ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরগঞ্জে যত্রতত্র গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : সরকারি বিধি মোতাবেক নদী ও জলাশয়ের ধারে ,পরিত্যক্ত গোচারণ ভূমি, যেখানে আবাদি জমি এবং বসতবাড়ি নেই সেখানে ইটভাটা স্থাপন বা গড়ে তোলার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তুু তা মানা হচ্ছে না। বিধি উপেক্ষা করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার যত্রতত্র গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। যা পরিবেশ দুষণে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন অভিজ্ঞ মহল।
উপজেলার রামজীবনে ১টি, সোনারায়ে ২টি এবং ছাপড়হাটি ইউনিয়নে ১টিসহ মোট ৪টি ইটভাটা গ্রামীণ হাইওয়ে সড়কের সাথে আবাদি জমি ও বসতবাড়ির মাঝে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, অটো মেইল বা জুট মেইল বানিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের চাকরি দেয়ার কথা বলে জমি ক্রয় করে নিয়েছে। অথচ এখন তারা চিমনি ইটভাটা দিচ্ছে। যা ভবিষ্যতে আমাদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইতিমধ্যে ইটভাটা তৈরির কাজ শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।
কৃষিবিদরা জানান,আবাদি জমি এবং বসতবাড়ির মাঝে ইটভাটা গড়ে তোলা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সুপারি,নারিকেল,তাল,খেজুর গাছের ফলন অনেকটা কমে যাবে। চিমনির ধোঁয়ার কারণে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
উপজেলায় ১০টি ইটভাটা রয়েছে। নতুন করে স্থাপন করা হচ্ছে আরও ৪টি ইট ভাটা। প্রতি বছর ইট তৈরির জন্য আবাদি জমির উর্বর মাটি চড়া দামে কিনে নিচ্ছে ভাটা মালিকরা। এ কারণে ওইসব জমিতে ৫হতে ৬ বছর পর্যন্ত চাহিদা মোতাবেক ফলন হচ্ছে না।
ছাপড়হাটি ইউনিয়নের কৃষক ফয়জার রহমান জানান, প্রতিবছর ১ বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ করে যে টাকা মুনাফা আসে তার চেয়ে জমির মাটি বিক্রি করা অনেক ভাল। এতে অনেক বেশি টাকা মুনাফা পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ইটভাটা মালিক জানান, মানুষ এখন আর টিন এবং খড়েঁর ঘর উঠায় না। দিন দিন ইটের ঘর তৈরির চাহিদা বেড়েই চলছে। যার কারণে দিন দিন ইটভাটাও বেড়ে চলছে। ইটভাটা না থাকলে অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদির ভিত্তিতে ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে।
 ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের ইটভাটা মালিক রানা মিয়া অনিয়মভাবে ইটভাটা গড়ে তোলায় ওই এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়। যার কারণে সরকারি বিধি মোতাবেক ফসলের ক্ষতিপুরণ বাবদ প্রায় ৩ লাখ দিয়েছে ইটভাটা মালিক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সামিউল আমিন জানান, নতুন ইটভাটা মালিকদের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি অফিসে জমা দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ