ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নেত্রকোনায় নিজ বাসায় বৃদ্ধ দম্পতি খুন

নেত্রকোনা সংবাদদাতা : নেত্রকোনা জেলা শহরের সাতপাই বাবলু স্মরণী এলাকার নিজ বাসা থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে মিহিরকান্তি বিশ্বাস (৭০) ও তার স্ত্রী তুলিকা বিশ্বাস (৫৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মিহির বিশ্বাস সদর উপজেলার কৃষ্ণ গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং তার স্ত্রী তুলিকা সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাঠ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দম্পতিদের গৃহপরিচারিকা জয়া রাণী জানান, গত বুধবার দুপুরে তিনি ওই বাসায় কাজ করে নিজ বাড়িতে চলে যান। শুক্রবার আবার বাসায় কাজ করতে এসে দেখে ঘর তালা বন্ধ। এ সময় ঘর থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বিষয়টি তার সন্দেহ হয়। তিনি আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। প্রতিবেশিরা নাগড়া এলাকায় বসবাসরত মিহিরের ছোট ভাই সমীর বিশ্বাসকে জানালে তিনি বড় ভাইয়ের বাসায় এসে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। তারা ঘরের বেডরুমের খাটের উপর ভাই মিহিরের মরদেহ এবং রান্না ঘরের মেঝেতে বৌদি তুলিকার নিথর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় তারা বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন তুলিকার ভাই হোমিও চিকিৎসক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ। তিনি জানান, ওই বাসায় শুধু তার বোন তুলিকা ও ভগ্নীপতি মিহির থাকতেন। তাদের ছেলে সুমন বিশ্বাস ও মেয়ে সুমি বিশ্বাস চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় থাকেন। দুর্গাপূজায় সুমন নেত্রকোনায় এসেছিলেন। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, দু’জনের মরদেহই পঁচতে শুরু করায় তা থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মরদেহের মুখ থেকে রক্ত ঝরা, দেহের বিভিন্নস্থানে ফুসকা ও কালশিটে দাগ পরিলক্ষিত হয়েছে। 

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এস.এম আশরাফুল আলম। পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, যে বা যারাই, যে কারণেই এই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়ে থাকুক না কেন, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ