ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কিশোরী ধর্ষণ ও মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়ার ঘটনায় বগুড়ায় শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকারের বিরুদ্ধে চার্জশিট

 

বগুড়া অফিসঃ বগুড়ায় কলেজে ভর্তির আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও পরে তাকেসহ তার মাকে নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া করার বহুল আলোচিত ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলা তদন্ত শেষে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) তুফান সরকারসহ ১৩জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের দুই মাস ১২ দিন পর আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করলো পুলিশ। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলার তদন্ত শেষ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আদালতে দুটি মামলারই পৃথক চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। দুটি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছে তুফান সরকার। অভিযোগপত্রে ধর্ষণ ও মা-মেয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ১৩জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মামলায় অভিযুক্ত হয়েছে তুফান সরকার ও তার স্ত্রী তাছমিন রহমান ওরফে আশা সরকার, বগুড়া পৌরসভার কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি, লাভলি রহমান রুমি, মুন্না, আতিকুর রহমান আতিক, আলী আজম দিপু, এমারত আলম খান জিতু মিয়া, সামিউল হক শিমুল, মেহেদি হাসান রুপম, জামিনুর রহমান রুনু, নাপিত জীবন রবিদাস যতিন, আঞ্জুয়ারা বেগম। ধর্ষণ মামলায় উল্লেখিতদের মধ্যে জামিনুর রহমান রুনু, নাপিত জীবন রবিদাস যতিন, আঞ্জুয়ারা বেগম এর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানায়। 

জানাযায়, চলতি বছরের ১৭ জুলাই বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুরের বাসিন্দা বগুড়া শহর শ্রমিকলীগের বহিষ্কৃত নেতা তুফান সরকার কলেজে ভর্তি করে দেয়ার নাম করে ছাত্রীকে নিজ বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে ২৭ জুলাই বিচারের নাম করে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা সরকার ও আশার বোন বগুড়া পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ তার সহযোগীরা বাড়িতে ডেকে নির্যাতন করে। নির্যাতন করার এক পর্যায়ে কিশোরী ও তার মা’কে মারপিট ও মাথা ন্যাড়া করে বের করে দেয়। এ ঘটনার পর তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই তুফান সরকার ও তার ৫ সহযোগীকে এবং পরে আশা, কাউন্সিলর রুমকিসহ মামলার সুত্র ধরে মোট ১১ জন আসামীকে গ্রেফতার করে। ধর্ষিতা কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২৯ জুলাই বগুড়া সদর থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে। মামলার বাদি ১০ জনের নাম ধরে মামলা দায়ের করলেও পরবর্তি সময় তদন্তে আরও ৩ জনকে আসামী করা হয়। মামলার ভিকটিম মা ও মেয়ে বর্তমানে নিরাপত্তার কারনে রাজশাহী ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ