ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিদেশ ও কোম্পানি নির্ভর থাকলে দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়বে

গতকাল রোববার মুক্তিভবনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে বাংলাদেশের গ্যাসসম্পদ, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিকল্পনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও গ্যাস খাতের উন্নয়নে জ্বলানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গতকাল রোববার রাজধানীর মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের গ্যাসসম্পদ, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। এ সময় সংগঠনটি বিদেশ ও বিভিন্ন কোম্পানিনির্ভর জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাদ দেওয়ার আহ্বানও জানায়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সভায় গ্যাস সম্পদ, বিদ্যুৎ, দাম বৃদ্ধি ও সরকারের পরিকল্পনা এবং গণশুনানিতে জনগণের মতামত বিষয়ক আলোচনা উত্থাপন করেন অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স ও গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী। আলোচনায় অংশ নেন সিপিবি নেতা মো. শাহ আলম, সাইফুল হক, বজলুর রশিদ ফিরোজ, সংসদ সদস্য টিপু বিশ্বাস, আবুল হাসান রুবেল প্রমুখ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদেশ ও বিভিন্ন কোম্পানিনির্ভর জ্বালানি মহাপরিকল্পনা থাকলে দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। তাই জনস্বার্থে জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় কমিটি এরই মধ্যে খসড়া মহাপরিকল্পনা হাজির করেছে। এটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষিত হবে। একসময় বলা হয়েছিল, দেশে গ্যাসের সংকট নেই। তখন লক্ষ্য ছিল গ্যাস রফতানি করা। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, দেশে গ্যাসের সংকট আছে। তাই এখন এলএনজি আমদানির চিন্তা করা হচ্ছে।

সমুদ্রে গ্যাস রফতানিনীতি চুক্তি বাতিল করার দাবি জানিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, জনগণের শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত ও গ্যাস উত্তোলনে যথাযথ ভূমিকা রাখাতে হবে।

জ্বালানির দাম সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কমলেও আমাদের দেশে তা সমন্বয় করা হয়নি। এটি সমন্বয় করলে পুরো অর্থনীতির উৎপাদনশীলতার সুযোগ তৈরি হতো। দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতো, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসত না।

মতবিনিময় সভায় আলোচকরা বলেন, সরকার মেগা প্রজেক্টের নামে দুর্নীতিবাজ ও কমিশনভোগীদের পকেট ভরাতে ব্যস্ত। দুর্নীতিবাজদের পকেট রক্ষিত থাকলেও সাধারণ জনগণের পকেট অরক্ষিত। এজন্য বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটতে চাইছে সরকার।

অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত প্রতিহত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা। 

গণশুনানির বিষয় তুলে ধরে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এটা প্রমাণ হয়েছে যে, প্রচলিত ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ সাত হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা কমানো যেত। এর ফলে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি এক দশমিক ৫৬ টাকাও কমানো যেত।

বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করে রাষ্ট্রীয় খাতকে প্রাধান্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দাম কমানোর দাবি জানান তিনি।

সুন্দরবনবিধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, জনমত উপেক্ষা করে এই প্রকল্প অব্যাহত রাখার পরিণাম মোটেই শুভ হবে না। জনগণই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সুন্দরবন রক্ষা করবে।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমত সেখানকার সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করতে হবে। দ্বিতীয়ত পাবত্য সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার। এছাড়া একটি দেশে সবাই যেন নাগরিক অধিকার পায় ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে, সেজন্য গণতান্ত্রিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। 

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সরকারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে মন্তব্য করে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু ব্যবহার করে অনেক মানুষ ব্যবসার করবে। বিদেশ থেকে ডলার কামাই করবে। এই সুযোগে মানব পাচার বেড়ে যাবে। এদের দোহাই দিয়ে বন এবং পাহাড় দখল করবে।

জন অধিকার নামের একটি সংগঠন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার জোত্যির্ময় বড়–য়ার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সাংবাদিক গোলাম মোর্তূজা, ম ইনামুল হক, শিক্ষক গবেষক প্রশান্ত ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ