ঢাকা, সোমবার 9 October 2017, ২৪ আশ্বিন ১৪২8, ১৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তেরখাদার জয়সেনা-গাজিরহাট সড়কের একাংশ চিত্রা খালগর্ভে বিলীন হবার পথে

খুলনা অফিস : অতি বর্ষণে খুলনার তেরখাদা উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ জয়সেনা-গাজীরহাট সড়কের জয়সেনা, পানতিতাসহ ১৮/২০টি স্থানে চিত্রা খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার এক বছর পার হলেও ভাঙন রোধে আজও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এতদিন ধরে সড়ক সংশ্লিষ্টরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। জয়সেনা-গাজিরহাট সড়কের এই অংশের উন্নয়ন/পাকাকরণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কয়েকমাস পরে চিত্রা খাল খননের কাজ শুরু হয়। খাল খনন হওয়ার পর শুরু হয় বর্ষা মওসুম। ওই মওসুমেই সড়কের ১৮/২০টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। ফলে শুরু হয় জনসাধারণের চরম ভোগান্তি। বছর পার হলেও ভোগান্তির অবসান হয়নি আজও।
এ সড়ক নির্মাণের পর জনসাধারণের একস্থান থেকে অন্য স্থানে অতি সহজে যাতায়াত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। শিশু-বৃদ্ধসহ সকল শ্রেণি-পেশার লোকদের ক্লান্তি এবং হতাশা ঘুচে যায়। তেরখাদার পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সাথে সাথেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছাতে সক্ষম হয়। রোগী সাধারণের যাতায়াতে সকল প্রকার সমস্যা দূরীভূত হয় কিন্তু হঠাৎ করে সড়কের উক্ত স্থানগুলোতে ভাঙন শুরু হওয়ায় জনমনে আবার হতাশার জন্ম নিয়েছে। সড়ক নির্মাণের সময় সড়কের কোন স্থানে পাইলিং বরাদ্দ ছিল না।
 ফলে ঠিকাদার যতটুকু পারেন নিজ উদ্যোগে পাইলিং করে কোন মতে সড়কটি টিকিয়ে রাখেন কিন্তু ওই অপর্যাপ্ত পাইলিং সড়কের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে না। দ্রুত উক্ত স্থানগুলোতে ভাঙন রোধে পাইলিং না করলে সড়কের সবটুকু অংশ ভেঙে খালে বিলীন হতে পারে এমনি আশংকা করেছেন সড়কে চলাচলকারী সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ। তেরখাদা উপজেলার এই জনগুরুত্বপূর্ণ জয়সেনা-গাজিরহাট সড়কটি স্বাধীনতার পর থেকে অবহেলিত ছিল। দীর্ঘ কয়েকযুগ ধরে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এক সময় সড়কে যাতায়াতকারীরা বর্ষা মওসুমে হাটু কাদা ভেঙ্গে যাতায়াত করত। বহু প্রতীক্ষার পর এবং চড়াই উৎরাই করে সড়কটির উন্নয়ন সাধিত হয়।
সড়কের ভাঙন কবলিত স্থানগুলোতে এখন যে অবস্থায় আছে তাতে উক্ত স্থান দিয়ে কোন মতে পার হওয়া যাচ্ছে। ভাঙন এলাকায় পাইলিং এর ব্যবস্থা করা না হলে আরও ভাঙন লাগতে পারে। আর যদি তাই হয় তাহলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কে যাতায়াতকারীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে। সড়কটুকুর পুরা অংশ ভেঙে গেলে সব ধরনের যানবহন ও পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
এ সড়কে প্রতিদিন যাতায়াতকারী জয়সেনা, পানতিতা, পশ্চিমকাটেঙ্গা বারাসাত, বামনডাঙ্গা, হরিদাসবাটি, চালিতাতলাসহ পশ্চিম এলাকার মানুষের একমাত্র দাবি উঠেছে বিলীন হয়ে যাওয়া সড়কটুকুর মেরামত কাজ কবে হবে? বা আদৌ হবে কিনা এ নিয়েও জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ