ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নীলফামারীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণ লুটের মামলা

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় বন্যা দুর্গতের জন্য বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ লুটের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর সোসাইটির নীলফামারী জেলা শাখার বন্ধুত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইফতেখার আহমেদ উদাস নিজে বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উলে¬খিত আসামীরা হলেন, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামূল হক চৌধুরী, ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এছাউল হক এবং ইউপি সদস্যের দুই পুত্র মুন্না ও আউয়াল। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরো ২২-২৩ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার বাদী ইফতেখার আহমেদ উদাস জানান, গত ২ অক্টোবর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের অচিনার ডাঙ্গা নামক স্থানে ওই ইউনিয়নের নির্দিষ্ট তিনশত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের উপস্থিতিতে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক ত্রাণ বিতরনে অংশ নেয়। ত্রাণ বিতরণ চলাকালে ইউপি সদস্য এছাউল হক জোরপূর্বক তালিকা বহির্ভূত পরিবারের জন্য ত্রাণ দাবী করে। এতে স্বেচ্ছাসেবকেরা অস্বীকৃতি জানালে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ সময় ওই ইউপি সদস্যের দুই পুত্র মুন্না ও আউয়ালের নেতৃত্বে ২২-২৩ জন মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ৮৩টি পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ লুট করে। তিনি জানান, আক্রমণকারীদের লাঠির আঘাতে স্বেচ্ছাসেবকের ৮ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়। আহতদের নীলফামারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়েছে। সূত্র মতে, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির বিতরণকৃত ত্রাণের মধ্যে প্রতি পরিবারের জন্য ১২৫০ টাকা মূল্যের একটি প্যাকেট ছিল। যার মধ্যে ছিল ১৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবন ও ১ কেজি সুজি। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ৭৫০ টাকা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দপুর থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অভিযান অব্যহত রয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামূল হক চৌধুরীর সাথে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ্জাহান পাশা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ