ঢাকা, বুধবার 11 October 2017, ২৬ আশ্বিন ১৪২8, ২০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আসন্ন কেসিসি ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে খুলনার রাজনীতিতে ক্রমেই উত্তাপ বাড়ছে

খুলনা অফিস : আসন্ন সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে খুলনার রাজনীতিতে ক্রমেই উত্তাপ বাড়ছে। রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। পিং দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি থানায় জিডি, ফেসবুক পেজে মন্তব্য ও জনসম্মুখে একজন অন্যজনকে শুধু দোষারোপেই সীমাবদ্ধ নেই। মারমুখী অবস্থানে যেতেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব করছেন না নেতারা। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন পরিস্থিতি শুভ নয় বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।

গত রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর প্রকাশ্যে দু’জনই নিজেদের ক্ষমতার হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন এবং উত্তেজিত হন। এদিকে মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারদলীয় নেতারাও বিভিন্ন কৌশলে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজেরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এতে করে তাদের বিরোধই এখন প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয় চেম্বার অব কমার্সের এক নেতা ও মহানগর যুবলীগের এক নেতা তাকে মেরে ফেলতে চান। এজন্য তিনি পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন। এর আগে খুলনার রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধ থাকলেও তা প্রকাশ্যে ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিরোধ রাজনৈতিক অঙ্গনের অশনি সঙ্কেত বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

গত বুধবার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান তার বক্তব্যে সিটি মেয়রের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেন এবং পদত্যাগ দাবি করেন। একদিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেয়র মনি তার ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্যকে উল্টো দোষারোপ করেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন তার নিজের কোন ফেসবুক একাউন্ট নেই। নিজ নামে দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার হওয়ার পরও তিনি এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করেননি।

প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় দলের অনেক নেতাই আমাকে হিংসা করেন। তারা আমার জনপ্রিয়তাকে মেনে নিতে পারেন না। আমার আসনে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেটা তারা দেখেন না। আমার নামে মিথ্যা কুৎসা রটাচ্ছেন। দলের ভাবমূর্তি তারাই নষ্ট করছেন।

খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, এটা নিজেদের বিষয়। একসাথে কাজ করতে গেলে একটু-আধটু হয়। দলের প্রয়োজনে আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ আছি।

সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, আমার নিজের কোন ফেসবুক একাউন্ট নেই। আমার নামে কে বা কারা ওটা চালাচ্ছে তাও জানি না। এমন অবস্থায় আসলে কি করা উচিত আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চাইব। খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ফেসবুক একাউন্টনটি নিঃসন্দেহে তাঁর (মেয়রের)। শুধু আমাকে নয় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে তিনি এমনটি করেছেন। খুলনার জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মেয়র ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর কারণে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিজের নিরাপত্তার জন্য জিডি করেছি (জিডি নং ৫০৪)। নিজ দলের দুই নেতাকে নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে। তারা আমাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চায়।’ কোন দুই নেতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নাম উল্লেখ করতে চাই না। চেম্বার অব কমার্স ও যুবলীগের দুইজন নেতার কথা জিডিতে বলেছি।

খুলনা মহানগর যুবলীগের আহবায়ক এডভোকেট সরদার আনিসুর রহমান পপলু বলেন, মেয়র নির্বাচনের জন্য আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। সেও (এডভোকেট সাইফুল) প্রত্যাশী। কিন্তু রাজনীতিতে এমন নোংরামী করা ঠিক না। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। আমার সাথে কারো দ্বন্দ্ব নেই।

খুলনা মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও  চেম্বার সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, যে অপরাধ করে তার ভয় থাকে। অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ মালিক গ্রুপ থেকে সে কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে। যা সবাই জেনে গেছে। পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী নেতা অনেকেই আছেন। এই জিডি তদন্ত করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হোক।

অপরদিকে বিএনপির রাজনীতিতেও গ্রুপিং লবিং দ্বন্দ্বে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও আগামী শুক্রবার খালিশপুরে একই স্থানে যুবদলের দুই গ্রুপের পাল্টপাল্টি সভা ডাকা হয়েছে। কেএমপি ওই স্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

খুলনা পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, একই সময়ে কোন স্থানে পরস্পর বিরোধী সভা ও সমাবেশ করা যাবে না। যে দলের হোক না কেন, সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলে তা করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বড় বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। যা সতর্কতার সাথে মোকাবেলা করতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ