ঢাকা, মঙ্গলবার 10 October 2017, ২৫ আশ্বিন ১৪২8, ১৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কবিতা

নিস্তব্ধ নিশীথ
তাসনীমা জান্নাত মুনিয়া

নিথর সব তরুলতা
প্রায় সকল প্রাণী ঘুম।
নিশাচরেরা আস্তে এগোয়
চারদিক ঘিরে আছে নিঝুম।


ছিমছাম,
দু’-একটা ডাক দূর থেকে যায় শোনা,
কখনো কোকিল, কখনো বিড়ালছানা।
শান্তির বাতাস বইছে,
কেউ ঘুরছে স্বপ্নের রাজ্যে,
কেউ আনমনে, ভাবছে।

ভুলে গেছে তারা
রবের অনুগ্রহের কথা।
তাই তো সুখে কাটে রাত,
নেই তো কোনো ব্যথা।

রব যে অপেক্ষায় আছেন,
নেই ভাবনা কিঞ্চিৎ।
বয়ে যাচ্ছে হাজার বছর,
যাচ্ছে নিস্তব্ধ নিশীথ।
তবু নেই সারা।
নেই কোনো শব্দ, শুধু
দু’-একটা ক্রন্দন ছাড়া।


পথ হাঁটি ক্রমাগত
তামীমা

আমি একদিন কবি হতে চেয়েছিলাম
স্বপ্নগুলোকে গাঁথতে চেয়েছিলাম পঙ্ক্তিমালায়
শঙ্খচীল হয়ে উড়তে চেয়েছিলাম মুক্ত ডানায়
কার্তিকের কাক হয়ে কাঁঠাল ডালে আর
ধান শালিকের বেশে ফিরতে চেয়েছিলাম।

একদিন কবিতার মাঝে ভেসে উঠল অস্পষ্ট মুখখানি
আৎকে উঠে দেখি এতো আযমী নাকি আরমান?
হঠাৎ, আইলান কুর্দিকে দেখি ভাসমান
দেখি উন্মত্ত তিস্তার পাড়ে একটুকরো বিদ্ধস্ত বাংলাদেশ
নাহ, এতো কাটাতারে ঝুলন্ত রক্তাক্ত ফেলানী।

আমার কলম থেমে গেল আবরাহার হাতির মত
দিগ্বিদিক পালাতে লাগল পিছু ফিরে
আমি আর কবি হতে চাইনা আর্তচিৎকারে
সবটুকু কালি বিদ্রোহ করে জমাটবদ্ধ হল
বাস্তবতার তীক্ষ্ণ ছোরায় হৃদয় হল ক্ষতবিক্ষত।

জলরঙের আঁচড় টানছিলাম একদিন সাদা পটে
হঠাৎ, সবটুকু রঙ কেমন রক্তিম হয়ে
অঙ্কিত পটে প্রস্রবণ গেল বয়ে
বর্মিসেনা, অনেক পর্বত, জঙ্গল, মাইন, রক্তনদী
অনেক লাশ আর অসংখ্য মৃত্যুমুখ পেরিয়ে দাঁড়িয়েছি নাফতটে

আমার শিল্পী হবার সবটুকু স্বপ্নসাধ
খাব্বাবের মত সাগরে হারিয়ে গেল অনায়াসে
বেনীআসহকলা জীবন্ত হয়ে ওঠে না ক্যানভাসে
আঙ্গুর, ফারাজ, রাকিব লিমনদের ডাক শুনি,
গদ্যময় পৃথিবীতে বনী আদমের আর্তনাদ।

আজ অন্ধকার পৃথিবীর পথে পথ হাটি ক্রমাগত
একজন তারেক বিন যিয়াদ, সীমান্ত ঈগল খুঁজি
বখতিয়ার খলজীর অশ্বক্ষুর ধ্বনি ভেসে আসে ঐ বুঝি
পূর্বাশায় দেখ শুকতারা? প্রভাত কি সমাগত?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ