ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিচার বিভাগের মেরুদণ্ডের ওপর আঘাত করা হয়েছে -রিজভী

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির উদ্যোগে দলের মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমার অযোগ্য গুন্ডামি রাষ্ট্রের স্বাধীন অঙ্গের ওপর চলছে। বিচার বিভাগের  মেরুদণ্ডের ওপর আঘাত করা হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাও আজ ক্ষোভ ও ক্রোধের শিকার।
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ২০দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানকে অপহরণের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে রিজভী বলেন, একাত্তরের চেতনা কি এই ছিল? আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বললেই গুম হবে? মুক্ত বক্তা ও দৃঢ়চেতা মানুষকে সরকার পছন্দ করে না। প্রধানমন্ত্রীকে সুপ্রিম জাস্টিস আখ্যায়িত করে বলেন, কার বিচার বা শাস্তি হবে, তার রায় লেখা হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
রিজভী বলেন, যিনি হলেন বিচার বিভাগের প্রধান, একটি স্বাধীন সংস্থার প্রধান, তিনি একটি ইনস্টিটিউট। তার যে হাল বর্তমান সরকার করেছেন এর মধ্যে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগের ওপর আঘাত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর্যবেক্ষণে সরকার বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাই বিরোধী দলের যেমন কথা বললে বেঁচে থাকার অধিকার নেই, গুম-খুন হত্যা হতে হয়, তেমনিভাবে সুপ্রিম কোর্টের কোনো পর্যবেক্ষণ যদি সরকারের বিপক্ষে যায় তাহলে একই অবস্থার মধ্যে পড়তে হবে।
প্রধান বিচারপতি সরকারের ক্রোধ ও ক্ষোভের শিকার দাবি করে রিজভী আহমেদ বলেন, এই ক্ষোভের কারণ হচ্ছে, তিনি ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর্যবেক্ষণে কেন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেন? এখন যেটি হলো জনগণের সর্বশেষ আশ্রয়টি শেষ হয়ে গেল।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গেলেন, পূজা করলেন। তাহলে আমরা কী বলবো? একদিকে আইনমন্ত্রী বলছেন, তিনি ছুটি নিয়েছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেছেন, এতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাহলে কোনটা ঠিক? ঠিক এটাই যে, প্রধান বিচারপতি সরকারের টার্গেট।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে ধমক দিচ্ছেন, কারা ধমক দিচ্ছেন? তারা কারা, কোন সংস্থার লোক, কোন সংস্থার কর্মকর্তা তা জনগণ জানে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আপনারা কি করছেন না করছেন তাও জনগণ জানতে পারছে। সুপ্রিম কোর্টে কয়েকদিন ধরে কি চললো? যে দেশে ন্যুনতম ভদ্রতা আছে, সেখানে কি এগুলো চলে? মনে রাখবেন, আপনারা কেউ জনগণের বিচার থেকে মুক্তি পাবেন না।
 মানববন্ধনে অংশ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতির আজ বড় দুঃসময় চলছে। আজ স্বয়ং প্রধান বিচারপতি সরকারের দুঃশাসনের শিকার হলো। একটি রায় সরকারের বিরুদ্ধে গেলো বলে আজ প্রধান বিচারপতিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। এই দু:শাসনকে সমর্থন দিলে একদিন ঠিক একই মূল্য দিতে হবে বাকি বিচারপতিদেরও।
জাফর উল্লাহ বলেন, দেশের এই দু:সময় শুরু হয় কয়েক বছর আগে থেকে। দেশে গুম-খুন অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি চুপ করে বসেছিলেন। তিনি কোন দিন ভাবতে পারেনি যেই অন্যায় বিরোধী দলের উপরে হচ্ছে, এই অন্যয়ের খর্গ তার ওপর এক দিন পড়বে।
ডা. জাফরুল্লাহ আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন। কিন্তু নোবেল কমিটি যখন দেশে গুম খুনের তালিকা দেখলো তখন মনে হচ্ছে তা আর পাওয়া হলো না! আমরা মর্মাহত!
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, দেশে এসে গুম হওয়া মানুষগুলোকে জনসম্মুখে আনুন। মানুষের শান্তি ফিরিয়ে আনুন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, রাজনৈতিক সরকারকে মনে রাখতে হবে তারা চির জীবনের জন্য আসেনি। আমলনামা সবাইকেই দিতে হবে। তিনি গুম ও অপহরণ হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ