ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কর্জে হাসানা : দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামী অর্থনীতির অনন্য কৌশল

ফয়সাল খান : ১. ভূমিকা : ইসলামী অর্থনীতিতে দারিদ্র্যবিমোচনে কর্জে হাানা একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কর্জে হাসানা দেয়া আল্লাহ্কে ঋণ দেয়ার সামিল। আল্লাহ্কে ঋণ দিয়ে একজন মুসলমান তার ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে পারে। যাকাতের ক্ষেত্রে সময় ও পরিমাণ নির্দিষ্ট, কিন্তু কর্জে হাসানার ক্ষেত্রে তেমনটি নেই। একজন ব্যক্তি যে কোন সময়ে যে কোন পরিমাণ কর্জে হাসানা প্রদান করতে পারে। এজন্য ব্যক্তির ইচ্ছাই যথেষ্ট। কর্জে হাসানার মাধ্যমে অভাবী মানুষরা তাদের কঠিন সময়কে মোকাবেলা করে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে ধাবিত হতে পারে। এজন্য কল্যাণমূলক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কর্জে হাসানার বিস্তার অত্যন্ত জরুরী।
২. কর্জে হাসানার সংজ্ঞা :
২.১. আভিধানিক অর্থ : কর্জে হাসানা দু’টি আরবী শব্দের সন্বয়য়ে গঠিত। কর্জ শব্দটি কিরাদ শব্দমূলক থেকে উদ্ভব হয়েছে। যার অর্থ কর্তন। এটাকে এজন্য কর্জ বলা হয় যে এর মাধ্যমে সচ্ছল লোকদের আয় থেকে একটি অংশ ঋণ হিসেবে প্রেরিত যা আপাতদৃষ্টিতে সম্পদ কর্তিত হয়েছে বলে মনে করা হয়।
হাসানা শব্দটি ইহসান শব্দমূল থেকে উদ্ভব হয়েছে। ইহসান অর্থ অন্যের প্রতি দয়া। হাসান এমন একটি যা অন্য লোকের উপকারে আসে এবং কাজটি সম্পাদনে কর্তা বাধ্য নয়। দয়াকে ইসলাম উৎসাহিত করে। আমাদেরপ্রিয়নবী (সা:) বলেন:
তিন ধরনের লোক জান্নাতী (১) যারা ন্যায় ও নীতিবান শাসক (২) যারা সত্যবাদী ও ক্ষমতা পেলে সৎকাজ করে এবং (৩) ঐ সমস্ত ব্যক্তি যারা ক্ষমাশীল ও দয়াবান তাদের আত্মীয়-স্বজন, ধার্মিক মুসলিমের প্রতি এবং যে ধৈর্য্য সহকারে পরিবারের ভরণ-পোষণ করে। (সহীহ্ মুসলিম)
সুতরাং কর্জে হাসানা হলো উপকারী ঋণ, উত্তম ঋণ, সহানুভূতির ঋণ, সুদমুক্ত ঋণ, সুন্দর ঋণ ইত্যাদি।
২.২. কর্জে হাসানার পারিভাষিক সংজ্ঞা : বর্তমান সময়ের আলোচিত ইসলামী অর্থনীতিবিদ, জেদ্দাহস্থ ইসলামিক রিসার্চ এ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট’র গবেষণা উপদেষ্টা ড. এম. উপমার চাপড়ার (২০০৫) মতে, “Qard-al-hassan is a loan which is returned at the end of the agreed period without any interest of share in the profit of loss of the borrower.” অর্থাৎ “কর্জে হাসানা হলো এমন এক ঋণ যা সুদমুক্ত ও চুক্তিবদ্ধ সময়ের মধ্যে ফেরৎ দিতে হয় এবং এর মধ্যে কোন প্রকারের লাভ-লোকসানে অংশীদারিত্ব থাকে না।”
A Glossary of Islamic Economic Terms states, Qard al-Hasana is. “An interest-free loan given mainly for welfare purposes. The borrower is only required to pay back the amount borrowed.” অর্থাৎ “একটি কল্যাণমূলক সুদমুক্ত ঋণ। ঋণগ্রহীতাকে শুধু ঋণকৃত অংশই পরিশোধ করতে হয়।”
Mohsin S. Khan and Abbas Mirakhor (1900) say, “The hanking system also has been used as an instrument of income redistribution through provision of Qard al-Hasana (beneficent) loans for the needy, Financing the building of low-income housing, and provision of financing for small scale agrobusinesses and industrial cooperatives, often without stringent collateral requirements.” অর্থাৎ “ব্যাংক ব্যবস্থা আয় পুনঃবণ্টনের একটি হাতিয়ার হিসেবে কর্জে হাসানা প্রয়োগের মাধ্যমে অভাবী, অল্প আয়ের লোকদের বাড়ি নির্মাণে অর্থায়ন এবং ক্ষুদ্র কৃষিনির্ভর ব্যবসা ও শিল্পখাতে সহায়তার জন্য প্রায় জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করছে।”
Associate Professor in the Faculty of Shariah and Law, Islamabad Imran Ahsan Khan Nyazee, “Islamic Law of Persons Glossary says, “Qard (niterest-free loan) : a charitable act and not a business transaction.” অর্থাৎ “কর্জ (সুদমুক্ত ঋণ) একটি পরহিতকর কাজ এবং এটি কোন ব্যবসায়িক লেনদেন নয়।”
Mohammad Nejatullah Siddiqi asys, “The condemnation and prohibition of riba in Quran is almost always accompanied by urging the believers to five, That includes both charitable grants (sadaga) and qard hasan, lending with no obligation for the borrower more than returning the principal This fits in with Islam’s over-all vision of life as a co-operative venture aiming at passing the test for which the Creator launched the enterprise of life and death.” অর্থাৎ, “আল-কুরআনে রিবা (সুদ)কে নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিশ্বাসীদের সুদকে বর্জন করতে বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো পরহিতকর দান (সাদাকা) ও কর্জে হাসানা উভয় ক্ষেত্রে আসলের অতিরিক্ত প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ঋণ দেয়া যাবে না। এটি একটি সহায়তামূলক প্রচেষ্টা হিসেবে ইসলামের সুমহান আদর্শকে ধারণ করবে।”
মাওলানা মওদূদী (র:) বলেন, “কর্জে হাসানা হচ্ছে এমন ঋণ, যা কেবলমাত্র সৎকর্ম অনুষ্ঠানের প্রেরণায় চালিত হয়ে নিস্বার্থভাবে কাউকে দেয়া হয়।”
সুতরাং কর্জে হাসানা এমন একটি মানবকল্যাণমূলক ঋণ যা অভাবী লোকদেরকে তাদের দুঃসময়ের সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়, বিনিময়ে তার কাছ থেকে কোন প্রকারের সুদ বা অতিরিক্ত আদায় করা হয় না। ঋণগ্রহীতাকে আসল পরিশোধ করলেই চলে।
২.৩. কর্জে হাসানার উদ্দেশ্যসমূহ : কর্জে হাসানা ঐচ্ছিক সাদাকা এবং ব্যক্তিগত দান হোক বা না হোক, এ বিষয়ে বিজ্ঞসমাজ একমত যে, কর্জে হাসানা একটি সদাশয় ও সহায়তামূলক ঋণ। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গবেষণা প্রতিষ্ঠান IRTI (1993)’র মতে, কর্জে হাসানা হলো দুস্থদের ঋণ এবং উত্তম ঋণ। এটি এমন একটি সুদমুক্ত ঋণ যা ঋণগ্রহীতাকে বিপদ থেকে নিস্তার পেতে প্রদান করা হয় এবং ঋণগ্রহীতার বিপদ থেকে কোন প্রকারের মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করা হয় না। এ  ব্যাখ্যা থেকে বলা যায়, কর্জে হাসানা একটি বন্ধুত্বমূলক ঋণ যেহেতু ঋণদাতার বিপদ থেকে কোন প্রকারের মুনাফা র্জনের চেষ্টা করা হয় না। এ ব্যাখ্যা থেকে বলা যায়, কর্জে হাসানা একটি বন্ধুত্বমূলক ঋণ যেহেতু ঋণদাতা সময়, কিস্তি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঋণগ্রহীতার প্রতি যথার্থ নমনীয়তা প্রদর্শন করে।
মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন (২০০৪) একটি সহায়তামূলক ঋণ হিসেবে কর্জে হাসানা মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে বলে উল্লেখ করেন। তিনি কর্জে হাসানার নিম্নোক্ত বাস্তবসম্মত উদ্দেশ্যসমূহ পেশ করেন :
১) সহকর্মীদের সাহায্য করা
২) দরিদ্র ও ধনীদের মধ্যকার সম্পর্ককে উন্নত করা
৩) সমাজের সকল মানুষের মধ্যে সম্পদের আবর্তনকে সচল রাখা
৪) এমন একটি ভাল কাজে অংশগ্রহণ করা যাকে আল্লাহ ও তাঁর বাণীবাহকরা উৎসাহিত করেছেন ও প্রভুত মূল্য দিয়েছেন
৫) জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা
৬) দরিদ্র জনসমষ্টির জন্য নতুন নতুন চাকরীর বাজার সৃষ্টি করা এবং তাদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে ব্যবসায়ে কাজে লাগানো
৭) একটি দুশ্চিন্তামূলক সমাজ গঠন করা
৮) সমাজ থেকে বেকারত্ব দূর করা
৯) অমুসলিমকে কর্জে হাসানা প্রদান করার মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা
১০) সমাজ থেকে আর্থ-সামাজিক বৈষম্যকে উচ্ছেদ করা
১১) সর্বপরি, কর্জে হাসানা প্রদান করে আখিরাতের কল্যাণ অর্জন
উপরুক্ত উদ্দেশ্যসমূহের সফল বাস্তবায়নই পারে মুসলিম সমাজ থেকে দারিদ্র্যকে দূর করতে। সুতরাং কর্জে হাসানাকে গুরত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।
২.৪. আল কুরআনে কর্জে হাসানা : পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ কর্জে হাসানা প্রদানের জন্য উৎসাহ যুগিয়েছেন। এজন্যতিনি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রদানের অঙ্গিকার করেন। আল্লাহ বলেন-
১) তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহকে কর্জে হাসানা দিতে প্রস্তুত, যাতে আল্লাহ তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে তাকে ফেরত দেবেন? কমাবার ক্ষমতা আল্লাহর আছে, বাড়াবারও এবং তাঁরই দিকে তোমাদের ফিরতে হবে। (সূরা-আল বাকারাহ : ২৪৪৫)
২) যদি তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও, আমার রসূলদেরকে মানো ও তাদেরকে সাহায্য করো এবং আল্লাহকে উত্ম ঋণ দিতে থাকো, তাহলে নিশ্চিত বিশ্বাস করো আমি তোমাদের থেকে তোমাদের পাপগুলো মোচন করে দেবো এবং তোমাদের এমন সব বাগানের মধ্যে প্রবেশ করাবোযা তলদেশ দিয়ে ঝরণাধারা প্রবাহিত হবে। (সূরা আল মা-য়েদাহ : ১২)
৩) এমন কেউ কি আছে যে আল্লাহকে ঋণ দিতে পারে? উত্তম ঋণ যাতে আল্লাহ তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে ফেরত দেন। আর সে দিন তার জন্য রয়েছে সর্বোত্তম প্রতিদান। (সূরা আল হাদীস : ১১)
৪) দান সাদকা প্রদানকারী নারী ও পুরুষ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে, নিশ্চয়ই কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে তাদেরকে ফেরত দেয়া হবে। তাছাড়াও তাদের জন্য আছে সর্বোত্তম প্রতিদান। (সূরা আল হাদীদ : ১৮)
৫) এবং আল্লাহকে কর্জে হাসানা দিতে থাকো। (সূরা আল মুয্যাম্মিল : ২০)
৬) যদি তোমরা আল্লাহকে কর্জে হাসানা দাও তাহলে তিনি তোমাদেরকে তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন। আল্লাহ সঠিক মূল্যায়নকারী ও অতীব সহনশীল। (সূরা আত তাগাবুন : ১৭)
২.৫ আল হাদীসে কর্জে হাসানা : আল্লাহর রাসূলের (সা.) বেশ কয়েকটি হাদীসের মাধ্যমে কর্জে হাসানার গুরুত্ব ফুটে উঠে। যথা-
১) রাসূল (সা.) বলেছেন, মি’রাজের রজনীতে জান্নাতের একটি দরজা দেখলাম তাতে লেখা রয়েছে যে, সাদাকাহ’র পুরস্কার দশগুণ ও কর্জে হাসানার পুরস্কার আঠারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে।’ লেখাটি পড়ে রাসূল (সা.) তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ফেরেশতাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আমাকে বলবে এর কারণ কি? ফেরেশতাটি জবাব দিল, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! এর কারণ হলো এই যে, ভিক্ষুক তার কাছে কিছু অবলম্বন থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষা চায়, কিন্তু কোন প্রকৃত অভাবী বিপদে না পড়লে ঋণ চায় না। (ইবনে হিশাম ও ইবনে মাজাহ)
২) সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মু’মিন ব্যক্তিকে তার বিপদে সাহায্য করে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে সাহায্য ও কল্যাণ দান করবেন। (মুসলিম)
৩) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে, এ আয়াত যখন নাযিল হয় এবং নবীর (সা.) পবিত্র মুখ থেকে লোকজন তা শুনতে পায় তখন হযরত আবুদ দাহ্্দাহ আনসারী জিজ্ঞেস করেন: হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ কি আমাদের কাছে ঋণ চান? জবাবে নবী (সা.) বলেন, হে আবুদ দাহদাহ, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন : আপনার হাত আমাকে একটু দেখান। নবী (সা.) তার দিকে নিজে হাত বাড়িয়ে দিলেন। আবুদ দাহদাহ নবী (সা.) হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বললেন: ‘আমি আমার রবকে আমার বাগান ঋণ দিলাম।’ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, সেই বাগানে ৬শ’ খেজুর গাছ ছিল। বাগানের মধ্যেই ছিল আবুদ দাহদাহর বাড়ি। তার ছেলে মেয়েরা সেখানেই থাকতো। রাসুল (সা.)’র সাথে এসব কথাবার্তা বলে তিনি সোজা বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন এবং স্ত্রীকে ডেকে বললেন, ‘দাহদাহর মা বেরিয়ে এসো। আমি এ বাগান আমার রবকে ঋণ হিসেবে দিয়ে দিয়েছি।’ স্ত্রী বললো, দাহদাহর বাপ, তুমি অতিশয় লাভজনক কারবার করেছো’ এবং সেই মুহূর্তেই সব আসবাবপত্র ও ছেলেমেয়েকে সাথে নিয়ে বাগান ছেড়ে চলে গেলেন।’ (ইবনে আবী হাতেম)
উপরোক্ত কুরআনের আয়াতসমূহ ও হাদীসগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্জে হাসানা প্রদানের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠে। কর্জে হাসানা প্রদানকারীর সম্পদ কোন কোন অংশে তো কমেই না বরং আল্লাহ তা নিজ অনুগ্রহে বহুগুণ বৃদ্ধি করেন।
২.৬. ইসলামের ইতিহাসে কর্জে হাসানা : ইসলামের প্রাথমিক যুগে সুদমুক্ত অর্থনীতি বাস্তবায়নের জন্যে কর্জে হাসানা ছিল অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। এ সময়ে বায়তুল মালের আয়ের উৎসসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো কর্জ বা ঋণ। প্রকৃতপক্ষে রাসূলে কারীম (সা.)-এর মাদানী জীবন হতে শুরু করে আব্বাসীয় খিলাফতের পরেও সুদীর্ঘ তিনশত বছরেরও বেশি কর্জে হাসানা ইসলামী সমাজে যথাযথ চালু ছিল বলেই সুদ ইসলামী অর্থনীতির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে পারেনি। মক্কা বিজয়ের পর জরুরী রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে রাসূল (সা.) কর্জ গ্রহণ করেন। হাওয়াজিন যুদ্ধের পূর্বে রাসূল (সা.) আব্দুল্লাহ বিন রবিয়া থেকে ৩০ হাজার দিরহাম কর্জ গ্রহণ করেন। ইমাম বুখারীর মতে, ২০ হাজার দিরহাম কর্জ গ্রহণ করা হয়েছিল। হুনায়নের যুদ্ধের সময় রাসূল (সা.) সাফওয়ান নামক এক অবিশ্বাসীর নিকট থেকে ৫০টি বর্ম ধার করেছিলেন। কর্জ মুসলিম ও অমুসলিম উভয় উৎস হতে করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়।
হযরত উমর ফারুক (রা.)’র সময়েই বায়তুল মাল হতে কর্জে হাসানা দেবার রীতি ব্যাপকভাবে চালু হয়। ব্যক্তিগত প্রয়োজন ছাড়াও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্যেও বায়তুল মাল হতে কর্জে হাসানা নেবার ব্যবস্থা ছিল। এক্ষেত্রে স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য বা পক্ষপাতিত্ব হতো না। জনসাধারণ ছাড়াও সরকারী কর্মচারীরাও নিজেদের চাকুরির জামানতে বায়তুল মাল হতে ঋণ নিতে পারত। এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর্জে হাসানা ছিল মামুলি ব্যাপার। দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্যে মন-মানসিকতার দিক থেকে সম্পদশালী ব্যক্তিগণ সব সময়ই প্রস্তুস্ত ছিলেন।
৩. কর্জে হাসানা লেনদেনের পদ্ধতি : ইসলামের মানুষ তার ইচ্ছানুযায়ী যা কিছু করতে পারে না। তাকে কুরআন ও হাদীস নির্দেশিত পথে তার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। তেমনি কর্জে হাসানা এমন একটি চুক্তি যা নিম্নোক্ত নীতিসমূহকে অনুসরণ করে সমাপ্ত করতে হয়। সেগুলো হলো-
৩.১. ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের শরীয়াহ মোতাবেক চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা থাকা : আইনের চারটি প্রসিদ্ধ শাখা (হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী) এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত যে, ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়কে বালিগ, আকিল ও সুবিবেচক হতে হবে। ইয়াতিমদের ধন-সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করার ক্ষেত্রেও একই নীতি বিদ্যমান। আল কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা ইরশাদ করেন, আর এতিমদের পরীক্ষা করতে থাকো, যতদিন না তারা বিবাহযোগ্য বয়সে পৌঁছে যায়। তারপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে যোগ্যতার সন্ধান পাও তাহলে তাদের সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করে দাও। (সূরা আন নিসা : ৬)
আয়াতটি থেকে সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, বিবাহযোগ্য হওয়া ও অর্থ-সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করার যোগ্যতা অর্জন হলো পরিপক্বতার মাপকাঠি। এ ধরনের ব্যক্তিরাই কর্জে হাসানার চুক্তি সম্পাদন করতে পারে।
একটি হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন, তিন ধরনের লোকদের ব্যাপারে কিছু লেখা হয় না অর্থাৎ তাদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে দায়ী করা হয় না। তারা হলো, পাগল যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে; ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জাগ্রত হয়; এবং সেই যুবক যার মধ্যে পরিপক্বতার অভাব দেখা যায়। (আহমদ আবু দাউদ ও তিরমিযী)। হাদীসটির আলোকে বলা যায়, নাবালক ও অযোগ্য লোক কর্জে হাসানা লেনদেনে লিপ্ত হতে পারে না।
৩.২. ঋণের প্রস্তাব (ইজাব) ও সম্মতি (কবুল) ঋণচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই পরিষ্কার করা : আইনের চারটি প্রসিদ্ধ শাখাই এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, ঋণচুক্তিটি কেমন হবে তা ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের নিকট পরিষ্কার থাকবে। ঋণচুক্তিটি পরিষ্কারভাবে উপস্থাপিত না হলে পরবতীতে দু’পক্ষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি, এমনকি বিরোধ দেখা দেয়া অস্বাভাবিক নয়। এ জন্য দু’পক্ষের মধ্যে ইজাব ও কবুল অত্যন্ত জরুরি।
৩.৩. চুক্তির মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা : মুসলিম ফকীহদের মধ্যে এ ব্যাপারে সবাই সম্মত যে, ঋণচুক্তির ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি ও তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। এটি করা না হলে ভবিষ্যতে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে আদান প্রদানে অনিশ্চয়তা ও বিরোধ দেখা দিতে পারে। রাসূল (সা.)-এর সাহাবীদের দৃষ্টান্ত এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। সম্মানিত সাহাবীগণ ঋণচুক্তির ক্ষেত্রে যে পন্থা অবলম্বন করেছিলেন, সেটাই হলো সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য পন্থা। রাসূল (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তাঁকে জানানো হলো অগ্রিম ক্রয় (সালাম) চুক্তি হয়েছে যেখানে সময় ও পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। তখন রাসূল (সা.) বললেন, এই চুক্তিতে যারা অংশ নিবে তাদের উচিত সময় ও পরিমাণ সঠিকভাবে উল্লেখ করা।
৩.৪. ঋণচুক্তিটি লিখিত হওয়া : ঋণচুক্তিটি লিখিত হতে হবে এটি কুরআন কর্তৃক স্বীকৃত।
 আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! যখন কোন নির্ধারিত সময়ের জন্য তোমরা পরস্পরের মধ্যে ঋণের লেনদেন করো তখন লিখে রাখো। (সূরা আল বাকারাহ : ২৮২)
মুসলিম ফকীহদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। অধিকাংশ ফকীহর মতে, এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে লিখে রাখার উপর জোর দেয়া হয়েছে। তারা যুক্তি দেখান যে, যদি দু’পক্ষই না লিখিতে সম্মত হয় তবে তারা লিখা হতে অব্যাহতি পেতে পারেন। লিখার পক্ষে যুক্তি হলো ভবিষ্যতের যে কোন প্রকারের বিরোধ এড়ানো।
অপরদিকে আল-তাবারির মতে, কিছুসংখ্যক ফকীহ মত দেন যে, চুক্তি লিখিত হওয়া বাধ্যতামূলক। দুটি মতামতের মধ্যে প্রথমটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য। কেননা, দু’পক্ষেরই লিখা বা না লিখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
৩.৫. দুজন সাক্ষী থাকা : আল্লাহর বাণী হচ্ছে এই যে, ঋণ ও ব্যবসায় সংক্রান্ত লেনদেনের চুক্তি সাক্ষ্য প্রমাণাদিসহ লিখিত আকারে সম্পাদিত হওয়া উচিত। এর ফলে লোকজনের মধ্যে লেনদেন পরিষ্কার থাকবে। আল কুরআনে আল্লাহ বলেন, তারপর নিজেদের পুরুষদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে তার (লিখিত চুক্তিটির) সাক্ষী রাখো। (সূরা আল বাকারাহ : ২৮২)
হাদীসে এসেছে, ‘আল্লাহ রাসূল (সা.) বলেছেন, তিন ধরনের লোক আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে কিন্তু তাদের ফরিয়াদ শোনা হয় না। এক. যার স্ত্রী অসচ্চরিত্র কিন্তু সে তাকে তালাক দেয় না। দুই. এতিমের বালেগ হবার আগে যে ব্যক্তি তার সম্পদ তার হাতে সোপর্দ করে দেয়। তিন. যে ব্যক্তি কাউকে নিজের অর্থ ঋণ দেয় এবং তাতে কাউকে সাক্ষী রাখে না।
ফকীহগণ বলেন, যদি পুরুষ সাক্ষী না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলাকে সাক্ষী রাখতে হবে। ভবিষ্যতের যে কোন বিরোধ মোকাবিলায় এ এক অনন্য ঐশী সমাধান হাতে কোন সন্দেহ নেই।
৩.৬. প্রশাসনিক ফি ও সার্ভিস চার্জ : এটা খুবই স্বাভাবিক যে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্জে হাসানার প্রয়োগ করতে গেলে সেখানে প্রশাসনিক খাতে ও সেবাটি প্রদানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আর্থিক ব্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ব্যয় নির্বাহের জন্য কোন প্রকার ফি ও চার্জ ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে গ্রহণ করা অনুমোদিত কিনা এবং যদি অনুমোদিত হয়, তবে তার পরিমাণ কত হবে।
ফকীহ্গণ এ ব্যাপারে পরিষ্কার করেছেন যে, প্রশাসনিক ফি ও সার্ভিস চার্জ নেয়া ইসলামী শরীয়াহ’র পরিপন্থী নয়।
প্রখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ ড. ইরফান উল হক তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভ Economic Doctrines of Islam-এ উল্লেখ করেন যে, প্রশাসনিক খরচ নির্বাহ করতে ব্যাংকগুলো সর্বনিম্নহারে সার্ভিস চার্জ ঋণগ্রহীতার উপর আরোপ করতে পারে।
এস.এইচ. আমিনের মতে, এমন কিছু চার্জ যা যে কোন বিচারে সুদ নয় এবং প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য জরুরী তা আরোপ করা যাবে। কিন্তু অনেক সময় এ ব্যাপারে মতামত প্রদান অত্যন্ত কঠিন। প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যে ফি অনুমোদনযোগ্য তার জন্য ব্যয়ের খাতটি সুনির্দিষ্ট ও অপরিহার্য (যেমন, আইনজীবীর ফি) হতে হবে এটাই ইসলামী শরীয়াহ’র নির্দেশ, কিন্তু ব্যাংকের অন্যান্য সাধারণ ব্যয় এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। ব্যয়গুলোর হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত হবে।
“Central Shariah Board for Islamic Banks প্রদত্ত প্রথম “Islami Banking Award” প্রাপ্ত বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং জগতের প্রাণপুরুষ এম আযীজুল হক তিনি তার “Islami Banking for Social Justice” প্রবন্ধে বলেন, সুদমুক্ত ঋণ  (যেমন, কর্জে হাসানা) বিনিয়োগ থেকে ইসলামী ব্যাংকগুলো কোন প্রকারের আয় করে না এবং শরীয়াহ এর অনুমোদন দেয় না। যেভাবেই হোক, ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলো সরাসরি বিনিয়োগ নিয়োজিত ক্ষেত্রগুলো থেকে সার্ভিস চার্জ হিসেবে প্রশাসনিক ব্যয় আদায় করতে পারে। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জেদ্দাহ সুদমুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে ২% থেকে ৩% সার্ভিস চার্জ আরোপ করে। অন্যদিকে, সরকার বা অন্য কোন তৃতীয় পক্ষ প্রশাসনিক খাতে ব্যয়িত অর্থ পরিশোধ করতে পারে। পাকিস্তানে পল্লীঋণের ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে।
আলোচনার আলোকে বলা যায়, কর্জে হাসানা যদি কোন ব্যাংক বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান প্রদান করে, তবে তারা প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে সার্ভিস চার্জ আদায় করতে পারে। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি এ ঋণ দেয়, তবে তার জন্য সার্ভিস চার্জ নেয়া নির্ভর করে ঋণের পরিমাণের উপর। ঋণের পরিমাণ যদি এ পর্যায়ের হয় যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যেমন আইনজীবীর ফি. স্ট্যাম্প শুল্ক ইত্যাদির দরকার পড়ে, সেক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ দাবি করতে পারে। অন্যথায়, সার্ভিস চার্জ অনুমোদিত হবে না।
৩.৭. অতিরিক্ত বা পরিতোষিক প্রদান : এটা অত্যন্ত পরিষ্কার ঋণচুক্তির ক্ষেত্রে ঋণদাতা অতিরিক্ত প্রদানের কোন শর্ত আরোপ করতে পারবে না। যদি এ ধরনের কোন শর্ত থাকে তবে তা রিবা বা সুদ বলে বিবেচিত হবে। তবে ঋণগ্রহিতাকে পরামর্শ দেয়া হয়। ঋণদাতাকে উপটৌকন প্রদানের জন্য। এটা এজন্য যে, কর্জে হাসানা একটি ঐচ্ছিক দান। এ দানকে উৎসাহিত করার জন্য উপটৌকন প্রদান প্রেরণার প্রতীক। একটি হাদীসে এসেছে, জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর দান। এ দানকে উৎসাহিত করার জন্য উপটৌকন প্রদান প্রেরণার প্রতীক। একটি হাদীসে এসেছে, জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূলের (সা.) নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল এবং তিনি আমাকে অতিরিক্ত পরিশোধ করেছিলেন। আবার আবু রাফি বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) কোন একজন থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক মাদী উট ধার করেছিলেন। যখন তিনি উটের যাকাত গ্রহণ করলেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন ঐ লোকটিকে একটি পূর্ণবয়স্ক মাদী উট প্রেরণ করতে। আমি আল্লাহর রাসূল (সা.) কে বললাম, আমি এখানে ঐরূপ কোন উট দেখতে পাচ্ছি না, একটি রয়েছে যেটি সন্তান সম্ভবা। রাসূল (সা.) বলেন, এটাই তাকে দিয়ে দাও, প্রকৃতপক্ষে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে ঋণ করলে পরিশোধের সময়ে পারিতোষিক হিসেবে কিছু অতিরিক্ত প্রদান করে। (আল মুয়াত্তা ও ইমাম মালিক)
“যে কোন ঋণ যা মুনাফা দেয় তা রিবা” এই মন্তব্যটি আসলে রাসূলের (সা.) এর কোন হাদীস নয়। কেননা হাদীস বিশারদদের মতে, ঐ হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে ধারাবাহিকতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া ফকীহদের মধ্যে অতিরিক্ত প্রদানের বৈধতা নিয়ে মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের মতামত হলো যদি চুক্তির শর্ত হিসেবে আসলের উপর অতিরিক্ত প্রদানকে জুড়ে দেয়া হয়, তবে তা সুদ হবে যা ইসলামে নিষিদ্ধ। অন্যথায় ঋণগ্রহিতা খুশি হয়ে কিছু অতিরিক্ত দিলে তা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ হবে না।
মালেকী মাযহাবের মতে, অতিরিক্ত প্রদান নির্ভর করে ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্যের উপর। যদি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ নেয়া হয়, সেক্ষেত্রে পরিমাণগতভাবে বা গুণগতভাবে অতিরিক্ত প্রদানের বিষয়টি চুক্তির শর্তাধীন হতে পারে। অন্যথায় ঋণ যদি মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য নেয়া হয়, সেক্ষেত্রে ঋণদাতার পক্ষে কোন প্রকার অতিরিক্ত গ্রহণ সঠিক হবে না।
বস্তুত অতিরিক্ত প্রদান করা হবে কি হবে না এটা ঋণগ্রহীতার উপর নির্ভর করে। তবে চুক্তির শর্ত হিসেবে অতিরিক্ত প্রদানকে কখনো অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ