ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাঁচা মরিচের কেজি ২৬০ টাকা

মিয়া হোসেন: শুধু মরিচ দিয়েও এক মুঠো ভাত খাওয়া যাবে না? অল্প আয়ের মানুষের মাঝে এখন এ প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশের মানুষ যেন ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ অবস্থায় পড়েছে। মরিচ দিয়েও এক মুঠো ভাত খাওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া চালের দাম নিয়ে চরম অস্বস্থিতে রয়েছে দেশের মানুষ। এ অস্বস্তি না কাটতেই এবার ক্রমাগত হারে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। ১২০ টাকার কাঁচা মরিচের দাম এক লাফে ১৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর সবজির বাজার তো আগেই বৃদ্ধি পেয়ে আছে। তারপরও বেশকিছু সবজির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের রাখতে সরকারের পদক্ষেপে কোন সফলতা পাচ্ছে না ভোক্তারা। তাই অতিদ্রুত বিশেষ পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ভোক্তারা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ কেজিতে ১৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা দরে। এছাড়া সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাত দিলেও বাড়তি দামের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়ছে ক্রেতারা।
গতকাল শুক্রবার বাজারে কালোবেগুন ২০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা; সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। এছাড়া শিম ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা; শশা ৭০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৭০ টাকা; পটল ৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৭০ টাকা; ঝিঙ্গা ৭০ টাকা; চিচিঙ্গা ৭০ টাকা; করলা ৬৫ টাকা; কাকরোল ৫৫ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৬০-৬৫ টাকা; আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা; বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতাদের কাছে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, পাইকারি থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ক্ষেত থেকে কাঁচা মরিচ তুলতে অসুবিধা হয়। যে কারণে মরিচের সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়ে গেছে।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাবিব বলেন, বাসায় ফ্রিজ আছে; তাই ভেবেছিলাম পুরো সপ্তাহের জন্য ১ কেজি কাঁচা মরিচ নিয়ে যাবো। এখন দেখি গত সপ্তাহের আড়াই কেজি মরিচের যে দাম ছিল; এখন ১ কেজি কাঁচা মরিচের সেই দাম। তাই ৫০০ গ্রাম কিনেছি।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে চালের দাম আকাশচুম্বি; এখন আবার কাঁচা মরিচের দাম। এক কথায় সবকিছুরই দাম ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু আমাদের তো আয়ের মাত্রা নির্দিষ্ট; দাম বাড়লে আমাদের তো আর আয় বাড়ে না। তাই এভাবে যদি সবকিছুর দাম বাড়তে থাকে তাহলে কিভাবে সম্ভব!
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি, পবিত্র আশুরা ও শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে টানা বন্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় যে পরিমাণ কাঁচা মরিচ এসেছে তা প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় বেশ কম। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে গেছে।
সবজি ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, দেশি কাঁচা মরিচের সরবরাহ একেবারেই কম থাকা ও ভারত থেকে আমদানি কয়েক দিন বন্ধ থাকায় দাম এত বেড়ে গেছে। দেশি কাঁচা মরিচের সরবরাহ একেবারেই নেই। একে তো বন্যায় মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বৃষ্টিতে মরিচ তোলা যাচ্ছে না।
খুচরা সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে বাড়লে তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পরে। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিও কমেছে। এখন ২৫০ গ্রাম মরিচ ৬৫ টাকার ( কেজি ২৬০ টাকা) নিচে বিক্রি করলে লোকসান দিতে হবে। পাইকারি বাজার থেকে এক পাল্লা (৫ কেজি) মরিচ ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনেছি। এরপর যাতায়াত ভাড়া তো আছেই।
চালের বাজারে দেখা গেছে, বিভিন্ন অজুহাতে গত কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকে চালের দাম। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে থেকে চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা কমেছে কিন্তু পরে আর কমেনি। এখন সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৭-৪৮ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে (ভালো মানের) ৬২ টাকা দরে, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৮ টাকা, বিআর-২৮ ৫৬ টাকা, ভারতীয় বিআর-২৮ ৫০ টাকা,  উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০ টাকা, নাজিরশাইল (নরমাল) ৬৫, হাস্কি ৫৬, পাইজাম চাল ৫২ টাকা, বাসমতি ৬৫-৭০ টাকা, কাটারিভোগ ৭০-৭৫ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এই দামের সঙ্গে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। টিসিবির মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, ভালো মানের মিনিকেট কেজিপ্রতি ৬৫-৬৮ টাকা, নরমাল মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, ভালো মানের বিআর২৮ কেজিপ্রতি ৫৬-৫৮ টাকা, নরমাল বিআর২৮ ৫৪-৫৬ টাকা, মোটা স্বর্ণা চাল ৪৮-৫০ টাকা।
এদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ৯০ টাকা; মাসকলাই ১২৫ টাকা; দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১২০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ইলিশ ধরায় নিষিদ্ধ থাকায় বাজারে কোনো ইলিশ দেখা মেলেনি।
ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৫০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর গোশত কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ