ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এবার ইনিংস ব্যবধানে হার টাইগারদের

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধান এড়িয়ে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় আর শেষ টেস্টে ইনিংস ব্যবধানটা আর এড়াতে পারেনি টাইগাররা। শেষ টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ও ২৫৪ রানে। মাত্র আড়াই দিনে শেষ হয়েছে শেষ টেস্ট। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে নিজেদের অসহায় করেই বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ হেরেছে ২-০ ব্যবধানে। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এবার ভালো করার টার্গেট ছিল মুশফিকদের সামনে। কিন্তু  এই সফরেই ব্যাটে-বলে সবচেয়ে বেশি লজ্জায় ফেলেছে দেশকে। প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানের বড় ব্যবধানে হারার পর এই টেস্টে ঘুরে দাড়াতে চেয়েছিল বাংলাদেশ দল।
 কিন্তু সেটা পারেনি মুশফিকরা। টসে জিতে শেষ টেস্টে আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করার সুযোগ দিয়ে সবচেয়ে বড় বোকামিটা করেন অধিনায়ক মুশফিক। আর আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চার সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ৫৭৩ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৭২ রানে অলআউট হলে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পায় ইনিংস ও  ২৫৪ রানে। এ জয়ে ২-০ তে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলো দক্ষিণ আফ্রিকা। গতকাল ইমরুল কায়েস ৬ ও সৌম্য সরকার ১ রানে মাঠে নামেন। তৃতীয় দিন তৃতীয় ওভারেই কাগিসো রাবাদার শিকার হন সৌম্য ৩ রান করে। দুই ইনিংসে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে তিনি ফাফ দু প্লেসিসের হাতে ক্যাচ তুলে  দেন। ওখানেই  শেষ নয়। লাঞ্চের আগে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয়ে আরও তিন ব্যাটসম্যান সাজঘরের পথ ধরেন- মুমিনুল হক ১১ রানে, ইমরুল ৩২ রানে ও মুশফিকুর রহিম ২৬ রানে। মুমিমনুলকে  কেশব মহারাজের ক্যাচ বানান রাবাদা। ডুয়েন অলিভিয়েরের বলে কট বিহাইন্ড ইমরুল। ওয়েন পারনেলের এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন মুশফিক। শততম টেস্ট উইকেট পাওয়ার পর সতীর্থদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন রাবাদা । লাঞ্চের আগে ৯২ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল এবারও ধরেন লিটন দাস, অপর প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাদের ৪৩ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছিল সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে ৭০ রান করা লিটন এবার ১৮ রানেই আউট। অ্যান্ডিল  ফেলুকোয়াইয়োর বলে তিনি বোল্ড হলে আবার টালমাটাল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ১০ রানের ব্যবধানে হারায় আরও ৪ উইকেট। মাহমুদউল্লাহকে ৪৩ রানে ফিরিয়ে টেস্টের শততম উইকেট  নেন রাবাদা। টানা দুই ওভারে সাব্বির রহমান ৪ রান ও তাইজুল ইসলাম ২ রানে উইকেট হারান। দু প্লেসিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে  ফেলুকোয়াইয়োর দ্বিতীয় শিকার সাব্বির। তাইজুলকে বোল্ড করে রাবাদা টানা দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে  পৌঁছে যান। সেই লক্ষ্য তিনি পূরণ করেন রুবেল হোসেনকে ৭ রানে বোল্ড করে। দুই ইনিংসে ২৪.৫ ওভার বল করে ৬৩ রান দিয়ে রাবাদা নেন ১০ উইকেট।  ফেলুকোয়াইয়ো তার দশম ওভারের চতুর্থ বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে বোল্ড করলে বাংলাদেশ হারায় তাদের শেষ উইকেট। দ্বিতীয়সেশনে মাত্র ১৬.৪ ওভার খেলেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা।  রাবাদার দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য তো বটেই, তৃতীয় দিন দ্বিতীয়  সেশনের মাঝামাঝি সময়েই জয় নিশ্চিত করতে ফেলুকোয়াইয়ো অবদান রাখেন তিন উইকেট নিয়ে। টেস্ট সিরিজ জয়ী দলের ম্যাচসেরা হয়েছেন রাবাদা, আর সিরিজের সেরা ডিন এলগার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৫৭৩/৪ ডি.
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪৭
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৭২ (ইমাংল ৩২, সৌম্য ৩, মুমিনুল ১১, মুশফিক ২৬, মাহমুদউল্লাহ ৪৩, লিটন ১৮, সাব্বির ৪, তাইজুল ২, রুবেল ৭, শুভাশিস ১২,  মোস্তাফিজ ৭; রাবাদা ৫/৩০, অলিভিয়ের ১/৩৯, মহারাজ ০/৩০, পার্নেল ১/৩১,  ফেলুকওয়ায়ো ৩/৩৬)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ২৫৪ রানে জয়ী
সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কাগিসো রাবাদা
ম্যান অব দ্য সিরিজ: ডিন এলগার

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ