ঢাকা, মঙ্গলবার 10 October 2017, ২৫ আশ্বিন ১৪২8, ১৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যুদ্ধ নয় শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান চায় বাংলাদেশ -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, কোন সমস্যাটার সমাধান হয়েছে যুদ্ধ করে? এটা তো সমাধান না।

গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো এবং মিয়ানমারসহ আসিয়ান জোটের সদস্য রাষ্ট্রসহ ২৮ দেশের কূটনীতিকদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে এবারই প্রথম মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মোটেও নতজানু সুলভ নয়। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ কোনো সমাধান হতে পারে না। দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা পরামর্শ দেবেন। আমার নেব। আমাদের সবারই উচিত ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করা। আমরা দেশের জন্যই চিন্তা করছি।

 রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো কিছু লুকাতে চাই না। কেন লুকাব?

মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দরজাও খুলে রেখেছে। মিয়ানমারের মন্ত্রী এরই মধ্যে ঢাকা সফর করেছেন। তবে তার সফরের বিষয়ে মিয়ানমার স্টেট কাউন্সেললের দপ্তর যে বিবৃতি দিয়েছে এবং সেখানে ১৯৯২ সালের সমঝোতা মতেই তাদের ফেরানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে কূটনীতিকদের মন্ত্রী এ নিয়ে খোলাসা করেই বলেছেন, ৯২ আর আজকের প্রেক্ষাপট এক নয়। সেই সময়ে যে সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরানো হয়েছিল বর্তমান বাস্তবতায় তা গ্রহণযোগ্য নয়। 

মিয়ানমারকে দেওয়া নতুন চুক্তির খসড়া বিষয়ে কোনও জবাব দেশটি এখনও দেয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, ২ অক্টোবর মিয়ানমারের ইউনিয়নমন্ত্রী টিন্ট সোয়েকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে একটি নতুন চুক্তির খসড়া হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সেই চুক্তির বিষয়ে কোনও উত্তর দেয়নি। বল এখন মিয়ানমারের কোর্টে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের ইউনিয়নমন্ত্রী টিন্ট সোয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করলে আমরা অক্টোবরের ২০ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে যে কোনোদিন মিয়ানমার সফরের প্রস্তাব করেছি। কিন্তু সেই প্রস্তাবের উত্তরও এখনও পাইনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পরে তিনি নিজে মিয়ানমার সফরে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০-২১ নভেম্বর মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় আসেমভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মিয়ানমারের মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময়ে বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস সমঝোতা স্মারক এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যার মাধ্যমে সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে টকশো ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারের সমালোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে আমাদের সবার একসঙ্গে কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা আত্মহননের পথে যাব না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ব্রিফিংয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া এবং অস্থায়ী সদস্য মিশর, ইটালি, সুইডেন ও জাপানের রাষ্ট্রদূত বা জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা অংশ নেন। এছাড়াও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য জার্মানি, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক, স্পেন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বা জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা এবং আসিয়ান থেকে মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই এর রাষ্ট্রদূতরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্য দেশের মধ্যে ভ্যাটিক্যান, ভারত, নরওয়ে, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত কিংবা জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ