ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সঞ্চয়পত্র বিক্রির এক তৃতীয়াংশ অর্থ ব্যয় হচ্ছে সরকারের দেনা পরিশোধে

শাহেদ মতিউর রহমান : সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের এক তৃতীয়াংশ অর্থই সরকারের বিভিন্ন দেনা পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ার কারণে একদিকে যেমন অর্থ জমা হচ্ছে তেমনি অতিরিক্ত অর্থ থেকেই ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারের নানা খাতে।
সূত্রমতে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে পাওয়া ১৩ হাজার ৮১৭ কোটি টাকার মধ্যে চার হাজার ৭৮৮ কোটি টাকাই ব্যয় হয়েছে আগে বিক্রি হওয়া স্কিমগুলোর মূল ও মুনাফা পরিশোধ বাবদ। এর মধ্যে শুধু মুনাফা পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৭০২ কোটি টাকা। সবশেষে নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ২৮ কোটি টাকা।
এদিকে সঞ্চয়পত্রে টাকা খাটিয়ে ব্যাংক আমানতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সুদ পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সঞ্চয়পত্রের চাহিদার কারণে বিক্রি বাড়ছে ব্যাপক। এই বাড়তি অর্থের কারণে সরকারকে সুদ গুনতে হচ্ছে বেশি। তবে এরপরেও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সঞ্চয়পত্রের সুদ না কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই বয়স্ক নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকদের এ ধরনের সামাজিক সুরক্ষা দেয়া হয়। তাই আমাদের দেশেও পরিবার ও পেনশনারদের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ওপর দেয়া সুদহার না কমানোই সমীচীন হবে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের হালনাগাদ করা মাসিক বিনিয়োগ বিবরণী থেকে জানা গেছে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট নয় হাজার ২৮ কোটি টাকা পেয়েছে সরকার। ফলে গত আগস্টে প্রথমবারের মতো সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণ দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সঞ্চয় পরিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে সরকারে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২৬৫ কোটি টাকা। গত জুলাই শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণ ছিল এক লাখ ৯৬ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। আগস্টে নিট তিন হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা যোগ হওয়ায় মোট স্থিতি দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে দাঁড়িয়েছে।
সঞ্চয়পত্রে বিপুল অংকের এ ঋণ সরকারের ব্যয় বাড়াচ্ছে। সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে নেয়া ঋণে সরকারকে ১১ শতাংশের বেশি সুদ ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ বর্তমানে ব্যাংক থেকে সরকার সাত শতাংশের কম সুদে তিন থেকে ২০ বছর মেয়াদি ঋণ পাচ্ছে।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরই বিদেশি উৎসের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেয় সরকার। কয়েক বছর আগেও ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎসের বেশিরভাগই আসত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্টো চিত্র দেখা দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকে সরকারের ঋণ ১২ হাজার ৩৭ কোটি টাকা কমে নেমেছে এক লাখ এক হাজার ২৮৭ কোটি টাকায়। গত অর্থবছর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ৩৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আগে নেয়া ১৮ হাজার ২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করে। আর সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়া হয় ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে এবং ব্যাংক থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ