ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খালাফ হত্যার আপিলের পুনঃশুনানি ১৭ অক্টোবর

 

স্টাফ রিপোর্টার : সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলার আপিলের পুনঃশুনানি হবে। আগামী ১৭ অক্টোর এ ব্যাপারে শুনানির দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায় ঘোষণার জন্য আপিলটি কার্যতালিকায় আসলেও সর্বোচ্চ আদালত পুনঃশুনানির দিন ধার্য করেছেন। না করে তার শুনানির জন্য আবারও দিন ঠিক করা হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আপিল বিভাগের কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে খালাফ আলী হত্যার মামলাটি ছিল।

সকালে আপিলের কার্যক্রম শুরু হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ভুলক্রমে এ মামলাটি (কজলিস্টে) কার্যতালিকায় উঠেছিল। এ সময় এ মামলার এডভোকেট অন রেকর্ড মাহমুদা বেগম আদালতকে জানান, এ মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী সাইফুল ইসলাম মামুনের পক্ষে আইনজীবী না থাকায় শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। এখন ওই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তিনি শুনানিতে অংশ নিতে চান। পরে আদালত বিষয়টি পুনঃশুনানির জন্য ১৭ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

এ মামলায় আসামী পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো.হেলাল উদ্দিন মোল্লা। আর সরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ। রায় ঘোষণা হতে পারে বলে মামলার এসব আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১২ সালের ৫ মার্চ রাত ১টার দিকে গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার ১২০ নম্বর সড়কের ১৯/বি নম্বর বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হন খালাফ আল আলী (৪৫)। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এর কিছুদিন পর ওই বছরের ৪ জুন দক্ষিণখান থানার গাওয়াইর এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম মামুন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ও আল আমিন নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে কালো রঙের একটি বিদেশি পয়েন্ট ২২ বোরের রিভলবার জব্দ করা হয়। অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে ওইদিনই তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। আসামি মামুন ও আল আমিন আদালতে স্বীকার করেন যে, ২০১২ সালের ৫ মার্চ রাতে ছিনতাই করতে বাধা দেয়ায়, তারা খালাফ আল আলীকে ওই অস্ত্রটি দিয়ে গুলি ও হত্যা করে। পরে আসামি মামুন, আল আমীন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ওরফিকুল ইসলাম খোকনকে খালাফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর ওই চারজনসহ পলাতক সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু করেন ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোতাহার হোসেন। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর খালাফ আল আলীকে হত্যার দায়ে ৫ আসামির সবাইকে ফাঁসির আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১৮ নবেম্বর আসামী সাইফুলকে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদন্ড পাওয়া অন্য তিনজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং পলাতক একজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। আল আমীন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ও রফিকুল ইসলাম খোকনকে মৃত্যুন্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং পলাতক সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহমেদকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন সরকার। ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই এ আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ