ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরে সরকারি খালের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুরে মহাদেবপুর সরকারি খালের মুখে পাকা গেট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ঘের ব্যবসায়ী মাছের ঘের করে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে রেখেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ওই পাকা গেটটি অপসারণ করে আসার সাথে সাথে পুনরায় ওই ঘের মালিক বাঁশের পাটা দিয়ে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় গত ৮ অক্টোবর আদালত ওই খালের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরর হাসানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর, মোমিনপুর ও পাটকেলঘাটা থানার আড়ংপাড়াসহ ৭/৮ গ্রামের মানুষ মহাদেবপুর বিলের ১৫‘শ বিঘা জমিতে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করত। ওইসব গ্রামের পূর্ব পূরুষেরা মহাদেবপুর বিলের পানি কপোতাক্ষ নদে নিষ্কাশনের জন্যে স্বেচ্ছা শ্রমে মহাদেবপুর, রগা গ্রামের ভেতর দিয়ে ২৬৬০ মিটার লম্বা একটি খাল খনন করেন। এই খাল দিয়ে বর্ষার অতিরিক্ত পানি কপোতাক্ষ নদে নিষ্কাশন হত। এলাকাবাসীর দাবির মুখে গত ৩ বছর আগে খালটি সরকারের অর্থায়নে পুণ:খনন করা হয়। ২০১৫ সালে কেশবপুর পৌর এলাকার বায়সা গ্রামের মিনার হোসেন এলাকার প্রভাবশালীদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে ওই বিলে মাছের ঘের করেন। ঘরের বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় তিনি সরকারি রাস্তা বেঁড়ি হিসেবে ব্যবহারসহ একটি সরকারি খাল ভরাট ও অপর একটি সরকারি খালের মুখে পাকা গেট করে অবৈধভাবে এলাকার ১০০ বিঘা ৩ ফসলি উঁচু জমি ও ক্ষুদ্র মাছ চাষিদের ১৫টি টপ ঘের জবর দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সেই থেকে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে ওই ঘেরের বাইরের দেড় হাজার বিঘা জমিসহ চারপাশের শতাধিক পরিবার প্রতি বছর পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘেরের বাইরের কৃষকদের লাগানো শাক-সবজি, আউশ ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হতে থাকে। যে কারণে এলাকাবাসী গত ১১ জুন প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন। গত ১৪ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে ওই খালের পাকা গেটটি অপসারণ করেন এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে তহশীলদার কার্তিক রায় বাদি হয়ে ঘের মালিকসহ ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। যার নং- জিআর-১৩০/১৭। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এ অভিযান সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে পুনরায় ওই ঘের মালিক সরকারি খালটি পাটা দিয়ে ঘিরে জবর দখল করে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে দেয়। 

এদিকে, এর কিছুদিন পর এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘের মালিকের পক্ষে মহাদেবপুর গ্রামের মশিয়ার রহমান বাদি হয়ে ঘেরের বিরোধিতাকারী ১৫/১৬ জন কৃষকের নামে থানায় একটি মিথ্যা মামলা করেন। যে মামলায় কৃষক কামাল হোসেনকে পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। এর কিছুদিন পর ঘের মালিক মিনার হোসেন ওই খালের বগা ¯¬ুইস গেটের মুখে মাটির বস্তা ও ইট দিয়ে বন্ধ করে ওই খালেও মাছ চাষ শুরু করেন। যার করণে কপোতাক্ষ নদে পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে বগা ও মহাদেবপুর বিলের দেড় হাজার বিঘা জমির পাট, শাক-সবজি নষ্ট হয়ে যায়। এ নিয়ে ওই ঘের মালিকের সাথে এলাকাবাসীর বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়।  ফলে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় রাত্রি যাপন করতে থাকেন দুই থানার কৃষকেরা। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে কামাল হোসেন বাদি হয়ে গত ১৮ জুলাই সাতক্ষীরা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘের মালিক মিনার হোসেনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ওই দুটি খালের ওপর ১৪৪ ধারায় একটি মামলাটি করেন। যার নং- পি-১২১৫/১৭। আদালতের নির্দেশে গত ৮ অক্টোবর পাটকেলঘাটা থানার এসআই পীযূষ দাশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই খালের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের প্রতি সমন জারি করে আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য্য করেছে। 

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে বগা ও মহাদেবপুর খালটি পরিদর্শন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঘের মালিকের অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করতে ঊর্ধŸতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ঘের সংক্রান্ত সরকারিভাবে নীতিমালা করা হয়েছে। এ নীতিমালার বাইরে এখন থেকে কেউ ঘের করতে পারবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ