ঢাকা, শনিবার 14 October 2017, ২৯ আশ্বিন ১৪২8, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালীতে ডিপ্লোমা শিক্ষা

পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার। কক্সবাজার শহরের উত্তর পশ্চিম কোণায় ১২ কি.মি. দুরত্বে স্ব-মহিমায় দণ্ডায়মান মহেশখালী দ্বীপাঞ্চল। বাঁকখালী নদীর কিছু অংশ ও বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে অথবা চকরিয়া উপজেলার বদরখালী-মহেশখালী সংযোগ ব্রিজ হয়ে সড়ক পথে যেতে হয় মহেশখালী। মহেশখালী দ্বীপের আয়তন ৩৬২.১৮ বর্গ কি.মি. এবং এটি বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ। মহেশখালীর উত্তর পূর্বে চকরিয়া, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজার, দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এই উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন রয়েছে।
মহেশখালী উপজেলায় আরো ২টি ছোট দ্বীপ রয়েছে- সোনাদিয়া, মাতারবাড়ী-ধলঘাট। বর্তমান সরকার মহেশখালী দ্বীপ কে ঘিরে সামগ্রীক বহুমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে বহুমুখী প্রকল্প। গত ২৮ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীকে বাংলাদেশের প্রথম “ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী” ঘোষণা করেছে ডিজিটাল সরকার।
মহেশখালী উপজেলার উত্তর প্রান্তে জনতা বাজার নামক স্থানে মহেশখালী সেতু নির্মিত হওয়ায় মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে মহেশখালী। আর কোহেলিয়া নদীর উপর অন্য একটি সংযোগ সেতু দ্বারা মূল মহেশখালীর সাথে যুক্ত হয়েছে মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়ন। কোহেলিয়া নদীও দিন দিন নাব্যতা হারাচ্ছে। নদীতে জেগে উঠেছে চর। হয়ত একদিন নদী ভরাট হয়ে মূল ভূখণ্ডের সাথে মিশে যাবে দ্বীপটি। তাছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমে ধলঘাট ও মাতারবাড়ীর ইউনিয়নের পশ্চিমে বিরাট চর জেগে ওঠেছে যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠতে পারে, তাই দ্বীপটি ধীরে ধীরে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে এর দ্বীপ উপাধি হারাতে পারে। মাতারবাড়ীর উত্তর প্রান্তে মাতারবাড়ী উজানটিয়া প্রস্তাবিত সংযোগ ব্রীজ হয়ে গেলে মাতারবাড়ীর সাথে পেকুয়া উপজেলা তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ আরো সহজ হবে যা উন্নয়নের জন্য খুব দরকার।
মহেশখালী উপজেলার গুরুত্বের দিকে অন্যতম ইউনিয়ন মাতারবাড়ী প্রায় ১৫ বর্গ কি.মি. এই দ্বীপ ইউনিয়ন এখন শুধু মাত্র বাংলাদেশ নয় বিশ্বের বুকে ও পরিচিত। মাতারবাড়ী ইউনিয়ন দেশের সার্বিক উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে মহা উন্নয়ন যজ্ঞ। মাতারবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তে জাইকার ১৪১৪ একর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠেছে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প। উত্তর প্রান্তে ১২০০ একর জমির উপরে গড়ে ওঠেছে সিঙ্গাপুরের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প। মাতারবাড়ীর দুই পাশে প্রস্তাবিত সাবমেরিন নৌ-ঘাটি ও কোস্টগার্ড গভীর সমুদ্র বন্দর ও এল.এন.জি টার্মিনাল ঘাটির পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে। তাছাড়া সরকারের মেগা প্রকল্প (প্রস্তাবিত) কর্ণফুলী ট্যানেলের গতিপথ মাতারবাড়ী পশ্চিমের বঙ্গোপসাগরের মধ্যে দিয়ে হবে, তাই সব দিক দিয়ে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন অতি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
মাতারবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপ মহেশখালী উপজেলাকে “ডিজিটাল আয়ল্যান্ড মহেশখালী” ঘোষণার পর পর মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন রূপ নিচ্ছে। এতো কিছুর পরও দ্বীপ উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মানুষের শিক্ষার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান কারিগরি শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি ডিপ্লোমা শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনবল তৈরিতে এখনো অনেক পিছিয়ে মহেশখালী যার কারণে শিক্ষিত যুব সমাজ আজ অনেকটা পিছিয়ে। মাতারবাড়ী ইউনিয়নের তরুণ যুবককে দক্ষ জনবলে পরিণত করা আজ সময়ের দাবি।
মাতারবাড়ীতে একটি বহুমুখী ডিপ্লোমা শিক্ষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাকরলে এর মাধ্যমে প্রায় প্রত্যেক শ্রেণির মানুষ দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে ওঠবে। যার মধ্য দিয়ে মাতারবাড়ী-ধলঘাট তথা মহেশখালীর প্রযুক্তি দক্ষতা অর্জন পূর্বক দেশের সামগ্রীক উন্নয়নে স্বাক্ষর রাখতে পারবে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা মাতারবাড়ীর মানুষ ও নিজেদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর। মাতারবাড়ী ঘিরে বর্তমান সরকারের যে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে সাথে সাথে যদি মাতারবাড়ীর তরুণ যুবশক্তি ডিপ্লোমা শিক্ষার আওতায় আসে তাহলে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল দেশবাসী খুব তারাতারি ভোগ করতে পারবে। মহেশখালীর এই দ্বীপটিকে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে তার ২য় জন্মভূমি তথা ২য় টুঙ্গিপাড়া তথা আওয়ামীলীগের চারণভূমি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
এখানকার জনগণের বিশ্বাস বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার প্রিয় মানুষগুলোকে প্রযুক্তিখাতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি বিশ্বমানের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার জন্য সকল প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাহলেই বাস্তবায়িত হবে ডিজিটাল দ্বীপের ডিজিটাল প্রযুক্তির দক্ষ জনশক্তি।
এটি এই দ্বীপের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো তাদের সন্তানের জন্য সঠিক উপায় বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। এই মানুষগুলোর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়াস। আমরা মাতারবাড়ীবাসী প্রযুক্তি দক্ষ সর্বাধুনিক ডিপ্লোমা শিক্ষায় আর পিছনে পড়ে থাকতে চাই না, বর্তমান প্রযুক্তির বিশ্বে আমরাও দেশ সেবায় অবদান রাখতে চাই।
এনামুল হক সাগর, ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স,বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম জেলা।
মো. বাহা উদ্দিন বাহার, বিএসএস, এম.এস.এস (লোক প্রশাসন), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ