ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বিড়ম্বনা

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে নিধনযজ্ঞ ও সহিংসতা শুরু হয়েছে। মূলত মিয়ানমার সরকার অঘোষিতভাবে মুসলিম নিধনের নির্মম খেলায় মেতে উঠেছে। রাখাইন রাজ্যে এ ধরনের সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞ নতুন কিছু নয় বরং তা দীর্ঘকালের পরিক্রমায় চলে আসছে। কিন্তু এবারের সহিংসতার আঙ্গিকটা অতীতের চেয়ে শুধু আলাদাই নয় বরং বেশ ভয়াবহই বলতে হবে। কারণ, এবারের সহিংসতায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী একেবারে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে। তারা হত্যাযজ্ঞ ও নিধনযজ্ঞ চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছে। যা শান্তিপ্রিয় বিশ^বাসীকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ববাসী বর্মী সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ জঙ্গিদের নারকীয় তান্ডব প্রত্যক্ষ করেছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী শুধু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠার, মসজিদ, মাদরাসাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অগ্নিসংযোগ করে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছে। হাজার হাজার নারী বর্মী সেনাবাহিনী ও মগদস্যুদের কাছে সম্ভ্রম হারিয়েছে। গণধর্ষণের পর অনেককে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যাও করা হয়েছে। যা পুরো রাখাইন রাজ্যে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বর্মীবর্গিদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গা মুসলমানরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। প্রথম দিকে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বেই ছিল। কিন্তু পরে প্রবল জনমতের কারণেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। ফলে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সুষ্ঠু আবাসন ব্যবস্থার অভাবেই তাদেরকে খোলা আকাশের নীচে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে তাদেরকে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। কারণ, ত্রাণকার্যে সুসমন্বয়ের অভাবটা বেশ প্রকট। ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আর পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকেই যাচ্ছে।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতেই চায় না। তাদের দাবি রোহিঙ্গারা কোন সময় মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন না বরং তারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী। কিন্তু ইতিহাসে সে কথার সমর্থন মেলে না। মূলত ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহিঙ্গা স্বাধীন রাজ্য থাকলেও মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া এ রাজ্য দখল করার পর বৌদ্ধ আধিপত্য শুরু হয়। ফলে রোসাঙ্গ রাজসভার বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যিকরা যে রাজ্যকে রোসাং ও মুসলিম জনপদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তা বৌদ্ধ উগ্রবাদীদের নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতায় কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। ফলে রোহিঙ্গা মুসলিমরা এখন নিজ দেশেই পরবাসী, বাস্তুহারা ও অধিকারহীন এক যাযাবর জনগোষ্ঠী। যাদের রক্তে প্রতিনিয়ত রঞ্জিত হচ্ছে মুসলিম জনপদ। কোনোভাবেই থামছে না উগ্রবাদীদের জিঘাংসা।
রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যায় মিয়ানমার সরকার এবার বেশ কূটনৈতিক চাপেই পড়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমার সরকারের নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার বিষয়ে বেশ সোচ্চার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভারত, চীন ও রাশিয়া সম্পূর্ণ শ্রোতের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করেছে। কারণ, চীন ও রাশিয়ার সাথে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক সম্পর্কটা বেশ জোড়ালে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না চীন ও রাশিয়া বরং সম্প্রতি রাশিয়া মিয়ানমারের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। আর ভারত মুসলিম বিরোধীতার অতীত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহণ করেছে। কারণ, মুসলিম নিধনের ব্যাপারে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে আদর্শগত মিল রয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে চলমান সংকটে মিয়ানমার খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশটিকে নমনীয় অবস্থানই গ্রহণ করতে হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে দেশটির আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলেই মনে করে আন্তর্জাতিক বোদ্ধামহল। যার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক আচরণে।
অনেকটা আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনের ব্যাপারে কিছুটা হলেও নমনীয়তা প্রদর্শন করে আসছে। গণমাধ্যমে ফলাও করে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, মিয়ানমার বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী। মিয়ানমারের ডি কেক্টো নেতা ও গণতন্ত্রের কথিত মানস কণ্যা অং সা সু চিও জাতির উদ্দেশে ভাষণে পরোক্ষভাবে এমন ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন। ফলে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ আশান্বিত হয়েছিল যে, হয়তো রোহিঙ্গা সমস্যার একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান অচীরেই বেড়িয়ে আসবে। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি বলেই মনে হচ্ছে। মিয়ানমার সরকারের চাতুরীপূূর্ণ অবস্থান সেদিকেই ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার আশ্বাস দিয়েছে বা কাজ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে আসা এমন সব খবর সম্প্রতি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে দেশটি। মিয়ানমারের মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এসব প্রতিবেদনের তথ্য মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। ফলে রোহিঙ্গা সংকট নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউ থান্ট কিয়াওয়ের সাক্ষাৎ ও আলোচনার পর থেকে বাংলাদেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, এমনকি মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমেও ফলাও করে প্রচার হচ্ছিল, মিয়ানমার আপাতত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের সর্বসাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে যে কথার যথার্থতা মিলছে না।
মূলত ২০০৫ সাল থেকে থেমে থাকা রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর মধ্য দিয়ে গতি পেতে যাচ্ছে বলে তখন আশা প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টার তার সম্পাদকীয়তে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে একে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছিল। কিন্তু মিয়ানমার তাদের বক্তব্য অস্বীকার করে বুঝিয়ে দিলো, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন আলোচনার মধ্যে তৈরি জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তারা বারবারই বলছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার কোনো কথাই নাকি হয়নি বাংলাদেশের সঙ্গে!
মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলাদেশ থেকে ২৪১৫ বার্মিজ নাগরিককে পুনর্বাসনের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু ওই ‘রোহিঙ্গা’ নামটাতে গিয়েই যত আপত্তি তাদের। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর থেকেই এ ব্যাপারে বারবার এমন কথায় বলছেন কিয়াও। বলছেন, বৈঠকের সময় থেকেই বাংলাদেশি সচিব ও কর্মকর্তাদের ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহারের বিরোধী তিনি। যা মূল সমস্যাকে পাশ কাটানোর অপকৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিয়াও বলেন, ‘রোহিঙ্গা’ নামটার ব্যাপারে আমি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করে আমাদের সাক্ষাতের সময় বুঝিয়েছি যে, মিয়ানমারের নৃ-গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক তালিকা এবং আমাদের ঐতিহাসিক দলিল-প্রমাণ অনুসারে, ‘রোহিঙ্গা’ নামের কোনো নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী আমাদের নাগরিক কখনোই ছিল না।’ ইউ থান্ট কিয়াও সুর মেলাচ্ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের অন্যতম পরিচালক ইউ জাও হ্তায়ের সঙ্গে, যিনি ২ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুখের ওপর রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া বিষয়ক সংবাদগুলো মিথ্যা দাবি করে বলেছিলেন, যাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে তারা রোহিঙ্গা নয়। তার এই বক্তব্যে রোহিঙ্গা সমস্যায় মিয়ানমারের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ তুলেছিল তাদের এ বক্তব্যের মাধ্যমে সে কথা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠলো।
‘আমাদের দু’দেশের মধ্যে এ ধরনের কোনো সমঝোতা হয়েছে, মিয়ানমার এমন ভ্রান্ত তথ্য কখনোই মেনে নেবে না, গণমাধ্যমে তারা যা-ই ঘোষণা করুক না কেন,’ এমন কথায় বলেন ইউ জাও হতায়। তিনি আরও বলেন, ‘ওই বৈঠকে মিয়ানমার তো শুধু ২০০৫ সালে পুনর্বাসনের ব্যাপারে আলোচনা হওয়া ২৪১৫ জন মানুষের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে।’ রোহিঙ্গা-মিয়ানমার এই ২৪১৫ জনকে যে ফিরিয়ে নেয়াই হবে, এটাও নিশ্চিত না বলেও জানান ইউ জাও হ্তায়। বরং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটির ব্যবহার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে বলে তিনি অনেকটা হুমকিই দিয়েছেন বলা চলে।
আলোচিত এই ২৪১৫ জনকে ২০০৫ সালে মিয়ানমারের নাগরিক বলে সনাক্ত করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তখন তারা দেশে ফিরে যেতে রাজি হয়নি। এর ফলে তখন আটকে গিয়েছিল পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। এতদিন পর মিয়ানমার সরকার অবশেষে বলছে ওই লোকগুলোকে তারা ফেরত নেবে যদি তারা নতুন পরীক্ষায় নির্ধারিত ৪টি শর্ত পূরণ করতে পারে এবং তারপর যদি তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে যেতে আগ্রহী হয়।
মূলত রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকার ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে বলেই মনে হচেছ। আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে তারা কিছুটা নমনীয় কথা বললেও বাস্তবে তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মোটেই আন্তরিক নয়। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সেদেশ থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের চিরতরে বিতাড়িত করতে চায়। আসলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও দুর্বল অবস্থানের কারণেই মিয়ানমার সে সুযোগ নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রায় রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশের সরকারের কথায়ও সে হতাশার সুরই ফুটে উঠেছে।
এদিকে মিয়ানমার বাহিনীর হত্যা-নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ এম মাহমুদ আলী। গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর ইস্কাটনে আয়োজিত একটি গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা মিয়ানমার-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নয়। রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার। সমাধান তাদেরকেই করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। আর রোহিঙ্গা সংকট এখন আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এনিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমারকে যৌথ বাছাই প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া বলে দাবি করেছেন তিনি।
মূলত রোহিঙ্গা সমস্যার একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান সহসাই হয়ে যাচ্ছে এমনটা মনে করার কোন যৌক্তিক কারণ আপাত দেখা যাচ্ছে না বরং রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভাগ্য বিড়ম্বনা দীর্ঘ হতে দীর্ঘ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই ভাগ্য বিড়ম্বনা কখনো শেষ হবে কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকে দুর্বল অবস্থানের খোলস থেকে বেড়িয়ে এসে জোড়ালো ও শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণসহ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
বিশ্ব নেতৃব্ন্দৃকে মিয়ানমান সরকারের অযৌক্তিক অবস্থান সম্পর্কে বোঝাতে হবে এবং কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পূর্ণ মর্যাদা সহ সেদেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় রোহিঙ্গা সমস্যা তো সমাধান হবেই না বরং সরকারের দুর্বল অবস্থান ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই মিয়ানমার নতুন নতুন সমস্যা তৈরি করবে। যা সামাল দেয়া আমাদের জন্য সহজসাধ্যও হবে না। শেষ হবে না রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বিড়ম্বনারও। এমনটিই ভাবছে কূটনৈতিক মহলও।
smmjoy@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ