ঢাকা, মঙ্গলবার 10 October 2017, ২৫ আশ্বিন ১৪২8, ১৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথে উইমেন্স হাসপাতালের সৃষ্ট জটিলতার অবসান

সিলেট ব্যুরো : সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উইমেন্স মেডিকেল কলেজের সভাকক্ষে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় কর্তৃপক্ষ রাস্তা প্রশস্তকরণ করার জন্য মেয়রকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সিসিক সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় গত কয়েকমাস ধরে সিলেট নগরীর নয়াসড়ক থেকে চৌহাট্রা সড়কের প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ির মালিক সড়কের জন্য ছয় ফুট জমি ছাড়ার জন্য রাজি হন। সকলের সঙ্গে আলোচনার পর পরই কয়েক মাস আগে শুরু হয় সড়ক প্রশস্থকরণের কাজ। গত ১৭ জুলাই সড়ক প্রশস্ত করা নিয়ে মেয়রের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। পরে এনিয়ে দু’পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। রাতেই দু’পক্ষ বৈঠকে বসেন। সে সময় বিরোধের কিছুটা নিষ্পত্তি হয়। গতকাল সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সড়ক প্রশস্ত করার জন্য জমি ছেড়ে দিলে এলাকার লোকজন সাধুবাদ জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। 
কলেজের সভাকক্ষে ঘন্টাখানেক বৈঠকের পর মেয়রকে নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ মূল ফটকের কাছে যান। তারা সড়ক প্রশস্ত করার জন্য কাজ শুরু করার আহবান জানালে মেয়র হাতুড়ি দিয়ে দেওয়াল ভাঙ্গার কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় মেয়র বলেন, নগরীর উন্নয়নে যেভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড় দেয়ার মনোভাব দেখিয়েছে তা সবার মনে পোষন করতে হবে। নগরীর উন্নয়নে তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, এভাবে সকলে সহযোগিতা করলে সিলেটের উন্নয়ন কোনভাবেই দমিয়ে রাখা যাবেনা। সিলেট হবে একটি আদর্শ নগরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা বশির আহমদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শাহ আব্দুল আহাদ, মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. ফজলুর রহমান কায়সার, শিশু বিভাগের বিভাগীয প্রধান প্রফেসর আব্দুল মতিন, কোম্পানীর পরিচালক ফখরুল ইসলাম, এমদাদ হোসেন চৌধুরীও আব্দুল বারী, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রাজিক মিয়া, আব্দুল মুহিত জাবেদ, প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ, আলী আকবর, ইসমাইল আহমদ প্রমুখ।
সিসিক মেয়র ও কোতোয়ালি
থানার ওসিকে আদালতে তলব
সিলেট মহানগরের ফুটপাতের অবৈধ দখলদারের তালিকা সংবলিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় আগামী ১৬ অক্টোবর সোমবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও এসএমপির কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গৌছুল হোসেনকে আদালতে তলব করা হয়েছে। ওইদিন তাদেরকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো গত রোববার এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আদালতের দেয়া সময়সীমার মধ্যে মেয়র এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হকার নিয়ন্ত্রণকারীদের তালিকা জমা দিতে ব্যর্থ হন। এ কারণে তাদেরকে আদালতে তলব করেছেন বিচারক। সূত্র মতে, আদেশের অনুলিপি এরই মধ্যে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, গত ৮ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র তদন্ত  প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করলে তাকে এক মাসের সময় দেওয়া হয়। কিন্তু, তিনি পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যেও তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেননি। উল্লেখিত কারণে কেন তিনি এই ধরনের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েও আদালতের আদেশ মেনে প্রতিবেদন দাখিল করছেন না তার ব্যাখ্যা দিতে আগামী ১৬ অক্টোবর তাকে আদালতে তলব করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও একইদিনে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আদালতের অনুলিপি পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কোতয়ালী থানার ওসি গৌছুল হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ