ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিদেশে যেতে প্রধান বিচারপতির চিঠি রাষ্ট্রপতির কাছে

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নবেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে একটি চিঠি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চিঠিটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে এটি যাবে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে।

আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বলেছেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির বরাবর মাননীয় প্রধান বিচারপতি বিদেশে যাওয়ার জন্য চিঠির একটি অনুলিপি আমরা পেয়েছি। এটি এখন প্রক্রিয়াধীন। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত। বিদেশে তার বিশ্রাম প্রয়োজন।

এর আগে অষ্ট্রেলিয়ায় যেতে ভিসার জন্য আবেদন করেন প্রধান বিচারপতি ও তার স্ত্রী সুষমা। তিন বছরের ভিসার অনুমতি পান তিনি। অষ্ট্রেলিয়ায় প্রধান বিচারপতির বড় মেয়ে সূচনা সিনহা থাকেন।

গত ২ অক্টোবর আকস্মিকভাবে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা এক মাসের ছুটির আবেদন করেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ৩৯ দিনের অবকাশকালীন ছুটি শেষে পরদিন সুপ্রিম কোর্ট খোলার আগ মুহূর্তে ছুটি নেয়া নজীরবিহীন বলে আইনজীবীরা জানান। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটি নেয়ার আগে হাইকোর্টের বেঞ্চ পুনর্গঠন করেন এবং প্রথা অনুযায়ী আইনজীবীদের ৩ অক্টোবর সোৗজন্য সাক্ষাতের জন্য সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতাদের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি আদালত খোলর আগেরদিন এক মাসের ছুটি নেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের অভিযোগ প্রচন্ড চাপে প্রধান বিচারপতিকে ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়েছে। 

পরে ২ অক্টোবর রাতেই আইনমন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে। তিনিই বর্তমানে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে গত ১০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি কানাডা-জাপান সফরের জন্য ছুটিতে ছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরেন।

আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নেতারা ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও সাক্ষাত পাননি। পরে সুপ্রিম কোর্ট বার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করে। গত ৫ অক্টোর বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অন্যান্য নেতারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে তাদের মৎস্য ভবনের সামনে আটকে দেয়া আইন শৃংঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। এর প্রতিবাদে গত শনিবার পাঁচদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট বার নেতাদের সাক্ষাতে বাধা দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড.গওহর রিজভী ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। 

প্রসঙ্গত, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশের পর থেকে মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি। জাতীয় সংসদেও তাঁর সমালোচনা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ