ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলী ড্রোন প্রযুক্তি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

১৩ অক্টোবর, জেরুসালেম পোস্ট : মনুষ্যবিহীন আকাশ যান বা ড্রোনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে ইসরাইল। ফলে ভারতের কাছে ড্রোন বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘জেনারেল এ্যাটোমিকস এরোনটিক্যাল সিস্টেমস’-এর তৈরি এমকিউ-৯ র‌্যাপটারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে ড্রোন ‘হেরন টিপি’র প্রস্তুতকারক ‘ইসরাইল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)’।
ইসরাইলের একটি সূত্র ফ্লাইটগ্লোবাল ওয়েবসাইটকে জানায়, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ্যাডভান্স ড্রোন প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তা সমস্যা সৃষ্টি করবে।
গতবছর আন্তর্জাতিক ‘মিসাইল টেকনলজি কন্ট্রোল রেজিম’-এর সঙ্গে চুক্তি সই করে ভারত। এই সংস্থা দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র ও দীর্ঘসময় আকাশে উড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন সরঞ্জাম বিক্রি তত্ত্বাবধান করে।
ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় আইএআই তার হেরন টিপি’র এক্সপি সংস্করণ স্থানীয়ভাবে উৎপান ও সংযোজনের প্রস্তাব দেয়। ‘ডিনামেটিক টেকনলজিস এন্ড এলকম সিস্টেমস’র সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ওই ড্রোন তৈরির কথা বলা হয়। চুক্তিতে ভবিষ্যত অপারেশনের প্রয়োজনে সহায়তা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু ভারত যখন চুক্তি চূড়ান্ত করার পর্যায়ে এসেছে তখন প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা ইস্যুটি ‘একেবারে বাস্তব’ হয়ে দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের এক কর্মকর্তা।
অথচ ভারতের কাছে সম্ভাব্য এমকিউ-৯ বিক্রির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস অনুমোদন করেছে।
এদিকে, সম্ভাব্য বিদেশী গ্রাহকদেরকে অস্ত্রবহনে সক্ষম ড্রোন প্রদর্শনীর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইসরাইলের একটি সূত্র জানায়, প্রদর্শন থেকে শুরু করে রপ্তানি লাইসেন্সের জন্য আবেদন পর্যন্ত ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপারে ইসরাইল তার নীতি পুরোপুরি বদলে ফেলেছে। বিশেষ কিছু ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে এই নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
ইসরাইলের ‘এ্যারোনটিকস ডিফেন্স সিস্টেম’ আজারবাইজানের কাছে অস্ত্রবাহী ড্রোন বিক্রির উদ্যোগ নিলে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করে। এরপরই দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ড্রোনের কার্যকারিতা প্রদর্শনের সময় লাইভ আমেরিকান টার্গেট ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ্যারোনটিকস তা অস্বীকার করে।
আজারবাইজানের সঙ্গে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। স্থানীয়ভাবে তৈরি অরবিট-২ ও ৩ ড্রোন ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে ইসরাইলি ড্রোনের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ বেড়েছে বলে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ