ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মনগড়া হালনাগাদ গৃহকর এসেসমেন্ট নিবর্তনমূলক

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিশন-ভিশন বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য সরকারি সেবাদানকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও কর্ণধারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার অনুসৃৃত নীতিমালা ও উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মূলোৎপাটন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ সকল সংস্থাগুলোর মধ্যে একশ্রেণির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতি-অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় নগরবাসীর নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি সেবা সংস্থার প্রধান ও কর্মকর্তারা দলের যত বড় নেতা বা সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা হোন না কেন, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কাজ-কর্মের বিচার-বিশ্লেষণ ও সমালোচনার সংস্কৃতি চর্চা গড়ে তুলতে হবে। আত্মসমালোচনার মধ্যদিয়েই সরকার অনুসৃত কর্মকান্ডে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি শুধরে নিতে না পারলে সকল ব্যর্থতার জন্য দল ও বর্তমান জনকল্যাণমুখী সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই কোন সমালোচনাকে বাঁকা চোখে দেখা সমিচীন নয়। ভুল-ভ্রান্তি শুধরে সরকারি উন্নয়ন উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুততর করা সম্ভব হলে দল ও সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিপাবে। তিনি আজ সকালে তার চশমা হিলস্থ বাসভবনে চট্টগ্রাম মহানগরীর নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব ও সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতায়। এই দলের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে যে কর্তৃপক্ষকেই দায়িত্ব দেন না কেন তা যেন অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিক হিসেবে আমাদের সমান দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা ও সমন্বয়ের অভাবে দৃশ্যমান নাগরিক দুর্ভোগ প্রকট হয়ে উঠেছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যারা দল থেকে মন্ত্রী, এম.পি, জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তাদের অনেকেই এখন ব্যক্তিগত আখের গোছানোর প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। তিনি আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার সমস্যা, ভুল-ভ্রান্তি, অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরে অবিলম্বে সমাধানের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো আমার এ আর্জি ও আকাক্সক্ষাকে তাঁরা বাঁকা চোখে দেখেছেন। আমি কখনো চাইনি সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হোক এবং নিজেদের সৃষ্ট দুর্বলতা ও অযোগ্যতার সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী দল যেন ইস্যু তৈরি করে সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, জনগণের সাথে থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে আমার বেড়ে ওঠা। কেউ যদি জনগণের মনের ভাষা পাঠ করতে না পারেন এবং ক্ষমতার অহংবোধে ভোগেন তিনি কিছুতেই রাজনীতিক হতে পারেন না। তাই আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মনগড়া হালনাগাদ গৃহকর এসেসমেন্ট অযৌক্তিক এবং নিবর্তনমূলক। নগরীর জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগের বেহাল অবস্থা নিরসন ও প্রায় অর্ধেক ওয়ার্ডে নাগরিক সুবিধা-সেবার মান নিশ্চিত না করে ঢালাও ভাবে কয়েকগুণ বেশি গৃহ কর ধার্য্য করা নগরবাসীর গলাকাটার সামিল। এর বিরূপ প্রভাবে আজ নগরবাসী সংক্ষুব্ধ। তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কম করে ৪টি ড্রেজার দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে নিয়মিত ড্রেজিং পরিচালিত হলে এসমস্যার আশু সমাধান হতো। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ লোক দেখানো ড্রেজিং করলেও এর সুফল তো আসেইনি বরং কুফল বয়ে এসেছে। কোটি কোটি টাকার অর্থের অপচয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অতুলনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ন্যাশনাল গ্রিডে সিংহভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। অথচ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম  ও বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে ভয়াবহ লোড শেডিং জীবনযাত্রাকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল দিয়ে গ্রাহকদের হয়রানী করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ চরমভাবে ব্যর্থ। গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় গৃহস্থালী রান্না-বান্না ও কাজ কর্ম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প-কারখানায় গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে বিশাল অংকের উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েকটি উড়াল সেতু বাস্তবায়িত করার ফলে কিছুটা সুফল এলেও বহদ্দারহাট থেকে লালখান বাজার, বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও কর্ণফুলী দ্বিতীয় সেতু পর্যন্ত যানবাহন চলাচল কয়েক বছর ধরে বেহাল হয়ে পড়েছে। উড়াল সেতুর নিচে দু’পাশে রাস্তাগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একই প্রকল্পে আলাদা বরাদ্দ থাকলেও এই সড়কগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে অনুপোযোগী এবং এ কারণে দৃশ্যমান জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনীর গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে। তারা জঙ্গিবাদ ও নাশকতা নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, পুলিশ বাহিনীর কিছু দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসায় ইন্ধন যোগাচ্ছে। তারা নানাভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। এদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষকে সচেতন থাকতে হবে। তা না হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আর্দশ এবং আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেককেই জনগণের পাশে থাকতে হবে। তাই আমি জনগণের পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রধান ও কর্ণধারদের দৃশ্যমান সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছি। আশাকরি, তারা এই জনপ্রত্যাশা পূরণে আন্তরিক হবেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ