ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আরো ৭ মাস সময়

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) হাতিরঝিলের বহুতল ভবনটি ভাঙতে আরো সাত মাস সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে আদালত বলেছেন এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেয়া হবে না।
গতকাল রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন-বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
গত ২৩ আগস্ট বিজিএমইএ পক্ষে সংগঠনের সভাপতি ভবন ভাঙ্গতে আরো এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে। পরে গত ১১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ ৫ অক্টোবর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি পাঠিয়ে দেন।
আদালতে রাজউকের পক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে বিজিএমইএর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম।
আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম বলেছেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর  থেকে এ সাত মাস গণনা শুরু হবে।
এরআগে ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল বিজিএমইএ। চলতি বছরের ১২ মার্চ আদালত ছয় মাস সময় দেন। সেই হিসাবে ১১ সেপ্টেম্বর ওই সময় শেষ হয়। কিন্তু এর আগেই গত ২৩ আগস্ট এক বছর সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করে বিজিএমইএ।
গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙ্গতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে বলেন। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন। ১২ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করের ছয় মাস সময় দেন ভবন সরাতে।
২০১৬ সালের ২ জুন বিজিএমইএর করা লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে যায় আপিল বিভাগে। ওই বছরের ৮ নবেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিজিএমইএ’র ১৬ তলা ভবনটি অবিলম্বে সংগঠনের নিজ খরচায় ভেঙে ফেলার পুর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে ৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন করে বিজিএমইএ।
এর আগে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দেয়া হয়। ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে বিজিএমইএ ভবন একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে  ফেলতে নির্দেশ  দেয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলো। এ ক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচা আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ