ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অবিলম্বে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে ৭ দফা সুপারিশ মানবাধিকার কমিশনের

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মগসেনা ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের চলমান রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ, তাদের জন্য বাফার জোন তৈরি ও কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নসহ ৭ দফা সুপারিশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ছাড়া কমিশনের পক্ষ থেকে মিয়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ‘অনুপত্র’ দেয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মিলনায়তনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এসব সুপারিশ তুলে ধরেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, সদস্য অধ্যাপক আখতার হোসেন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের চীফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর শর্মীলা রাসুল প্রমুখ।

মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ করা, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য বাফার জোন তৈরি করা, জাতিসংঘের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা, বাংলাদেশে বসবাস করা ‘১০ লাখ’ রোহিঙ্গার মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান, কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি না করে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন করে মিয়ানমার রাষ্ট্র কর্তৃক রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করা, প্রয়োজনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক, অস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপ করা এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে যে গণহত্যা ও ধ্বংসকান্ড চালিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত করেছে, এসব কারণে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করা।

সাংবাদিক সম্মেলনে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যার ঘটনা ঘটছে। সেখানে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় আসিয়ান, কমনওয়েলথ সচিবালয়ের মানবাধিকার বিষয়ক ইউনিট, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব, ইউনিসেফ, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানে ‘অনুপত্র’ পাঠানো হয়েছে। কাজী রিয়াজ বলেন, জাতিসংঘের পদ্ধতিগত সংস্কার করতে হবে। কারণ, সারা বিশ্বের সব রাষ্ট্র এক দিকে অবস্থান নেবে আর দু’-একটি রাষ্ট্র অপরদিকে থাকবে, এটা হতে পারে না। এমন ধরনের ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, পাঁচ পরাশক্তি থাকবে কি, থাকবে না তাও চিন্তা করা দরকার। মিয়ানমারে চীনের অর্থনৈতিক জোন করার জন্য বিনিয়োগ রয়েছে। তাই তাদের স্বার্থে জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তা হওয়া উচিত নয়। জাতিসংঘকে গণতান্ত্রিক হতে হবে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রাষ্ট্রের, কিন্তু মানবাধিকার সার্বজনীন। জাতিসংঘে গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। আগামী অধিবেশনে এ বিষয়টি সংস্কার করতে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিতে পারে।

মিয়ানমারে গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) দেশটির শাসকদের বিচার দাবি করে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে ‘দ্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’ হামলা করেছে, নাকি মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এমনটি ঘটানো হয়েছে, সেটা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে। আর এই আরসা কারা, সেটাও দেখতে হবে। এভাবে একপেশে অভিযোগ দিয়ে গণহত্যা চালানোর দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিসি ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচার হতে পারে।

মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে মানবাধিকার কমিশন কথা বলবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, মিয়ানমার সরকার মারমুখী অবস্থানে আছে। তারা কারো কথা শুনছে না। তবু কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে একটি ‘অনুপত্র’ দেয়া হয়েছে। সে দেশের মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় কি না, সে চেষ্টাও তারা করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ