ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রামপালে নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা

মোঃ রেজাউল ইসলাম, রামপাল (বাগেরহাট) থেকে : রামপাল সদরে উপজেলার তরকারির বাজারে গিয়ে সুজন মজুমদার নামের এক ক্রেতাকে ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনতে দেখা গেল। তার কাছে দাম জানতে চাইলে তিনি জানান, ১শ গ্রাম মরিচ কিনতে তাকে ২০ টাকা গুনতে হয়েছে। অপর ক্রেতা শিক্ষক নাজমুল হুদা ৬০ টাকা দরে বেগুন কিনলেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হল আয়ের সাথে দ্রব্যাদি ক্রয়ের সংগতি আছে কি না ? তিনি জানান, শিক্ষকতার চাকুরি করে যে, বেতন ভাতাদি পাই তা দিয়ে সারা মাসের সাংসারিক খরচ খুবই দুঃসাধ্য। ছেলে মেয়ের লেখাপড়া. সংসার খরচ ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার উপর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রবাদির দাম আকাশ ছোঁয়া।
কথা হয় দিন মজুর রাজ্জাক আলীর সাথে। সে জানায়, হঠাৎ করে রাতারাতি একলাফ দিয়ে চালের দাম কেজিতি ১০/১২ টাকা বেড়ে যাওয়ায় খুব চোটে ভারি বিপদে পড়িছি, দাম ও কমে না। এভাবে দাম বাড়তি থাকলি আমরা আর বাইচে থাকতি পারব না। আমাগো সরকার এসব দেকলি আমরা এটটু বাচতি পারতাম। বৃহস্পতিবার ৪টায় রামপাল সদরের তরকারির বাজারের দোকানদার ফারুক শেখ জানান, পাইকারী বাজারে বেশী দাম দিয়ে মালামাল কিনতে হচ্ছে। প্রতি দিন মালের দাম বাড়তি।
তিনি ঐ দিন ২শ টাকা দরে কাঁচা মরিচ, ৬০ টাকা বেগুন, পটল ৪০ টাকা, ধেড়শ ৪০ টাকা, জলপাই ৬০ টাকা, প্রতি কেজি কচু ৩৫ টাকাসহ অন্যান্য তরকারি ও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পিয়াজের ঝাঝ এখনও কমেনি। দেশী পেয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। চালের ব্যবসায়ী নুর ইসলাম জানান, মিনিকেট চাল পূর্বে ৭০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের মোটা চাল পূর্বের তুলনায় ২ থেকে ৩ টাকা কমে বিক্রি করা হচ্ছে।
ক্রেতারা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং না থাকায় দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এ ব্যপারে বাজার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি জানান সরকারিভাবে সর্বক্ষণ বাজার মনিটরিং করা হয়। কোথাও কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে থাকি এছাড়া ও ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়। রামপালে বড় ধরনের আড়ৎদার বা মজুদদার নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ