ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাত বছরে ছয় আইও বদল  এখনও চার্জসিট দেয়া হয়নি

নাটোর সংবাদদাতা : নাটোরে বড়াইগ্রামের উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সানা উল্ল¬াহ নূর বাবু  হত্যার সপ্তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল পুলিশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে জেল বিএনপি। রোববার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক জানান, বড়াইগ্রামের জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান সানা উল্লাহ নূর বাবুকে সাত বছর আগে প্রকাশ্যে বনপাড়া বাজারে শত শত লোকের সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার করে। সেই হত্যাকান্ডের শাহাদৎ বার্ষিকীতে রোববার নগর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবদ দল আয়োজিত মিলাদ মাহফিল পুলিশ হুমকি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এই সরকারের আমলে একজন মরহুম নেতার ধর্মীয় অনুষ্ঠানও করতে দেয়া হচ্ছেনা। নাটোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকত এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিএনপি তিন তিন বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল এবং নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও দুইবার মন্ত্রী ছিলেন কিন্তু সে আমলেও বিরোধী দলের কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানতো দূরের কথা এমনকি রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও বাধা দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, বাবু হত্যার সাত বছর পেড়িয়ে গেলেও আজও মামলার চার্জসিট দেয়া হয়নি। উপরন্ত ওই মামলার প্রধান দুই আসামীকে ভোটার বিহীন নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি বানিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয় যে, বর্তমান বাকশালী সরকারের আমলে বাবু হত্যার বিচার তারা আশা করেননা। আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বাবুসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। এসময় আরো উপ্িস্থত ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ ও শহীদুল ইসলাম লিটন, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম কদম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। বাবুর মিলাদ মাহফিল কেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মিলাদ মাহফিল হলে ঘঠনাস্থলে প্রতিপক্ষের হামলা হতে পারে। এর পরেও বাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরদার পাড়ায় কবরের কাছে জামে মসজিদে দোয়া ও কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০১০ সালের ৮ আক্টোবর শুক্রবার সকাল দশটার দিকে সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নাটোর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বড়াইগ্রামে আগমন উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি বনপাড়া বাজারে মিছিল বের করে। এসময় বাজারে রাস্তার ওপর প্রকাশ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছ্ত্রালীগের বেশ কিছু চিহ্নিত নেতাকমী বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সানা উল্লাহ নূর বাবুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখে। হত্যা নিশ্চিত করতে তারা পরে বাবুর হাত ও পায়ের রগও কেটে দেয়। এই হত্যাকান্ডের ছবির ভিডিও ফুটেজ ধারণ করার অপরাধে নাটোরের আরটিভির সাংবাদিক শেখ তোফাজ্জল হোসেনকেও মেরে মারাত্মকভাবে আহত করে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ নষ্ট করে দেয়া হয়। স্বামী সানা উল্ল¬াহ নূর বাবু হত্যার পর তার স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল আলিম হত্যার প্রধান আসামী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বর্তমানে বনপাড়া পৌরসভার মেয়র কে এম জাকির হোসেনকে প্রধান আসামী করে মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর পরে তিনি পুলিশের কাছে আরো ১৮ জনের একটি তালিকা দিয়ে এই মামলায় তালিকাভুক্ত করার আবেদন করলে তাও গৃহীত হয়। বাবু হত্যা মামলার ৪৫ জন আসামীই এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। মামলা দায়েরের পর পর সাত বছরে মামলার মোট ছয়জন তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও আজ পর্যন্ত চার্জসিট দেয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ