ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কপিলমুনি বাজারের অলিগলি দখলের রাজত্ব চলছে

খুলনা অফিস : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজারে অলিগলি দখলের রাজত্ব চলছে। ফলে একদিকে যেমন সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে বাজারটি, অন্যদিকে স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কপিলমুনি বাজারটি খুলনা জেলার বৃহৎ পুরাতন বাজার। বাজারটির স্থপতি প্রখ্যাত সমাজ সেবক স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু। সময়ের প্রয়োজনে তিনি বাংলা ১৩৩৯ সালে ‘বিনোদগঞ্জ’ নামে বাজারটি স্থাপন করেন। কালের পরিক্রমায় এখন ‘কপিলমুনি বাজার’ নামে পরিচিতি গড়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারা ব্যবসায়ও সফলতা পেয়েছেন। বাজারটির সম্প্রসারণ ঘটতে ঘটতে বর্তমানে প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা হয়েছে। একদিকে প্রধান সড়ক ঘেঁষা, অন্যদিকে কপোতাক্ষ নদীর কোল, সবমিলে বাজারের অবস্থান অত্যন্ত ভাল। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন যারা প্রতিনিয়ত বাজারের অলি-গলি নিজের দখলে নিতে বরাবরই চেষ্টা করেন। বর্তমানে দখলের সেই চিত্রটি চরম আকার ধারণ করেছে।
সূত্র জানায়, যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় কপিলমুনি বাজারের প্রধান সড়কসহ অলিগলি দখলের বিষয়টি সেনা কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তখন তাদের নির্দেশে বাজারের রাস্তা প্রশস্ত করা হয়। এমনকি অলি-গলিতে দোকানের সামনে সিড়ি, বারান্দা তৈরী, পলিথিন টাংগানো, খাট দেওয়াসহ অবৈধভাবে রাস্তা সংকুচিত করার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী শক্ত অবস্থান নেয়। তখন এগুলো উচ্ছেদ করা হয়।
বর্তমানে বাজারটির ভেতরে সরেজমিনে গেলে ঠিক সেই আগের মতো দখলের পরিবেশ নজরে আসে। মসজিদ সড়ক, মুদিপট্টি, কসমেটিক্স পট্টি, কাপড়পট্টি, কাঁচাবাজার, ফলপট্টি, প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন দোকানের সামনে যে যেভাবে পারছে অলি-গলি একটু একটু করে দখলে নিচ্ছে। দোকানের প্রথমে মাটি ফেলে, পরে ইট ফেলে, তার কিছুদিন পর একেবারে রাজমিস্ত্রী দিয়ে পাকা করা হচ্ছে।
একটু একটু করেই সংকুচিত হচ্ছে রাস্তাসহ অলি-গলিগুলো। শুধু তাই নয়, এক শ্রেণির দোকানীরা রাস্তার পরেই মালামাল রাখেন। এ কারণে বাজারের ভেতরে ভ্যান সাইকেল চলাচলসহ পণ্যবহনে মারাত্মকভাবে বিঘœ ঘটছে। এমন চিত্র দীর্ঘ দিনের, কিšুÍ সংশ্লিষ্ট কর্তাদের যেন মাথা ব্যথা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাজারটির প্রায় সকল রাস্তা দোকানদাররা চাল দিয়ে, পলিথিন টাঙিয়ে ও খাট দিয়ে কৌশলে দখলে নিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে হয়তো যাতায়াতেরও পথ থাকবে না’।
কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কপিলমুনির মসজিদ সড়কসহ কয়েকটি গলি কতিপয় দোকানদাররা দোকানের সামনে বারান্দা বাড়াতে বাড়াতে দখলে নিচ্ছেন, যা এ বাজারের জন্য হুমকি স¦রূপ, তাই আমি এ অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান ও হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. কওছার আলী জোয়ার্দার বলেন, ‘জনগণের রাস্তা দখলের কাজ ভাল নয়, রাস্তার উপর টল দোকান রাখা হবে না। যারা আইনের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দখল উৎসব চালাচ্ছেন আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো আপনারা বাড়তি স্থাপনা ভেঙ্গে নিন, তা না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ