ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আরাকানে এবার পাখির মতো গুলী করে রোহিঙ্গা হত্যায় মেতে উঠেছে মগ সৈন্যরা

 

কামাল হোসেন আজাদ / শাহনেওয়াজ জিল্লু : বিভিন্ন কৌশলে ব্যর্থ হয়ে এবার আরাকানে নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলমান নিধনে সেদেশের সশস্ত্র মগ সৈন্যরা নির্বিচারে অস্ত্র ব্যবহারের পথ বেঁছে নিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে পাখির মতো গুলী করে হত্যা করছে নিরীহ মুসলমানদের। মানবের প্রতি মানবতাই যেনো একবাক্যেই মুছে যাচ্ছে রাজ্যটি থেকে। কয়েক মাসব্যাপী মগসেনা ও উগ্রপন্থীদের তা-বে হিং¯্র দানবতাই যেনো তাদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। 

আরাকান রাজ্য জুড়ে সেনাবাহিনীর তা-ব থামছেই না। দেশ ত্যাগ না করা রোহিঙ্গাদের উপর প্রতিদিনই নতুন নতুন কায়দায় নিপীড়ন চলছে। একের পর এক জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে ঘর-বাড়ি ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। পাখির মতোই নির্বিচারে গুলী করে হত্যা করা হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের।

গত বৃহস্পতিবারও (১২অক্টোবর) রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বিনা উসকানিতে আব্দুস সালাম (৩৬) নামের এক রোহিঙ্গা মুসলমানকে গুলী করে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তি স্থানীয় দিল মোহাম্মদের পুত্র বলে স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ব্যক্তিগত কাজে আব্দুস সালাম রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মগ সেনারা তাকে লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলী ছুঁড়ে। ঘটনাস্থলে মাটিতে ঢলে পড়ে ওই রোহিঙ্গা। সেনরারা চলে গেলে স্থানীয়রা লাশ তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।

মূলতঃ আরাকান ছেড়ে রোহিঙ্গা মুসলমানরা যাতে পালিয়ে যায় সেজন্য মগসেনারা গুলী করে হত্যার মতো আতঙ্ক ছড়ানোর পাঁয়তারা করছে। সরকারি বাহিনীর ত্রাস থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশ পাড়ি জমিয়েছে। হত্যার শিকার হয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশী। পালিয়ে যাওয়ার সময় নাফ নদী ও পাহাড়ে মারা গেছে শত শত নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। অগণিত নারী শিকার হয়েছে ধর্ষণ গণধর্ষণের। কন্যা শিশুরাও রেহাই পায়নি এসব হায়েনার কবল থেকে। চার হাজার ছোট বড় গ্রামের ৪০হাজার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন আরাকানের কোথাওনা কোথাও জ্বলছে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি। এখনও সীমান্তে পঁচিশ হাজারেও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়ের সন্ধাণে এপার-ওপার ছুটছে।

এদিকে মিয়ানমার সেনাপ্রধান মিন অংহ্লাইং বারংবার রোহিঙ্গা বিরোধী বিবৃতি দেয়ায় সাধারণ সেনারা অপ্রতিরোধ্যভাবে হিং¯্র হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবারও সেনা প্রধান রোহিঙ্গাদের বাঙ্গালী আখ্যা দিয়ে বলেছে, “বাঙ্গালীরা বাংলায় চলে গেছে”। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র বার্মার উপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার পরিণতি ভাল হবেনা বলেও হুমকি দিচ্ছে বার্মা।

মিয়ানমারের জেনারেলদের নিষিদ্ধের প্রস্তাব ইইউতে অনুমোদন

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের কারণে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এ ব্যাপারে একটি খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ২৮ দেশভুক্ত সংস্থার কূটনীতিকরা।

এটি আগামী সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। তাদের স্বাক্ষরের পর সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। খবর এএফপির।

তবে মিয়ানমার সরকার সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছে। দেশটির সরকার এ বিষয়ে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে খুব বেশি অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে না। তবে এতে গণতন্ত্র ও শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

ইইউর কূটনীতিকদের অনুমোদন করা খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেছে। এ কারণে ইইউ এবং তার সদস্য দেশগুলো মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীপ্রধানদের এবং ঊর্ধ্বতন সেনা কর্তাদের সফরের আমন্ত্রণ স্থগিত রাখবে। এছাড়া সব সামরিক সহযোগিতাও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।’

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের গণহারে দেশত্যাগ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের বিতাড়নের জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছিল। মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ নিপীড়নে ব্যবহার করা যায় এমন সব অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি নিষিদ্ধ করে রেখেছে ইইউ।

খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংকটের সুরাহা না হলে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

গত মাসে ইউরোপীয় সংসদে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা শেষে দেয়া এক বিবৃতিতেও মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেয়া হয়।

মিয়ানমারের হুশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞায় ভালো কিছু হবে না বলে হুমকি দিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমার টাইমসকে সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব না পড়লেও পরিবর্তন আসবে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের সংকট। ব্যাহত হবে শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। ওই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও বৌদ্ধ নেতাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা রয়েছে আলোচনার টেবিলে। এছাড়া মিয়ানমারে বিনিয়োগ স্থগিত করতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এ ব্যাপারে দেশটির পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী উ তুন তুন নাইং বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা শোনা যাচ্ছে। এটা ভালো খবর নয়। অর্থনৈতিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তারা আমাদের অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাধা দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, আমরা সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চাই। যখন কেউ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, আমাদের রাখাইন নিয়ে সত্য বলতেই হয়। এই নিষেধাজ্ঞা আমরা চাই না। আমরা প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরব।’

মিয়ানমার টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে মিয়ানমারের ওপর সরাসরি প্রভাব কম পড়বে। তবে এতে কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উ তুন তুন বলেন, যেই দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বেশি তাদের সঙ্গে ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর সঙ্গে মিয়ানমারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অনেক কম। তাই এই নিষেধাজ্ঞায় অর্থনৈতিকভাব খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না মিয়ানমার।’

ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ইউ ইয়ে মিন উ বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারে বিভক্তি ও অনৈক্যের সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার এখনও অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম করছে। নিষেধাজ্ঞায় দেশটি আরও বিপাকে পড়বে। এটা সরকারের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কারোরই লাভ হবে না।’

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির দফতরের মুখপাত্র উ জাও তায় বলেন, নিষেধাজ্ঞার ধরন কেমন সেটা বিবেচ্য নয়। পশ্চিমের এমন কিছু করা উচিত নয়, যা আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ শান্তি স্থাপন এবং মানুষের জীবন মানের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

আরও ২০ লাখ পাউন্ড দেবে যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে আরও ২০ লাখ পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল এ ঘোষণা দেন। এসময় রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা লোকদের জন্য অনুদানের আবেদন জানিয়েছিল যুক্তরাজ্যের ডিজাস্টার ইমারজেন্সি কমিটি (ডিইসি)। বিভিন্ন দুর্যোগে শীর্ষস্থানীয় দাতব্যসংস্থাগুলো এই কমিটির আওতায় কাজ করে। মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল জানান, ওই আবেদনের অংশ হিসেবে সংগৃহীত অর্থের সঙ্গে তার মন্ত্রণালয় (ডিএফআইডি) ২০ লাখ পাউন্ড যোগ করবে। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য আরও ৩০ লাখ পাউন্ড দিয়েছিল। সবমিলিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাজ্য ৯০ লাখ পাউন্ড অর্থ সংগ্রহ করেছে। ডিইসির হেডঅফিসে বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রীতি প্যাটেল এসব তথ্য জানান। এতে ক্রিশ্চিয়ান এইড, অ্যাকশন এইড, রেড ক্রস, অক্সফাম ও সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রীতি প্যাটেল বলেন, বাংলাদেশ সরকার যেভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, স্থানীয় দাতব্য সংস্থা ও এনজিওর সঙ্গে কাজ করছে আমি তার প্রশংসা করি। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার। দমনপীড়ন চলছে বলেই লোকজন জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসছে। সেখানে জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

রাখাইনে চলমান সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধ করে যারা দেশত্যাগ করেছে তাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন প্রীতি প্যাটেল। তিনি বলেন, আসিয়ান ও অন্যান্য দেশ এই ইস্যু (রোহিঙ্গা সংকট) সম্পর্কে সচেতন আছে। তাদের উচিত বাংলাদেশকে শক্তি জোগানো এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। বর্তমানে যে সংকট আমরা মোকাবিলা করছি তা কাটানোর দিকেই আমাদের মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে। এজন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা দরকার।

এসময় দাতব্য সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও সংস্থাগুলোর কাজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

 রোহিঙ্গাদের বিপন্নতায় ভেঙে পড়েছেন সু চি

 রোহিঙ্গাদের বিপন্নতায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ‘ভেঙে পড়েছেন’ বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সু চি’র একজন উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে। তবে সেই উপদেষ্টা নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। 

রয়টার্সকে সু চির ওই উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এই সংকট উত্তোরণে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা যথেষ্ট পরিমাণে প্রত্যয়ী। তবে তিনি কোনও উত্তপ্ততা চান না। সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চান। তিনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তা দেখে তিনি ভেঙে পড়েছেন। তিনি এ নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। আমি জানি, তার এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে আমি জানি, তিনি নিশ্চয় পরিস্থিতির উত্তোরণ ঘটাবেন।

আলোচনা নিয়ে আশাবাদী সু চি

রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নিতে আলোচনা চলছে জানিয়ে তাতে সাফল্য পাওয়ার আশার কথা বলেছেন অং সান সু চি। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চি এ কথা বলেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সু চির ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। মিয়ানমার স্টেট কাউন্সিল অফিস এর ফেইসবুক পাতায় ভাষণের ইংরেজি অনুবাদ পোস্ট করা হয়েছে।

সু চি বলেন, “আরও কার্যকরভাবে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়াব। যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি।

 “স্বাধীনতার পর আমরা দুইবার এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সফল আলোচনা করেছি। ওই সাফল্যের উপর ভিত্তি করেই এখন আমরা তৃতীয় বারের মত আলোচনা করছি।”

 রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আলোচনা এগিয়ে নিতে আগামী ২৩ অক্টোবর মিয়ানমার যাচ্ছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গত ২৪ অগাস্ট রাতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের একটি দল রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালালে নতুন করে দমন অভিযান শুরু হয়। জাতিসংঘের হিসাবে ওই অভিযান শুরুর পর সোয়া পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং সেই জনস্রোত এখনও চলছে।

জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাদের এ অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে সু চি বলেন, “আমাদের দেশের বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। আমাদের আন্তর্জাতিক মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদিও আমাদের দেশের প্রকৃত অবস্থা আমাদের চেয়ে ভালো আর কেউ বুঝবে না। অন্য কেউই আমাদের মত করে আমাদের দেশের শান্তি ও উন্নয়ন কামনা করবে না।” রাখাইন রাজ্যে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম নিয়ে মিয়ানমার সরকারের কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে ভাষণে তিনি বলেন, “যারা বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসবে শুধু তাদের নিয়ে কাজ করলেই হবে না, বরং দাইং-নেত ও মাইওর মত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, রাখাইন জাতি ও হিন্দুদের নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।”

আগামীতে ওই এলাকায় সহিংসতা বন্ধ করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নের একটি টেকসই পথ খোঁজার কথাও সু চি বলেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অনেক কাজ করতে হবে এবং মিয়ানমারের উদ্যোক্তা, এনজিও ও জনগণ এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সহায়তা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে শুরু করেছে। এটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকার এবং আঞ্চলিক সরকার এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে সহযোগিতার আন্তরিক প্রস্তাবগুলো যথাযথ সম্মান ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ