ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জনবল সংকটে খুমেক হাসপাতালে মানসিক রোগের সেবা ব্যাহত

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই মানসিক রোগীদের কোন জায়গা। জনবল সংকটে হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, খুলনার প্রাপ্ত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশের বেশি কোন না কোন মানসিক রোগে ভুগছে। শিশুদের ভেতর এ হার প্রায় ২৫ শতাংশ এবং যা গত দশ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওয়েব সাইটের তথ্য মতে আত্মমর্যাদাবোধ, অন্যের প্রতি আস্থাবান, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি, গভীর অনুভুতি, অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়ার শক্তিসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য হলো মানসিক স্বাস্থ্যের বৈশিষ্ট্য। আর মানব চরিত্রে এসব  বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতি ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যা তৈরি করে। বয়স ভেদে ভিন্ন ভিন্ন কারণে মানসিক রোগ তৈরি ক্ষেত্র বেড়েছে বহু গুণ। ইন্টারনেন্ট ভিত্তিক ভিডিও গেমস, শারীরিক পুষ্টিজনিত অভাব, ও বংশগত কারণেও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। হতে পারে মানসিক ব্যাধি। তরুণদের বয়স ভেদে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এর কারণে তৈরি মানসিক অবসাদ থেকে রূপ নিতে পারে মারাত্মক মানসিক ব্যধিকে। এতে তারা আংশিক ও সম্পূর্ণ মানসিক রোগীতে (পাগল) পরিণত হতে পারে। এছাড়া প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কারণে মানসিক রোগী তৈরি হতে পারে। নারীদের গর্ভাবস্থা ও প্রসবের পর নারীদের হরমোন সংক্রান্ত কারণসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক সংকট দেখা দেয়। তা থেকে জন্ম নেয় মানসিক রোগ। মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য হলে তাকে সবাই রাখেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। আর নিম্নবিত্ত পরিবারের হলে মূলত. কবিরাজি আর ঝাঁড়-ফুঁকের মাধ্যমেই চলে তার চিকিৎসা। খুলনাসহ আশেপাশের এলাকায় মানসিক রোগীদের কার্যত কোন সেবা নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একমাত্র মানসিক স্বাস্থ্য নামে একটি ওয়ার্ড থাকলেও কোন রোগী ভর্তি করা হয় না। এছাড়া খুলনায় বেসরকারি পর্যায়েও মানসিক রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। তবে কিছু এনজিও মাদকাসক্তের প্রভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত কিছু রোগের চিকিৎসা করে থাকে।   সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনোরোগ মুক্ত সুস্থ জীবন যাপনের কৌশল। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এসএম ফরিদুজ্জামান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতই জরুরীই। এখানে পার্থক্য হলো. শারীরিক অসুস্থতায় একটু মাথা ব্যথা হলেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে ওষুধ খায়, আর মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে বলা হয় শিশুটি পড়াশুনায় মন দেয় না। তাই সকলের উচিত মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়া। সচেতনতার সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া। সময়মত মানসিক রোগের চিকিৎসা করানো।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ টি এম মোর্শেদ বলেন মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আমি আসার পর বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিভাগটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। আশাকরি খুব শিগগিরই বিভাগটি চালু করা সম্ভব হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. অব্দুল আহাদ বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ ঠিক ততটাই অবহেলিত। উন্নত বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্যকে শারীরিক স্বাস্থ্যের মতই গুরুত্ব দিলেও আমাদের দেশে মানসিক রোগীকে খুবই ছোট করে দেখা হয়, পরিবারও তাকে আড়াল করে রাখে। সকলের উচিত এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ