ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শ্যামনগর পল্লীতে এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): যে ঘরের মধ্যে জলজ্যান্ত দু’জন মানুষ থাকে, সে ঘরে কেউ কিভাবে আত্মহত্যা করতে পারে এমন প্রশ্ন তুলেছেন রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু রুপালীর মা বুলি দাসী। ঘটনাটি ঘটেছে শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জের বাঘ বিধবা পল্লীতে। গত মঙ্গলবার বুলি দাসীর একমাত্র কিশোরী মেয়ে রুপালীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার মায়ের অভিযোগ। তবে টাকা পয়সা না থাকার দরুন তিনি অভিযুক্তদের প্রভাবপ্রতিপত্তির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন। বুলি দাসীর দাবি ঘটনার পর স্থানীয় এক প্রাক্তন ইউপি সদস্য তার একমাত্র ছেলে উত্তমকে দিয়ে বোন রুপালী আত্মহত্যা করাইয়েছে  লিখিত এজাহারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। হত্যাকান্ডকে আড়াল করতে ই তার সাথে আলোচনার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ছেলে উত্তমকে উঠিয়ে নয়ে তাকে ধমক দিয়ে েিজদের প্রস্তুতকৃত কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়। উক্ত  আত্মহত্যা ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পক্ষে নানা সময়ে হুমকি ধমকিসহ ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ফান, জামার ছেঁড়া বোতাম ও প্যান্টের বেল্ট উদ্ধারের ঘটনা তার মেয়েকে হত্যার দাবিকে জোরালো করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। উল্লেখ্য গত ৮ আগষ্ট  দুপুরের দিকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ব্ঘ বিধবা পল্লীতে রুপালী নামের (১৪) বছরের কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় বোনকে প্রতিবেশীর বখাটে ছেলে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা দু’জনকে আটকে রাখার সময়ে তার বোন আত্মহত্যা করে মর্মে অভিযোগ এনে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলাটিকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় রেকর্ড করে পুলিশ। নিহত রুপালির মা বাঘ বিধবা পল্লীর বুলিদাসী  ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তার মেয়ে বাজারের একটি টেইলারিং হাউজে কাজ করতো। বেলা ৯ টার দিকে কর্মস্থলে বের হয়ে যাওয়ার ঘন্টা খানেক বাদে প্রতিবেশী প্রতিমা মন্ডল এসে তার মেয়েকে একই এলাকার বিকাশ মন্ডলের ছেলে রাজুর সাথে পাশের একটি ঘরের মধ্যে অবস্থান করার সময় স্থানীয়রা আটক করেছে বলে জানায়। বুলিদাসী বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে মেয়ের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি জানতে পারেন সে টেইলারিং হাউস বন্ধ দেখে বাড়িতে ফেরার পথে রাজু তাহাকে জোরকরে টেনে হেচড়ে ঐ ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। কিছু সময় পরে স্থানীয় রুহুলআমিন, আব্দুর রব, মহিদুল সহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে রাজুকে একটি থাপ্পড় মেরে বের করে দেয় এবং তাকে আটকে রেখেছে। বুলি অভিযোগ করে বলেন, তিনি মেয়েকে ঘটনাস্থল থেকে বাড়িতে ফিরতে চাইলে মহিদুল তাকে বাড়ি ফিরে তাকে মেয়ের জন্য রান্না বান্নার কথা বলে সেখান থেকে ভাগিয়ে দেয়। এমনকি তার মেয়েকে নিজের দায়িত্বে  ভাল পাত্র দেখে বিয়ে দেয়ার আশ্বাস বাণী শুনিয়ে রফিকুল ইসলাম তকে দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে বলে। বুলি দাসী অভিযোগ করে বলেন, তাকে যখন মেয়ে রেখে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয় সে সময় ঐ ঘরের মধ্যে (সেখানে রুপালীর মৃত দেহ আবিষ্কার করা হয়) খাটের উপর রুহুল আনি শুয়ে ছিল। এ ছাড়া ঘরের মালিক পূর্ণিমা মন্ডল ঘরের বাইরে এবং রুপালী ঘরের দরজার ভিতরে দাঁড়িয়ে ছিল। বুলি আরো বলেন, মেওয়র দায়িত্ব তারা নিচ্ছে জানিয়ে রান্নার জন্য বাড়িতে ফিরতে বাধ্য করার ঘন্টা খানেক পর ওই পূর্ণিমা এসেই তাকে মেয়ের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার খবর শোনায়। বুলি দাসী আরো অভিযোগ করে বলেন, পূর্ণিমা ও রফিকুলের উপস্থিতি তার মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা নিছক মিথ্যা। মূলত তার মেয়ের শ্লালীনতাহানীর পর বা শ্লালীনতাহানীর চেষ্টার সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে বিষয়টি লুকানোর জন্য আত্মহত্যার নামে মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে।  রুপালীর মা বুলি দাসী বলেন, অর্থ ও প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে  তারা পেরে উঠবেন কিনা জানে না। তবু পিতৃহারা  কন্যার মৃত্যুর ঘটনায জড়িতদের শাস্তির দাবি থেকে তিনি পিছু হঠবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ