ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির নিষ্পত্তি চায় আপিল বিভাগ

 

স্টাফ রিপোর্টার : নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত গেজেট নিয়ে এবার সরকারের সঙ্গে বসার কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা। সরকারপক্ষে আবারো চার সপ্তাহ সময় চেয়ে এটর্নি জেনারেল আবেদন করলে আপিল বিভাগ এ কথা বলেন।

গতকাল রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন-বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

সকালে সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম চার সপ্তাহ সময় আবেদনের কথা বলেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা এটর্নি জেনারেলকে বলেন, আমরা টাইম (সময়) দিয়ে দেব। তবে এটা (বিধিমালা) হওয়া দরকার। বসারও দরকার। কোথায় কোথায় আপত্তি আছে দেখা দরকার। তবুও এটা হওয়া দরকার। ৫ নবেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। আমরা বসতে চাই।

এরপর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, আজ অধস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত গেজেট নিয়ে শুনানির জন্য তালিকায় ছিল। শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা চার সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি শেষে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত গেজেট প্রকাশের সময় বাড়িয়েছিলেন। এর আগে গত ৬ আগস্ট দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে বৈঠকের কথা বলেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু এর মধ্যে সরকার ও আদালতের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়নি।

গত ৩০ জুলাই প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা আদালতে এটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত (৩০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত) দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আমি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আপনাদের (সরকার) সময় দেব। বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা নিয়ে আর রশি টানাটানি নয়। আইনমন্ত্রীসহ সরকারের যেকোনো বিশেষজ্ঞ আসবেন, বৈঠকে বসব। আপনিও থাকবেন।’

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেনের মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথককরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের এ নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

গত বছরের ২৮ আগস্ট শুনানিতে আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ; যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ