ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা নির্মূলে আরাকানে মগসেনাদের সহযোগী সশস্ত্র নাডালা বাহিনী

মগসেনাদের সহযোগী সশস্ত্র নাডালা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য

কামাল হোসেন আজাদ/ শাহনেওয়াজ জিল্লু : এবার আরাকানে নতুন মিশনে নেমেছে উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা। কোনভাবেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারে থাকতে দেয়া হবেনা এমন প্ররোচনায় মগসেনাদের সাথে সক্রিয় হচ্ছে সশস্ত্রভাবে প্রশিক্ষিত নাডালা বাহিনী। একতরফা নিয়ন্ত্রণ নিতে তাদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে এলাকা ভিত্তিক কমিটি। প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পিলে চমকানো এমন তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। 

সূত্রে জানা যায়, আরাকানে বর্মী সামরিক বাহিনী ও উগ্রপন্থী রাখাইনদের বর্বরোচিত নির্যাতনের মাঝেও যেসব রোহিঙ্গারা এলাকায় অবস্থান নিয়ে এখানে ওখানে লুকিয়ে-পালিয়ে কোনমতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে; এবার তাদের তাড়াতে উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করেছে। রোহিঙ্গা গ্রাম অবরুদ্ধ রাখা, হাট-বাজারে রোহিঙ্গাদের বেচা-কেনা করতে না দেয়া, কোন ব্যবসায়ীকে পণ্য নিয়ে রোহিঙ্গা গ্রামে প্রবেশ করতে না দেয়াসহ রোহিঙ্গা মুসলমানদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে কমিটির সদস্যরা তথ্য আদান-প্রদান করবে। এমনকি নির্যাতন ও মারধরের হুমকি-ধামকিও প্রদান করবে। রোহিঙ্গাদের দেখানো হবে ভয়-ভীতি। সর্বশেষ এভাবেই গ্রামছাড়া করে এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনায় কাজ করবে তারা।

জানা যায়, রাখাইন ও মগরা ইতিপূর্বে “নাডালা” নামের একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলে । যা অস্ত্রে-শস্ত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এ বাহিনীটিও রোহিঙ্গাদের উপর হামলা, হাঙ্গামা করার জন্য গঠন করা হয়েছিল। সব রাখাইন ও মগ পল্লীতে নাডালার সদস্য রয়েছে। এদের প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে সেদেশের মগ সেনার। রোহিঙ্গাদেরকে গুপ্ত হত্যা, ধর্ষণ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের মত ন্যাক্কারজনক কাজে সামরিক সদস্যদের সহযোগিতা করে থাকে ওই নাডালা বাহিনীর সদস্যরা।

সম্প্রতি, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উগ্রপন্থীরা রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলে যে কমিটি গঠন করছে তাতেও পরোক্ষ মদদ রয়েছে বর্মী প্রশাসনের এমন সংবাদও সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে। কমিটির সদস্যরা এখন থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। যেসব গ্রাম থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে সেসব দখল করে রেখেছে তারা। কোন রোহিঙ্গার দেখা পেলে তাকে হেয় প্রতিপন্ন, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও গায়ে হাত তোলছে তারা। তাতেও ক্ষান্ত নয়। এরা রাস্তাঘাটে “মুসলমানমুক্ত এলাকা” লিখে সাইনবোর্ডও টানিয়ে দিয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, ২৪আগস্ট রাতে মগ সেনার শুরু হওয়া সহিংসতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন আরাকানে কোন না কোনভাবেই সেনা ও উগ্রপন্থীদের হাতে হত্যার শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ