটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়োজিত শ্রমিকরা নতুন নির্মাণাধীন স্কুলটিতে কাজ করছেন। সেখানে মাটির নিচে পাইলিং শেষ হয়ে গেছে। মাটির ওপরের স্থাপনা নির্মাণের তোড়জোর চলছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খুলনার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, স্কুল নির্মাণের কাজটি যথাসময়ে শেষ হবে না। কেননা স্কুলটির নকশায় পরিবর্তন ও মাটি পরীক্ষায় বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে কাজ শেষ করার জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্কুলটির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন বলেন, স্কুলের নকশা পরিবর্তনের কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তারপরও প্রকল্পের পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে বলে তিনি আশা করেন।

খুলনা জোনের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ স্কুল সর্বপ্রথম খুলনা মহানগরীতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। স্কুলের ভবনগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতির পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রতিবন্ধী বান্ধব পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ ধরনের প্রকল্প। তবে জমি অধিগ্রহণে দেরি হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করেন এ কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ