ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

গুটিকয়েক স্বার্থবাজের জন্য দেশ ও সমগ্র জাতির বদনাম হবে কেন? অভিযোগ পাওয়া গেছে, রোহিঙ্গাদের ব্লাকমেইল করে একশ্রেণির মানুষ কোটিপতি হবার পাঁয়তারা করছে। বালুখালী, কুতুপালং, শাপলাপুর এবং ঘুণধুম সীমান্ত ও শাহপরীর দ্বীপ হয়ে নাফনদীর তীর ঘুরে এসে একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম অভিযোগ করেছে, টেকনাফ ও উখিয়ার প্রতিটা স্বর্ণের দোকান এবং বিকাশের ব্যুথে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সীমাহীন প্রতারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মগ মিলিশিয়াদের শকুনচোখ এড়িয়ে কোনওভাবে লুকিয়ে ছাপিয়ে তাদের সঙ্গে আনা সোনার গহনা ইত্যাদি একদম পানির মূল্যে এক শ্রেণির ধান্দাবাজ হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় দোকানদাররাও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ডবলের বেশি বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ খবর টিভিতেও সম্প্রচারিত হয়েছে। রোহিঙ্গারা যে স্বর্ণ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন তারা তা খুব কম মূল্যে নিয়ে নেয়। কেউ ন্যায্যমূল্য দিতে চাইলেও তার সুযোগ নেই। কথায় বলে না, ‘তারা আর মামুরা।’ অবস্থা অনেকটা এরকমই। রোহিঙ্গাদের শেষসম্বল প্রতারণা করে নেবার সঙ্গে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর লোকজন জড়িত বলে প্রকাশ।
উল্লেখ্য, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একশ্রেণির সদস্যের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে পার হয়ে আসা রোহিঙ্গা যুবতীদের ঘরের মধ্যে আটকে রেখে এবং শারীরিক নির্যাতন করে জিনিসপত্র কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের শ্লীলতাহানি করা হয় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে অবশ্য পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। নির্যাতন থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ট্রলার  থেকে নামাতে গিয়েও তাদের কাছে থাকা সমস্ত স্বর্ণালংকার কেড়ে নেয় মাঝিরা। ১০ মিনিট ট্রলারে পার করতেই নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। তবুও অসহায় মানুষগুলো জান বাঁচাতে সব দিয়ে হলেও দেশত্যাগ করে চলে আসছেন।
একেক ট্রলারে প্রায় ৫০ জন ওঠানো হয়। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন হাজার করে দশ মিনিটে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে দেড় লাখ করে টাকা। এভাবে ট্রলার প্রতি ইনকাম দেড় লাখ টাকা মাত্র ২০ মিনিটে। মিডিয়ার খবর: ‘শাহপরীর দ্বীপের মাঝিরা রাতারাতি কোটিপতি’। আরও প্রকাশ, রোহিঙ্গারা নাফনদী দিয়ে কিছুসংখ্যক গরু-মোষ নিয়ে আসছেন এপারে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের গরু-মোষপ্রতি দুই-তিন হাজার করে টাকা দিয়ে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে। অন্য কেউ ন্যায্যমূল্যে কিনতে চাইলেও পারছেন না। সিন্ডিকেট সে সুযোগ দেয় না কাউকে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আট রোহিঙ্গার পরিবারের কাছে সম্প্রতি উল্লিখিত স্বেচ্ছাসেবক টিমটি ১০০০ করে টাকা বিকাশ করে পাঠায়। কিন্তু তাদের কুতুপালং এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ীরা দেন মাত্র ৭০০ করে। বাকি ৩০০ টাকা মেরে দেন। এই হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভিন্ন এক দৃশ্যপট।
যাই হোক, আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের দেখভালের দায়িত্ব নেবার পর শৃঙ্খলা ফিরলেও সব ভোগান্তি কমেছে এমন বলা যাবে না। প্রতারকরা নানাভাবে জাল বিস্তার করবার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কোনওভাবেই দেশ ও জাতির মান-সম্মান যেন ক্ষুন্ন না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। রোহিঙ্গারা যতদিন এখানে থাকতে বাধ্য হবেন ততদিন যেন তাদের অমর্যাদা না হয়, এবিষয়টিও সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিজদেশ ও ঘর-বাড়ি থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা এখন এমনিতেই ‘মড়া’। এরপর তাদের ওপর আবার কেউ যেন খাঁড়ার কোপ না দিতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ