ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে সরকার ‘কারসাজি’ করে সরিয়ে দিচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরকার ‘কারসাজি করে’ সরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ পরিষদের উদ্যোগে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে পুলিশের গুলীতে নিহত নাজিরউদ্দিন জেহাদের ২৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান বিচারপতির ছুটি সম্পর্কে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় গণমাধ্যমে যে সমস্ত বিষয় উঠে এসেছে- এদেশের মানুষ খুব পরিষ্কার করে বুঝে গেছে- এটা হচ্ছে আপনাদের (সরকার) কারসাজি, এই কারসাজি করে আপনারা প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিচ্ছেন। অপরাধ একটাই তিনি (প্রধান বিচারপতি) সত্য কথা বলেছেন, অপরাধ একটাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কখা বলেছেন, অপরাধ একটাই যে, তিনি মানুষের অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠা করবার কথা বলেছেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ডাকসু‘র সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও নাজিম উদ্দিন আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, খন্দকার লুৎফর রহমান, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, আসাদুর রহমান খান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। যুব দলের সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্র দলের রাজীব আহসান, মরহুম জেহাদের ভাই কেএম বাশার প্রমুখও বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে অত্যন্ত দুঃসময়, দেশের ইতিহাসে এরকম দুঃসময় আর কখনো আসেনি। আমার যা কিছু অর্জন একাত্তর সালে সব কিছু তছনছ হয়ে যাচ্ছে, আমার যা কিছু অর্জন নব্বই সালে সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে, আমার সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যা বুকের রক্ত দিয়ে অর্জন করেছি এরা কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে হায়নার মতো। সর্বশেষ আক্রমণ বিচার বিভাগ। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওই একটা জায়গা ছিলো যেখানে গিয়ে দাঁড়াতে পারতো মানুষ, সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শক্তিশালী গোয়েন্দার বিরুদ্ধে, শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়াতে পারতো। সেটাও এখন নেই। এখন যে আপীল বিভাগ, সেই আপীল বিভাগের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পরে ক্ষিপ্ত হয়ে এখন সেটাকে ধ্বংস করবার জন্য সমস্ত কাজ তারা (সরকার) সম্পন্ন করেছে। সরকার মনে করছে-এই জাতির মানুষেরা সব আহম্মক, বুঝে না কিছু।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর একটাই মাত্র উদ্দেশ্য- তারা (সরকার) এখানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারাই একমাত্র থাকবে আর কেউ থাকবে না। ১৯৭৫ সালে তাই করেছিলো, এখন ভিন্ন আঙিকে ভিন্ন মোড়কে একই কায়দায় একইভাবে সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে আবার সেখানে শুধু তাদের শাসনকে পাকাপোক্ত করা।

নির্বাচন নিয়ে ভয়ংকর নীলনকশা চলছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওরা (ক্ষমতাসীন দল) জানে যদি নির্বাচন হয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষভাবে, আমাদের বাংলাদেশের সব মানুষরা যদি ভোট দিতে যায় তাহলে কোনো মতেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে না। পারবে না বলেই তারা সেই নির্বাচন সেই ভাবে হতে দিতে চায় না। ক্যারিক্যাচার, কারুকার্য ফুটবল খেলায় দেখেন তো আপনারা। সেখানে সেন্টার ফরোয়ার্ড সেই মেসির মতো ড্রবলিং করে বলকে কাটিয়ে কাটিয়ে নিয়ে যায়। এরা হচ্ছে সেই ড্রবলিং করে করে বলকে খালি মাঠে গোল দিতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্বটা স্পষ্ট- রাজনৈতিক দল হিসেবে, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশপ্রেমিক হিসেবে, গণতন্ত্রকামী মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব জনগনকে সচেতন করা। এই যে ভয়াবহ একটা নীল নকশা সেই নীল নকশাকে পরাজিত করে দিয়ে জনগনের শাসনকে প্রতিষ্ঠা করা, নির্বাচনকে নিশ্চিত করা। এজন্য সকলকে বিশেষ করে তরুন সমাজকে দেশের ওপর চেপে বসা অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজের পায়ে নিজের দাঁড়াতে হবে। অনেক বিপদ আসবে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমাদের অনেক ভাইকে মেরে ফেলেছে, অনেকে হারিয়ে গেছে, অসংখ্য মিথ্যা মামলা হচ্ছে প্রতিদিন। তারপরও আরো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে এবং আমাদের বিজয় অর্জন করতে হবে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য, ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য, আমাদের সবার জন্য। এই প্রত্যায় নিয়ে আমাদের সবাইকে এক সাথে এগিয়ে যেতে হবে।

এদিকে গতকাল দিবসের শুরুতে সকাল রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে শহীদ জেহাদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমাউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিবসহ নেতৃবৃন্দ। এসময় শহীদ জেহাদের ভাইসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ দিবসে উপলক্ষে রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে জেহাদ স্কয়ারে ফুল দিতে গেলে তাদের গ্রেফতার করে মতিঝিল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শহীদ জিহাদের ভাই কে এম সরফ উদ্দিন, ২০দলীয় জোট শরীক দল এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনজুর হোসেন ঈসা, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান আশিক, সহ-সাংগঠনিক আশরাফ ফারুক হিরা, তেজগাঁও কলেজের দপ্তর সম্পাদক জুয়েল ভূইয়া, আরাফাত বিল্লাহ খান, সাজিদ হোসেন বাবু। 

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সহ-দপ্তর মুনির হোসেন, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সফিউল বারী বাবু, সাদরাজ জামান, নজরুল ইসলাম, মোর্শেদ আলম, ছাত্রদলের মধ্যে ছিলেন সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল আহসান, এ ছাড়াও নাজমুল হাসান, তারেকুজ্জামান, আলমগীর হোসেন সোহাম, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, কাজী মোকতার হোসেন, আরিফা সুলতানা রুমা, মিনাজুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, গাজী জুয়েল, শাহাদাৎ চৌধুরী, মামুন খান, শিরিন আহম্মেদ প্রমুখ। প্রসঙ্গত, স্বৈরাচার এইচএম এরশাদের সামরিক শাসন আমলে ১৯৮৯ সালের ১০ অক্টোবর পুলিশের গুলীতে নিহত হন শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ