ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ত্রিপক্ষীয়  বৈঠক শেষে অশান্ত খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিলগুলোতে কাজে ফিরেছে শ্রমিকরা

 

# পাটপণ্য মজুদ ৪০০ কোটি টাকার # শ্রমিকদের পাওনা ৬০ কোটি টাকা

খুলনা অফিস : খুলনার ঐতিহ্য পাটকলগুলোতে হঠাৎ করে অশান্ত অবস্থা দেখা দিয়েছে। খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি জুটমিলের মধ্যে ইতোমধ্যে তিনটি জুটমিল শ্রমিকরা তাদের পাওনার দাবিতে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এই জুটমিলগুলোর শ্রমিকদের মোট পাওনা রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। অথচ নয়টি মিলের উৎপাদিত পন্য রয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। উৎপাদিত পাট পণ্য রফতানি না হওয়া বা বিক্রি না হওয়ায় মিল কতৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে পারছেন না। অপরদিকে বকেয়া মজুরি না পেয়ে শ্রমিক পরিবারগুলোও পড়েছে বিপাকে। গত তিনদিনে রাষ্ট্রায়াত্ব নয়টি পাটকলের মধ্যে তিনটি পাটকল শ্রমিকরা তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দেন। পরে শনিবার রাতে ত্রি পক্ষীয় এক বৈঠকে পাওনা পরিশোধের আশ্বাসে গতকাল রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেন। বিজেএমসি (বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশন) খুলনার আঞ্চলিক লিয়াঁজো অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৬টায় ছয় সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে স্টার জুটমিলের শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেন। স্টার জুট মিলের সিবিএ সভাপতি বেল্লাল মল্লিক  জানান, শ্রমিকরা মিলে কাজ করছে অথচ মজুরি পাচ্ছেন না। মজুরি না পেয়ে তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এজন্য শনিবার সকাল ৬টা থেকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিলটিতে স্থায়ী-অস্থায়ী সাড়ে চার হাজার শ্রমিক কর্মচারী-কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের মধ্যে শ্রমিকদের ছয় সপ্তাহ বকেয়া মজুরি ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মোট বকেয়ার পরিমাণ ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এর আগে বৃহস্পতিবার ৮ সপ্তাহের মজুরির দাবিতে  মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা। তারা শনিবারও কাজে যোগ দেননি। মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন। ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, খুলনার এ জুটমিলে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছে।  তিনি জানান, তারা নিয়মিত সপ্তাহের মজুরি পাচ্ছেন না। যে কারণে অর্থ কষ্টে সংসার চালাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে এককেকজন সর্বনি¤œ ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা সাপ্তাহিক মজুরি পাওনা রয়েছে।

স্টার জুট মিলের প্রকল্প প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ায় মিলটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ক্রিসেন্ট জুটমিলের প্রকল্প প্রধান এ কে হাজারী বলেন, ক্রিসেন্ট জুটমিলটিতে বর্তমানে ৬০ কোটি টাকার পাটজাত পন্য অবিক্রিত রয়েছে। অথচ শ্রমিকরে পাওনা রয়েছে ১০ কোটি টাকার মত। শিপমেন্ট না হওয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দিতে বিলম্ব হচ্ছে। তারপরও তাদেরকে গত সপ্তাহে ১ সপ্তাহের মজুরি দিতে চাওয়া হলেও তারা নেননি।

এর আগে বুধবার (৪ অক্টোবর) আট সপ্তাহের মজুরির দাবিতে প্লাটিনাম জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া তিনটি জুটমিলের শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার। খুলনায় অপর জুটমিলগুলো হচ্ছে, জেজেআই (যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি) কার্পেটিং, ইস্টার্ন, খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল ও আলীম জুট মিল। এ বিষয়ে বিজেএমসি (বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশন) খুলনার আঞ্চলিক লিয়াঁজো অফিসার শাহাদাত হোসেন বলেন, খুলনায় রাস্ট্রায়াত্ব জুটমিল রয়েছে ৯টি। ৯টি জুট মিলে বিক্রির জন্য পাটজাত পণ্যের মজুদ রয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। অথচ শ্রমিকদের সবমিলিয়ে পাওনা রয়েছে ৬০ কোটি টাকার মত। পাট পণ্য রফতানি ও বিক্রি শুরু হলেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, এই জুটমিলগুলোতে স্থায়ী অস্থায়ী মোট ২৫ হাজারের মত শ্রমিক রয়েছে। এেিদক রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল স্টার জুটমিল, ক্রিসেন্ট জুট মিল ও প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলের শ্রমিকরা রোববার থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজে যোগ দেন। শনিবার রাতে খুলনা সার্কিট হাউসে ত্রিপক্ষীয় এক সভায় বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে রোববার সকাল থেকে স্ব-স্ব মিলে কাজে যোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, শনিবার সার্কিট হাউসে প্রশাসনের সাথে ত্রি পক্ষীয় এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হযেছে। তাই শ্রমিকরা রোববার থেকে কাজে যোগ দিয়েছে।

এ ব্যাপারে বিজেএমসি (বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশন) খুলনার আঞ্চলিক লিয়াঁজো অফিসার শাহাদাত হোসেন বলেন, ত্রি-পক্ষীয় এক সভায় শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। রোববার থেকে তারা স্ব-স্ব মিলের কাজে যোগ দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ