ঢাকা, রোববার 8 October 2017, ২৩ আশ্বিন ১৪২8, ১৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাল্টা চাষে সফল মণিরামপুরের কৃষক আব্দুল করিম

মনিরামপুরের মাল্টা লেবু চাষী আব্দুল করিম তার বাগানের লেবু এভাবে দেখাচ্ছেন

নিছার উদ্দীন খান আযম, মণিরামপুর (যশোর) : যশোর অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টা লেবুর চাষ হচ্ছে। মণিরামপুর উপজেলায় বারী মাল্টা (১) লেবুর চাষ করে যাদুকরী সফলতা পেয়েছেন চাষীরা। গত আড়াই বছর আগে লাগানো বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে গাড়ো কমলা রঙের সু-মিষ্ট মাল্টা লেবু। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাভজনক হওয়ায় মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেকেই।
মণিরামপুর উপজেলার মাটি সব ফসলের জন্য উপযোগী হলেও এই প্রথম শিক্ষিত উদ্যমী ধচাষী আব্দুল করিম বারি মাল্টা (১) চাষ করে সফল হয়েছেন। জানাগেছে কৃষি বিভাগের ২য় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের (এসসিডিপি) আওতায় ২০১৪ সালে নভেম্বর মাসে মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামে ১ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বারি মাল্টা (১) জাতের ১৪৫ টি চারা রোপন করেন কৃষক আব্দুল করিম। চারা লাগানোর পর নিবিড় পরিচর্যা ও জৈব প্রযুক্তি (কেঁচো সার) ব্যবহার করে মাত্র দেড় বছর বয়সে গত বছর সামান্য পরিমাণ ফলন আসলেও এবার প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে আশাতীত। শ্যামকুড় ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী দূর্বাডাঙ্গা সড়কের পাশে আব্দুল করিমের স্বপ্নের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়। ছোট ছোট মাল্টা গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় মাল্টা। তিনি জানান প্রতিটি গাছে ১০০ থেকে ১৭০ টি ফল ধরেছে। এ ফলনে দারুন খুশি চাষী আব্দুল করিম। তিনি জানান, তার বাগানে উৎপাদিত মাল্টা বিদেশ হতে আমদানীকৃত যে কোন মাল্টার চেয়ে রসালো সুস্বাদু এবং অধিক মিষ্টি। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই মাল্টা লেবুর চাষ করছে এবং তার বাগানে আসছেন মানসম্মত চারা সংগ্রহের জন্য। এরই মধ্যে তিনি গ্রাফটিং কলমের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে মাল্টার কলম তৈরি করেছেন। নিজস্ব মাতৃগাছ হতে চারা কলম তৈরি বলে তিনি জাতের বিষয়ে শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে থাকেন। চলতি বছরে প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে লাগানো চারা সরবরাহ করেছেন তিনি। তার বাগানে এখন ১০ হাজারের অধিক মাল্টা কলম তৈরি আছে। এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, মাল্টা চাষী আব্দুল করিম একজন সচেতন চাষী। তিনি বরাবরই নতুনত্ব কিছু করতে চান। তিনি সম্পূর্ন রাসায়নিক মুক্তভাবে জৈব প্রযুক্তি (ভার্মি কম্পোষ্ট) এবং জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করে মাল্টা চাষে সফল হয়েছেন। কৃষি বিভাগ তাকে সব ধরনের সহযোগীতা দিচ্ছে যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বারী মাল্টা (১) জাতের গবেষক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট খুলনা এর উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. প্রশান্ত কুমার সরদার মুঠোফোনে জানান, এটি দেশের একটি সম্ভাবনাময় ফসল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বারি মাল্টা (১) জাতে লেবু চাষের বিপ্লব ঘটবে। তার জানামতে খুলনা বিভাগের মধ্যে হাতে গোনা দুই একজন মাল্টা চাষীর মধ্যে মণিরামপুর উপজেলার চাষী আব্দুল করিম প্রথম বারি মাল্টা (১) জাতের লেবু চাষ করে সফল হয়েছেন।
সরকারী-বেসরকারী পৃষ্ঠপোষ-কতায় কৃষকদের মাল্টা চাষে উৎসাহিত করা হলে আমদানী নির্ভরতা হ্রাস পাবে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ