ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র শব্দটাকে চিরতরে মুছে দিতে জামায়াতের আমীর ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর মকবুল আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমানসহ সিনিয়র নেতাদের মিথ্যা অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কতিপয় রাজনীতিককে মিথ্যা অভিযোগে আটক করা কোন সুস্থ রাজনীতি নয়।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ, সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমানসহ দলটির ৯ জন নেতাকে আটক, গতকাল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ লেবার পার্টির একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ হামলা চালিয়ে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিএনপি এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ২১ জন নেতাকর্মী এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন ঈসাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। 

বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান বিনা ভোটের সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন ও হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। গত সোমবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র কতিপয় রাজনীতিককে মিথ্যা অভিযোগে আটক করা কোন সুস্থ রাজনীতি নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সরকার কোনভাবেই বিরোধী মতকে সহ্য করছে না এবং তারা রাজনীতি বিজ্ঞানের পরিভাষা থেকে গণতন্ত্র শব্দকে মুছে দিতে চায়-যা এককদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য অতীব জরুরী। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলসমূহ সংবিধান স্বীকৃত সকল রাজনৈতিক অধিকার থেকে এখন পুরোপুরি বঞ্চিত। দেশের গণতন্ত্রের তিলমাত্র অবশিষ্ট নেই। মৌলিক ও মানবাধিকার আগেই ভূলুন্ঠিত হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। আইন-আদালতও এখন শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। শাসকগোষ্ঠী দেশে এক শ্বাসরুদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী ছাড়াও দেশের সাধারণ মানুষও নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে এখন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের যে হারে গণগ্রেফতার করা হচ্ছে তা দেশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। আমি বর্তমান সরকারের এ ধরনের হিংসাত্মক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গতকাল গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দসহ চট্টগ্রামে আটক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান, ২১ জন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ঢাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া এনডিপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতকাল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ফারুকী হিরা, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাজিদ হাসান বাবু, তিতুমি’র কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী শহিদুল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইমরান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম, পল্টন থানা ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন ভুঁইয়া, জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর নেতা শোয়েব খান, রানা, মনির, ওমর ফারুক, বাবু, আবু সাঈদ, শাকিল আহমেদ ও সাজ্জাদ মিয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল, মো: সুজন, মোস্তাক, সাইদুল, সুমন, দুলাল, উজ্জল, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোল্লা মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, মো: শাহজাহান, পঞ্চগড় জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মানিকসহ ২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছে শাহজাহানপুর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাদল ও নিউমার্কেট থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিংকু। তারা দু’জন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি পারভেজ আকন্দ বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড: এইচ এম তসলিমউদ্দিনসহ ৩০ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে পুলিশ। এছাড়াও বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোজাফফর রহমান আলম এবং সদর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক শেখ ইদ্রিস আলী নিকারীকে গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাগেরহাট জেলায় নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় পুলিশ গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা এখন সীমাহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নিপীড়ণের মাত্রা বৃদ্ধি করে গুম, খুন, অপহরণ, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং তড়িঘড়ি করে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বর্তমান আওয়ামী সরকারের অমানবিক নিষ্ঠুরতা ও উৎপীড়ণের নতুন নতুন কৌশল দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। সরকার একের পর এক অগণতান্ত্রিক আচরণ, অনাচার আর জুুলুম-পীড়ণের মধ্য দিয়ে মূলত: জনগণকেই পিষ্ট করতে চাচ্ছে। যাতে সুপরিকল্পিতভাবে বর্তমানে কার্যকর একদলীয় নব্য বাকশালী শাসনকে প্রলম্বিত করা যায়। আর এটি করা সম্ভব হলেই জনগণের দিক থেকে কোনো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবেনা বলে তারা মনে করছে। মির্জা আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের বুলি আউড়িয়ে এবং ক্রমাগত মিথ্যাচারকে পূঁজি করে ক্ষমতার দম্ভে বর্তমান সরকার এতটাই ভ্রান্তিতে আছে যে, তারা জনগণের শক্তি বেমালুম ভুলে গেছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোন অশুভ পরিকল্পনাই জনগণের সাহসী ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কখনোই টিকে থাকতে পারেনা। মানুষের কন্ঠরোধে নানাবিধ নীতি প্রনয়ণের পরও স্বস্তি না পেয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুরভীসন্ধিমূলক বানোয়াট মামলা দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দুরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-বিশ্বের সকল স্বৈরাচারী সরকারকেই জনগণের সম্মিলিত শক্তির কাছে পরাজিত হতে হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব আজ গ্রেফতারকৃত ছাত্রদল, যুবদল, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকর্মীসহ বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোজাফফর রহমান আলম এবং সদর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক শেখ ইদ্রিস আলী নিকারীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান। পুলিশী লাঠিচার্জে আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ