ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত ইবতেদায়ীকেও জাতীয় করণের দাবি শিক্ষকদের

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয় করণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা সাগর আহমেদ শাহিন, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, হাফেজ আনোয়ার হোসাইন জুয়েল, যুগ্ম মহাসচিব আবু মুছা ভূইয়া। উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হিরন, সহ-সভাপতি মাওলানা মোঃ শাহজাহান, সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম ফরাজী, দপ্তর সম্পাদক ইনতাজ বিন হাকিম, জিয়াউল হক জিয়া, এবিএম আব্দুল কুদ্দুস, মোঃ সামছুল আলম, সরদার কামাল উদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, নাসরিন বেগম, ফেন্সী খাতুন, আব্দুর রশিদ, আলতাফ হোসেন, মোখলেছুর রহমান, আব্দুল হান্নান, রেজাউল করিম, মফিজুল, আবুল কালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন- ১৯৯৪ইং সনে একই পরিপত্রে রেজিষ্ট্রার বেসরকারি প্রাইমারী ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে বিগত সরকারের সময়ে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি হতে হতে ২০১৩ সনে ৯ জানুয়ারি বর্তমান মহাজোট সরকার ২৬১৯৩টি বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় সকাল ০৯ থেকে বিকাল ০৪টা পর্যন্ত সরকারি একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় ইবতেদায়ী ৫ম শ্রেণী শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ন্যায় সরকারের সকল কাজে অংশগ্রহণ করে। অথচ মাস শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ২২-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায়। কিন্তু ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকগণ তেমন কোন বেতন ভাতা পায় না তবুও তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, মাত্র ১৫১৯টি ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকগণ সর্বসাকুল্যে প্রধান শিক্ষক ২৫০০টাকা, সহকারী শিক্ষক ২৩০০ টাকা ভাতা পায় বাকি মাদরাসা শিক্ষকরা ২৯ বছর যাবৎ বেতন ভাতা হতে বঞ্চিত। যা এই দুরমূল্যের বাজারে অমানবিক শিক্ষকদের অবমাননা ছাড়া কিছুই না।  শাহজাহান আলী বলেন- লেখাপড়া শিখে শিক্ষকতা পেশায় এসে পিতামাতার খেদমত ও তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকরা বেতন ভাতা না পাওয়ায় বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা অধিদপ্তর হইতে বহু সুপারিশ প্রেরণ সহ শিক্ষামন্ত্রণালয় অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয় নাই। বিগত ১৯৯৪ইং সালে সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসায় কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত থাকলেও তা পূরণ করা হয়নি।
বক্তারা বলেন, ঘোষণা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ