ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে মদের বারে

সংগ্রাম ডেস্ক : রাজধানীর মদের বারগুলোতে নজরদারি নেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। টহলে এসে কিছু নগদ টাকা আয়ের জন্যই চলে এ মহড়া। আর এ সুযোগে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিড় জমাচ্ছে এসব বারে। গত কয়েক সপ্তাহ রাজধানীর বেশকটি বার সরেজমিনে ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আমাদের সময়.কম।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানার ডান পাশে সালামার বারে একাধিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। নিরাপত্তা রক্ষীরা তাদের স্যালুট করেই ভেতরে প্রবেশে অনুমতি দেন। ওই বারে আসা অনেকে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের এমন অবাধে প্রবেশ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, মদের বারে সাধারণত পারমিট নিয়ে প্রবেশ করতে হয়। বার কর্তৃপক্ষ বাড়তি আয়ের জন্য অনেক সময় পারমিটের বিষয়ে চাপ দেন না। আর এ সুযোগে অনেকে অবাধে প্রবেশ করেন। কিন্তু প্রাপ্তবয়ষ্ক ছাড়া তাদের কিভাবে বারে প্রবেশে অনুমতি দেয়া হয় তা নিয়ে হত্যাশা প্রকাশ করেন অনেকে। শুধু তাই নয় বারে মদ পানের পর নিজেদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই বাকবিতন্ডা এমনকি সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ে। গত রমজান মাসে ওই বারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে একাধিক কিশোরকে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ জানা গেছে।
এদিকে থানার বাম পাশে রেডবাটন বারেও একই চিত্র লক্ষ করা গেছে। তবে ভেতরে একটি পোস্টার লাগানো রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, ‘স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বারে প্রবেশ নিষিদ্ধ’। কিন্তু বাস্তবচিত্র উল্টো। ভেতরে প্রায় সবকটি কক্ষেই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মদ পান করতে দেখা যায়। এ অবস্থা এ দুই বারে দীর্ঘদিনের বলে একাধিক মদ্যপায়ী এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
অপরদিকে শেওড়াপাড়ায় শিউল নামের সদ্য তৈরি একটি বারে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণদের দখলে থাকে। প্রাপ্তবয়ষ্করা ওই বারে যেতে ভয় পান। কারণ হিসেবে জানা গেছে, মিরপুর এলাকার উঠতি বয়সী সন্ত্রাসীরাই বেশি ওই বারে আড্ডা দিয়ে থাকে। বার কর্তৃপক্ষ আয়ের জন্য কাউকেই বারে প্রবেশে নিষেধ করে না।
একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে কলাবাগান এলাকার গ্যালাক্সি, ৩২ নম্বর মোড়ে এ্যারাম, শাগবাগের পিকক, মগবাজার মোড়ের পিয়াসী, বনানীর ব্লু মুন, গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া এলাকার পূর্বাশা বারে। এসব বারে ছোট বড়ো কোন বিষয় নেই। টাকা হলেই যে কেউ এসব বারে গিয়ে মদ পান করতে পারে।
এ বিষয়ে একাধিক বারের ম্যানেজার জানান, নজরদারি করবে প্রশাসন তারা শুধু বিক্রি করে থাকেন। প্রাপ্তবয়ষ্ক অনেক লোক রয়েছেন যারা অনেক সময় তাদের থেকে কম বয়সী যুবক ও তরুণদের নিয়ে বারে আসেন। তখন ওই লোকের কারণে তরুণদের কিছু বলা যায় না। আবার বারের আশপাশের কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দিলে বিক্রি বন্ধসহ নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। এসব কারণে তেমন একটা বাধা দেয়া হয় না অপ্রাপ্তবয়ষ্কদের।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি সপ্তাহেই ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের সকল পরিদর্শক পালা করে নিজ এলাকার বার পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে মদ পানকারীদের পারমিট আছে কি না তা জানতে চান। যাদের পারমিট থাকে না তাদের বের করে দেয়া হয় বার থেকে। যাদের পারমিটের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে তাদের নতুন করে পারমিট নেওয়ার জন্য বলা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ