ঢাকা, শনিবার 7 October 2017, ২২ আশ্বিন ১৪২8, ১৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ক্ষয়িষ্ণু গ্রামবাংলা আর সবুজ প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান শরৎ উৎসবে

স্টাফ রিপোর্টার : সভ্যতা আর প্রযুক্তির আগ্রাসনে ক্ষয়িষ্ণু গ্রামবাংলা আর সবুজ-শ্যামলিমার রক্ষায় আরো বেশি উদার ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে রাজধানীতে উদযাপিত হলো শরৎ উৎসব। আশ্বিনের ২১তম দিনে তথা শরতের বিদায় বেলায় আয়োজনটি মেকি কিংবা আনুষ্ঠানিকতা নির্ভর হলেও গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে অনেকেই এসেছিলেন উৎসবে, স্মৃতি রোমন্থনে। বরাবরের মতোই সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এ উৎসবের আয়োজন করে।
গান-কবিতা-নৃত্যে শরৎ বন্দনায় সাজানো হয় উৎসবের মূল আয়োজন। মধ্যে ছিল ‘শরৎ কথন’ পর্ব। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলে টানা সকাল ১০টা অবধি। উৎসবে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠকরা ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশের প্রকৃতি সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা নাগরিকদের উপর হওয়া দমন-পীড়ন নীতির সমালোচনা করে অসহায় নাগরিকদের পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।
আয়োজক সংগঠন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অধ্যাপক হায়াৎ মামুদের পাশাপাশি শরৎ কথন পর্বে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহ সভাপতি অধ্যাপক নিগার চৌধুরী।
আবু কালামের বেহালা আর তুলসী সাহার তবলার ধুনে শুরু হয় উৎসবের আন্ষ্ঠুানিকতা। পরে শিশুকিশোর সংগঠন সুর ও বিহারের শিশুশিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করে। তারা গেয়ে শোনায় রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘আলোর অমল কমলকখানি’ ও ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’।
অধ্যাপক ড. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সীমাবদ্ধ অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ মানবতার এক বিশাল বার্তা দিল। সিলেবাসকেন্দ্রিক পড়াশোনার কারণে তরুণ প্রজন্ম বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যের কথা জানেই না বলে আফসোস করেন তিনি। ঋতুবৈচিত্র্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না থাকায় মানুষ প্রকৃতিকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক।
অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ বলেন, শহরে এসে আমরা কাজের চাপে হোক বা নানা সঙ্কটে হোক, গ্রামকে ভুলে যাই। গ্রামই তো আসল। গ্রামে ফিরে যেতে না পারলেও আমাদের মন যেন সেই গ্রামেই পড়ে থাকে, আজ সকলের হোক এ প্রত্যয়।
স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক নিগার চৌধুরী বলেন, এবারের আয়োজনের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। আমরা যখন এখানে শরৎ উৎসব বা শরৎ বন্দনা করছি, তখন রাষ্ট্রীয় হিংসার শিকার হয়ে লাখো মানুষের রক্ত¯্রােত ভাসছে বঙ্গোপসাগরে। আর তখনই মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এবারের উৎসবের মাধ্যমে আমরা সেই অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধের বাংলাদেশের কথাই বলতে চাই।
উৎসবে-পার্বণে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ‘মানবিক সংস্কৃতির’ কারণেই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন রামেন্দু মজুমদার।
উৎসবে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে সমস্বর, স্বভূমি লেখক শিল্পীকেন্দ্র, আনন্দন, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নটরাজ, নৃত্যজন, নন্দন কলাকেন্দ্র, স্পন্দন। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন অনিমা রায়, আবু বকর সিদ্দিক, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, সঞ্জয় কবিরাজ, ফেরদৌস কাকলী, মীরা মন্ডল, আশিকুর রহমান, রতœা সরকার, আরিফ রহমান, শ্রাবণী গুহ রায় ও নবনীতা জাইদ চৌধুরী অনন্যা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন রফিকুল ইসলাম ও নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ