ঢাকা, মঙ্গলবার 10 October 2017, ২৫ আশ্বিন ১৪২8, ১৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাদারীপুরে হামলা মামলায় ঘরছাড়া শতাধিক পরিবার

মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ এবং নতুন মাদারীপুরসহ তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হামলা মামলায় ঘর ছাড়া। এতে চরম আতঙ্কে আছে নারী ও শিশুরা। সরেজমিন দেখা গেছে সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ, নতুন মাদারীপুর এবং রাস্তি এলাকার বিভিন্ন বাড়ি পুরুষশূন্য। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে মাদারীপুর পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের পিতা মফেজ হাওলাদারকে। এই মামলায় স্থানীয় সাইদ হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই হত্যা মামলায় বর্তমানে আদালতে স্বাক্ষী গ্রহন চলছে। সাক্ষী গ্রহণ চলা অবস্থাতেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলার বাদী আসগর হাওলাদারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বাদী পক্ষের দাবি স্বাক্ষীদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতে বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এই ঘটনায় হামলা মামলায় জড়িয়ে পড়ে দুটি গ্রুপ। দুটি গ্রুপেরই একাধিক মামলা হয়। বাড়ি ঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী। এইসব হামলা মামলার ভয়ে বর্তমানে তিনটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ঘর ছাড়া। মাদারীপুর পৌরকাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার পিতাকে সাইদ হাওলাদারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। এখন আমার চাচা ও মামলার বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে এনামুল চৌধুরী এবং সাইদ হাওলাদার ও তাদের লোকজন। মামলার আসামী হলেও তারা শহরে নিয়মিত ঘোরাফেরা করে। এমন কি থানাতেও যাতায়াত করছে কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ গ্রেফতার করছেনা। এনামুলের পিতা তালিকা ভুক্ত রাজাকার অথচ সে এখন আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। তাদের হামলা মামলার ভয়ে সাধারণ মানুষ ঘর ছাড়া। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা এনামুল চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত  কোন অভিযোগই সত্য নয়। এব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন,ওই এলাকায় একাধিক মামলা থাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মামলা হওয়ার পরে আসামীরা থানায় আসার কথাটি সত্য নয়। মামলা হওয়ার আগে থানায় আসতো।
আসামীর পলায়ন
গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় মাদারীপুর কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে যাবার সময় আদালত চত্বরেই পুলিশ ভ্যান থেকে একটি চুরি মামলার সন্দেহভাজন আসামী শহিদুল হাওলাদার হাতকড়া পড়া অবস্থায় পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় কর্তব্যরত ৮ পুলিশকে দায়িত্বে অবহেলায় অভিযোগে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। আদালত পরিদর্শক রমেশ চন্দ্রদাস জানান, শিবচরের তাহেরআকনের কান্দি সাকিনের জনৈক ফারুক ফকির গত ১০ এপ্রিল রাতে তার দোকানের মালামাল চুরি হবার অভিযোগে শিবচর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ৪ অক্টোবর একই থানার সিকদারকান্দি গ্রামের বাহের হাওলাদারের ছেলে শহিদুলকে সন্দেহভাজন আসামী হিসাবে গ্রেফতার করলে গতকাল সোমবার শহিদুলের জামিনের আবেদন শুনানীর দিন ধার্য্য ছিলো। মাদারীপুর পুলিশ সুপার মো: সরোয়ার হোসেন  জানান, ঘটনায় কর্তব্যরত ৮ পুলিশকে দায়িত্বে অবহেলায় অভিযোগে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে তাদের বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক হবার কারণে আসামী শহিদুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ গ্রেফতারের চেস্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ