ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের ফেরত না পাঠাতে মোদির প্রতি বিশিষ্টজনদের খোলা চিঠি

১৩ অক্টোবর, ইন্ডিয়া, পার্স টুডে : ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত না পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার মধ্যে সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত না পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনকারীরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে সহিংসতা ও নির্যাতন চলছে তাকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রোহিঙ্গাদের ভারতে থাকতে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে খোলা চিঠিতে প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব, এমপি শশী থারুর, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম, সমাজকর্মী তিস্তা শেতলবাড়, সাংবাদিক করণ থাপার, সাগরিকা ঘোষ, অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করসহ মোট ৫১ জন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব সই করেছেন।
খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে অমানবিক ঘটনা চলছে। আমাদের প্রতিবেশি বাংলাদেশ প্রায় চার লাখ শরণার্থী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। আমরা ভারত সরকারের ‘অপারেশন ইনসানিয়াত’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সাহায্য পাঠানোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছি। রাখাইন প্রদেশে যখন সহিংসতার আগুন জ্বলছে, সেখানে ওই সহিংসতার ঢেউকে দমন করার জন্য আরও বেশি ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমরা ভারতবাসী হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি ভারত ওই বিষয়ে নয়া এবং শক্তিশালী ভাবনার সঙ্গে এগিয়ে আসুক। একটি উদীয়মান বিশ্ব শক্তি হিসেবে এটা আশা করা যেতে পারে।
তারা বলেন, ওই দৃষ্টিভঙ্গিতে কেবলমাত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে বিবেচনা করতে হবে যা তাদেরকে দেশ থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য করেছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ কেবল ভারতের মানবতাবাদী নীতি ও ঐতিহ্যের বিরোধী তাই নয়, বরং তাতে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারও লঙ্ঘিত হবে। অবশ্যই রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের বাসায় ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে যাওয়া তাদের জন্য কোনোভাবেই ঠিক নয়। মিয়ানমারে যতদিন হত্যা, লুটপাট ও সহিংসতা অব্যাহত থাকবে ততদিন আন্তর্জাতিক আইন তাদেরকে ভারতে থাকার অধিকার দেয়।
এ ব্যাপারে সুশীল সমাজের অনেক সদস্য এবং এমনকি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনারও ভারতকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোর করে তাদের দেশে ফেরত না পাঠানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন বাঁচানোর অধিকার কেবল নাগরিকদের জন্যই নয় বরং প্রত্যেক ব্যক্তিকে দেয়া হয়েছে এবং এজন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষা করা ভারতের সাংবিধানিক কর্তব্য।
বুদ্ধিজীবীদের ওই আবেদনে সই করেছেন- প্রশান্ত ভূষণ (আইনজীবী), শশী থারুর (এমপি), কামিনী জয়সওয়াল (আইনজীবী), হর্ষ মান্দার (সমাজকর্মী) কে সি সিং (সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত), জে কে পিল্লাই (সাবেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী), ডি পি ত্রিপাঠি (এমপি), পি চিদাম্বরাম (সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী) রাজু রামচন্দ্রন (আইনজীবী)। মজিদ মেমন (এমপি), করণ থাপার (সাংবাদিক), সাগরিকা ঘোষ (সাংবাদিক), অজয় শুক্লা (সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা), নিলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় (লেখক ও সাংবাদিক), যোগেন্দ্র যাদব (রাজনৈতিক বিশ্লেষক), জন দয়াল (সমাজ কর্মী) প্রমুখ।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কমপক্ষে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছেন বলে সরকার মনে করছে। এদেরকে চিহ্নিত করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়াতে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবতার খাতিরে সরকারের ওই পদক্ষেপ বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ