ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাবনার একটি মামলায় মাওলানা সুবহানের জামিন আবারও নামঞ্জুর

 

পাবনা সংবাদদাতা: জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে পাবনার একটি মামলায় আবারও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন 

গতকাল দুপুরে আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে মাওলানা আব্দুস সুবহানকে পাবনা আমলী আদালত-১ এ হাজির করা হয়। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ১৮২টি বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসময় ১৮ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। সেই মামলার বাদী ছিলেন গহের নামের এক ব্যক্তি। মামলাটি দুই বছর চলার পর কোন সাঙ্গী না পেয়ে থানা থেকে মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান করা হয়। সেই মামলায় মাওলানা আব্দুস সুবহানের কোন নাম ছিলো না। 

পবর্তিতে ৭ বছর পর ২০১২ সালের ২ এপ্রিলে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে মাওলানা সুবহানকে প্রধান আসামী করাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। আগের মামলা থেকে এই মামলায় ৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন পাবনা আমলী আদালত-১ এর বিচারক আবু সালেহ মোঃ সালাউদ্দীন। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তিনি আদালতে ঐ মামলার হাজিরা দেবার জন্য ঢাকা থেকে পাবনায় আসার পথে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে টোল প্লাজার পাশ থেকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। এর পর থেকে তিনি জেল হাজতেই রয়েছেন। 

এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

গতকাল ছিল এই মামলার হাজিরার ও স্বাক্ষীরদিন। আদালতে ৪ জনস্বাক্ষীদেরকে জেরা করেন আসামী পক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ এহিয়া শুনানি শেষে আগামী ১৯/ ১২/১৭মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন আমলী আদালত ১ এর বিচারক মোঃ রেজাউল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে আক্তার হোসেন মুক্তা এবং আসামী পক্ষে সুলতান মাহমুদ এহিয়া, নাজমুল হোসেন শাহীন, শুনানিতে অংশ নেন।

 ্এ মিথ্যা মামলায় জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল ও সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন । এক বিবৃতিতে বলেন তিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। পাবনার গণ মানুষের নেতা এ রায়ে পাবনাবাসী হতবাক। পাবনা থেকে ৫ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ৯০ বছর বয়স হয়েছে। তার মতো বৃদ্ধ মানুষকে অব্যাহতি না দিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তারা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে প্রশাসনের কড়াকড়ির পরেও নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে উপস্থিত হওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ